শনিবার, ১৭ জানুয়ারী ২০২৬, ০৩:২৭ পূর্বাহ্ন

মৃত্যুচিন্তা সৎপথে চলতে শেখায়

রিপোর্টারের নাম
  • প্রকাশিতঃ মঙ্গলবার, ১৮ আগস্ট, ২০২০
  • ৪৬ জন নিউজটি পড়েছেন

মৃত্যু কী? মৃত্যু হলো এই জাগতিক জীবনের পরিসমাপ্তি। মৃত্যু হলো আত্মা ও দেহের সম্পর্ক ছিন্ন করে আত্মাকে অন্যত্র স্থানান্তর করার নাম। আর আত্মার এ স্থানান্তরের সঙ্গে সঙ্গে শুরু হয় পরপারের যাত্রা। এর মধ্য দিয়েই দুনিয়ার জীবনের অবসান ঘটে। অর্থাৎ পার্থিব জীবন থেকে পরকালীন জীবনে পা বাড়ানোর মাধ্যম হলো মৃত্যু। মৃত্যুর কোনো অভিজ্ঞতা হয় না। কোনো মানুষ মৃত্যুবরণের পর ফিরে আসে না। ফিরে এসে তার অভিজ্ঞতা বর্ণনা করার কোনো সুযোগও থাকে না। মৃত্যু একবার হয়। এই জগৎ থেকে পরলোকে নিয়ে যায় মৃত্যু। মৃত্যু এক অনিবার্য সত্য। দুনিয়ার কোনো শক্তি তা আজ পর্যন্ত ফেরাতে পারেনি এবং ভবিষ্যতেও পারবে না। এটাই অনিবার্য সত্য। দুনিয়ার জীবন কেউ ধরে রাখতে পারে না। সময়কে বরণ করতেই হয়। মৃত্যু সম্পর্কে মহান আল্লাহ বলেন, ‘প্রত্যেক জীবকে মৃত্যুর স্বাদ আস্বাদন করতে হবে। অতঃপর তোমরা আমারই কাছে প্রত্যাবর্তিত হবে।’ (সুরা : আনকাবুত, আয়াত : ৫৭)

মৃত্যু কোনো অপরিচিত বস্তু নয়। প্রতিদিন মানুষ ঘুমায়। আর এই ঘুমের মধ্যে তার মৃতপ্রায় অবস্থা হয়। প্রতিদিনই মানুষ একটু একটু করে মারা যায়। একদিন চূড়ান্তভাবে, পরিপূর্ণভাবে মারা যাবে। কোরআন বলছে, ‘মৃত্যু এলে আল্লাহ প্রাণ হরণ করেন। আর যারা জীবিত, তাদেরও তিনি চেতনা হরণ করেন ওরা যখন নিদ্রিত থাকে। তারপর যার জন্য মৃত্যু অবধারিত করেছেন তিনি তার প্রাণ রেখে দেন আর অন্যজনকে এক নির্দিষ্ট সময়ের জন্য চেতনা ফিরিয়ে দেন। এর মধ্যে তো চিন্তাশীল সম্প্রদায়ের জন্য নিদর্শন রয়েছে।’ (সুরা : জুমার, আয়াত : ৪২)

নির্ধারিত সময়ে ও স্থানে মৃত্যু হবে : মৃত্যু কোনো ব্যক্তির ইচ্ছানুযায়ী তার সুবিধামতো সময় ও পছন্দনীয় স্থানে আসবে না। বরং তা আসবে আল্লাহর ইচ্ছানুযায়ী তাঁরই নির্ধারিত সময় ও স্থানে। ইরশাদ হয়েছে, ‘কোনো প্রাণীই আল্লাহর অনুমতি ছাড়া মরতে পারবে না। কেননা মৃত্যুর সময় নির্দিষ্টভাবে লিখিত আছে…।’ (সুরা : আলে ইমরান, আয়াত : ১৪৫)

অন্য আয়াতে এসেছে, ‘…কোনো প্রাণী জানে না কোথায় তার মৃত্যু হবে…।’ (সুরা : লোকমান, আয়াত : ৩৪)

অবিশ্বাসী ও বদকার মৃত্যুর ভয়াবহতা : অবিশ্বাসী ও বদকার লোকেরা সব সময় মৃত্যুকে ভয় পায়। তাদের মৃত্যুর সময় করুণ অবস্থার সৃষ্টি হবে। কোরআনে এসেছে, ‘জান কবজ করার সময় ফেরেশতারা যখন তাদের মুখে-পিঠে আঘাত হানতে থাকবে তখন তাদের কী অবস্থা হবে! তাদের এমন অবস্থা এ কারণে হবে যে তারা সেই সব পথের অনুসরণ করেছে, যা আল্লাহকে অসন্তুষ্ট করেছে আর তারা আসলেই আল্লাহকে সন্তুষ্ট করার কাজটি অপছন্দ করেছে। তাই তিনি তাদের সব কর্মকাণ্ড নিষ্ফল করে দিয়েছেন।’ (সুরা : মুহাম্মদ, আয়াত : ২৭-২৮)

বিশ্বাসী ও নেককার লোকদের মৃত্যু : মৃত্যুর সময় নেককারদের ফেরেশতারা এসে সালাম করবে। পরবর্তী জীবনের সুখ, আনন্দ ও পুরস্কারের সুসংবাদ শোনাবে। মহান আল্লাহ বলেন, ‘সেসব লোক, ফেরেশতারা যাদের পবিত্র জীবনের অধিকারী অবস্থায় ওফাত দান করতে আসে, তাদের বলে, তোমাদের প্রতি সালাম, শান্তি বর্ষিত হোক। তোমরা জান্নাতে প্রবেশ করো তোমাদের আমলের বিনিময়ে।’ (সুরা : নাহল, আয়াত : ৩২)

মুমিনরা মৃত্যুর ভয়ে ভীত নয়। তারা মৃত্যুর মাধ্যমে আল্লাহর সন্তুষ্টি লাভের আকাঙ্ক্ষা করে। ইরশাদ হয়েছে, ‘নিশ্চয় আমার নামাজ, আমার কোরবানি, আমার জীবন, আমার মরণ মহান আল্লাহর জন্য, যিনি সারা বিশ্বের রব। তাঁর কোনো শরিক নেই…।’ (সুরা : আনআম, আয়াত : ১৬২-১৬৩)

মৃত্যুচিন্তা মানুষকে সৎপথে চলতে শেখায়। দুনিয়ায় মানুষকে আল্লাহর নির্দেশিত পথে চলতে সবচেয়ে বেশি সহায়তা করে। মহান আল্লাহ আমাদের কেন দুনিয়ায় পাঠিয়েছেন, কেন আমাদের সৃষ্টি করেছেন, তা তিনি সুরা জারিয়াতের ৫৬ নম্বর আয়াতে স্পষ্টভাবে বলেছেন, ‘আমি মানুষ ও জিন জাতিকে শুধু আমার ইবাদত করার জন্য সৃষ্টি করেছি।’

তাই যারা প্রকৃত বুদ্ধিমান তারা আল্লাহর নির্দেশিত পথে জীবনকে পরিচালিত করে। শুধু দুনিয়ার সুখ-শান্তি ও ভোগ-বিলাসের পেছনে ছুটে চলে না। মহান আল্লাহ আমাদের তাঁর কৃতজ্ঞ বান্দাদের মধ্যে শামিল করুন।

নিউজটি আপনার বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুন

এই ক্যাটাগরির আর নিউজ
© All rights reserved © vira-l.com 2017-2022
themesba-lates1749691102
Bengali English