ইতোমধ্যে ভারত থেকে এক লাখ ১১ হাজার ৫২০ টন চাল দেশে এসে পৌঁছেছে। এবার আমন মৌসুমে মোটা চালের দাম ৫০ টাকা ছুঁয়েছে। চালের দাম দুর্ভোগে ফেলেছে সাধারণ মানুষকে। এই পরিস্থিতিতে চাল আমদানির শুল্ক কমিয়ে নিয়ন্ত্রিত মাত্রায় চাল আমদানির উদ্যোগ নেয় সরকার। বেসরকারি পর্যায়ে চালের আমদানি শুল্ক ৬২ দশমিক ৫০ শতাংশ থেকে কমিয়ে ২৫ শতাংশ নির্ধারণ করে সরকার। খাদ্য মন্ত্রণালয় বেসরকারিভাবে চাল আমদানি জন্য বৈধ আমদানিকারকদের প্রয়োজনীয় সকল কাগজপত্রসহ ১০ জানুয়ারির মধ্যে খাদ্য মন্ত্রণালয়ে আবেদন করতে বলা হয়। বিভিন্ন শর্তে বেসরকারি ৩২০টি প্রতিষ্ঠানকে সোয়া ১০ লাখ টনের মতো চাল আমদানির অনুমোদন দিয়েছে খাদ্য মন্ত্রণালয়। চাল আমদানি শুরু হলেও বাজারে চালের দামে তা খুব একটা প্রভাবে ফেলেনি। চলতি আমন মৌসুমে অভ্যন্তরীণ বাজার থেকে সাড়ে ৮ লাখ টন ধান-চাল কেনারও সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। ২৬ টাকা কেজি দরে সরাসরি কৃষকদের কাছ থেকে ২ লাখ মেট্রিক টন ধান, ৩৭ টাকা কেজি দরে ৬ লাখ টন সিদ্ধ চাল এবং ৩৬ টাকা কেজি দরে ৫০ হাজার টন আতপ চাল কেনার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়। কিন্তু আমন সংগ্রহে খুব একটা অগ্রগতি হয়নি।
মিয়ানমারের বর্তমান অবস্থার প্রেক্ষাপট বিবেচনায় চাল আমদানির প্রসঙ্গে এক প্রশ্নের জবাবে অর্থমন্ত্রী বলেন, এই প্রস্তাবটির অনুমোদন দেয়া হয়নি। মিয়ানমার সম্পর্কে আরও জানতে হবে। মূলত এই পরিবর্তন আসার আগেই আমরা মিয়ানমারের সঙ্গে একটি চুক্তি করেছিলাম। দেশটির সঙ্গে সাধারণ আমাদের সেরকম ব্যবসায়ী সম্পর্ক নেই। বিশেষ পরিস্থিতিতে পেঁয়াজ আনতে হয়েছে তাদের কাছ থেকে, যখন আমাদের কোনো উপায় থাকে না তখন তাদের কাছে যাওয়া লাগে। তারাও সেটাকে স্বাভাবিকভাবে নেয়। এবারও যখন এই প্রজেক্টটি আসে আমরা বলেছি ধীরে ধীরে এগোতে হবে। তিনি বলেন, যাদের সঙ্গে চুক্তি করেছিলাম তারা একটি অবস্থায় আছে। তাই এটি যেভাবে আছে সেভাবে রাখার জন্য বলেছি, কিছু সময় নিতে বলেছি। যদি আমরা খুব বিপদগ্রস্ত না হই তাহলেই আমরা তাদের কাছে যাই না। তবে যদি আমাদের কিনতে হয় সেক্ষেত্রে লেটার অব ক্রেডিটের মাধ্যমে কিনি। লেটার অব ক্রেডিটের শর্ত হলো, কোনো অ্যাডভান্স পেমেন্ট করার ব্যবস্থা থাকে না। ফলে চূড়ান্ত যে চুক্তি করেছি সেই লেটার অব ক্রেডিটে বর্ণিত। দ্রব্যাদি পূর্ণমাত্রায় শিপমেন্ট না হলে এবং লেটার অব ক্রেডিটের বিপরীতে শিপমেন্ট ডকুমেন্টস সাবমিট না করলে আমরা পেমেন্ট করি না। ডকুমেন্টস সাবমিট না করলে কোনো ব্যাংক টাকা পেমেন্ট করে না, ফলে আমাদের লস হওয়ার কোনো আশঙ্কা নেই।
খাদ্য মন্ত্রণালয় জানায়, ওএমএস খাতে ঢাকা মহানগরে অ, ই, ঈ ক্যাটাগরি ভিত্তিতে ১২৪টি বিক্রয়কেন্দ্রে দৈনিক ১ থেকে দেড় মেট্রিক টন আটা এবং ১ মেট্রিক টন চাল বিক্রি হয়ে আসছে। একইসঙ্গে শ্রমঘন ৪টি জেলায় (ঢাকা, নারায়ণগঞ্জ, নরসিংদী ও গাজীপুর) মোট ১৪৭টি কেন্দ্রে দৈনিক ২ মেট্রিক টন করে আটা এবং ১ মেট্রিক টন করে চাল বিক্রি হয়ে আসছে। এছাড়াও অন্যান্য বিভাগীয় ও জেলা শহরে মোট ৪৩২টি বিক্রয় কেন্দ্রে দৈনিক ১ মেট্রিক টন করে চাল এবং ১ মেট্রিক টন করে আটা বিক্রি হয়ে আসছে। এছাড়াও ইনোভেশন কার্যক্রমের আওতায় সচিবালয় প্রাঙ্গণে দৈনিক ২ মেট্রিক টন এবং মতিঝিল ও আজিমপুর এলাকায় দৈনিক কেনমষু প্রতি ১ মেট্রিক টন করে প্যাকেট আটা বিক্রি করা হচ্ছে।