মহান আল্লাহর সঙ্গে সত্যিকার সম্পর্ক মুসিবত, বিপদাপদ ও দুঃখ-দুর্দশা থেকে মুক্তির কারণ। ইসলামে সব সময় একনিষ্ঠ সম্পর্ক ও সত্যের সহযাত্রা উন্নত চরিত্রাবলির অংশ মনে করে। পবিত্র কোরআনে আল্লাহ তাআলার নির্দেশগুলোতে এবং হাদিসে আমাদের সত্যের সঙ্গে দৈনন্দিন জীবন অতিবাহিত করার প্রতি উৎসাহিত করা হয়েছে।
সত্য ও সততা নবী-রাসুল ও আল্লাহর প্রিয়তম বান্দাদের অন্যতম প্রধান বৈশিষ্ট্য। আল্লাহ ইবরাহিম (আ.) ও ইসমাঈল (আ.)-এর পরিচয় দিতে গিয়ে তাঁদের সৎ ও সত্যবাদী মানুষ হিসেবে উল্লেখ করেছেন; যা প্রমাণ করে, মানবজীবনে সত্য, সততা ও ধার্মিকতার গুরুত্ব অনেক। সততা ও বিশ্বস্ততা মহানবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের স্বতন্ত্র গুণ ও বৈশিষ্ট্য ছিল। ফলে তিনি তাঁর চরম শত্রুদের কাছেও সৎ ও বিশ্বাসযোগ্য হিসেবে মান্য ও বরিত ছিলেন। মহান আল্লাহর পক্ষ থেকে তাঁর ওপর প্রথম ওহি অবতীর্ণ হওয়ার পর যখন তিনি ঘাবড়ে যান তখন উম্মুল মুমিনিন খাদিজাতুল কুবরা (রা.) তাঁকে সান্ত্বনা দিয়ে বলেছিলেন, আপনি সৎ এবং সত্যবাদী, কোনো কিছুই আপনাকে সামান্য পরিমাণ ক্ষতিসাধন করতে পারবে না। মহানবী (সা.)-এর ওপর বিশ্বাস স্থাপনকারী প্রথম পুরুষ আবু বকর সিদ্দিক (রা.)। সর্বদা সত্য বলায় তাঁকে সবাই সিদ্দিক (অত্যন্ত সত্যবাদী) খেতাবে ভূষিত করেছিল।
সত্যবাদিতার মৌলিক সিঁড়ি হচ্ছে আল্লাহর সঙ্গে সত্যিকারের সম্পর্ক স্থাপন। আর তাঁর সঙ্গে এরূপ সম্পর্ক স্থাপন তখনই সম্ভব যখন বান্দা সর্বপ্রথম তাঁর রবের একত্ববাদে একনিষ্ঠ বিশ্বাসী হবে এবং তাঁর সঙ্গে কাউকে শরিক করবে না। প্রয়োজন পূরণে একমাত্র তাঁরই সাহায্য প্রার্থনা করবে। আল্লাহর সঙ্গে সত্যিকার ও নিরেট সম্পর্ক মুসিবত, বিপদাপদ ও দুঃখ-দুর্দশা দূর করার পাশাপাশি যে কোনো দোয়া কবুলেরও মাধ্যম হয়।