মোংলায় পারিবারিক কলহের জের ধরে নিজ মাকে কুপিয়ে হত্যা করেছে পাষন্ড ছেলে। এ ঘটনায় ছেলে ও ছেলে বউকে হাতেনাতে আটক করেছে পুলিশ।
মঙ্গলবার বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে মোংলা পোর্ট পৌর শহরের বটতলা শেখপাড়া মসজিদ সংলগ্ন এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। নিহতের লাশের ময়না তদন্তের জন্য বিকেলে বাগেরহাট সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। এঘটনায় থানায় হত্যা মামলার প্রস্তুতি চলছে বলেও জানায় পুলিশ।
পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, পৌরসভার ৭ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা ক্ষীতিশ চন্দ্র রায় তার ৩ ছেলের মধ্যে দুই ছেলে এলাকার বাহিরে থাকায় স্ত্রী এবং বড় ছেলে সুব্রত ও ছেলের বউ সুচিত্রা বিশ্বাসকে নিয়ে বসবাস করতে বটতলা শেখপাড়া এলাকায়। দীর্ঘদিন থেকেই স্ত্রী শৈবালিনী রায়ের (৫৫) সাথে তাদের পুত্র বধু সুচিত্রা বিশ্বাসের (৩০) মধ্যে পারিবারিক বিভিন্ন বিষয় নিয়ে ঝগড়া হতো।
ঘরের রান্নার কাঠখড়ী নিয়ে তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে দুজনের মধ্যে প্রচন্ড ঝগড়া হয়। এ নিয়ে মঙ্গলবার দুপুরের নিজ বাড়ীতে ঝগড়ার এক পর্যায় ছেলে সুব্রত রায় (৪২) এসে বিষয়টি শুনে মাকে জিজ্ঞেস করলে কোন উত্তর না পেয়ে ক্ষিপ্ত হয় সুব্রত। পুনরায় মাকে স্ত্রীর সাথে ঝগড়া করতে দেখে প্রচন্ড ক্ষীপ্ত হয়ে প্রথম হাতের কাছে থাকা কোঁদাল দিয়ে মায়ের মাথায় স্বজোরে আঘাত করে।
প্রথম আঘাতেই মা শৈবালীনি রায় মাটিতে লুটিয়ে পড়লে ওই অবস্থায় আবারো মাথায় আঘাত করে ছেলে সুব্রত। এতে মা রক্তাক্ত জখম হয়ে মাটিতে পরে থাকে।
এসময় তার পাশের বাড়ীর লোকজনের চিৎকারে বাড়ীর অন্যান্য লোকজন ও প্রতিবেশীরা ছুটে এসে রক্তাক্ত অচেতন অবস্থায় শৈবালীনিকে দ্রুত উদ্ধার করে মোংলা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স হাসপাতালে নিয়ে যায়। দুপুর সাড়ে ৩টার দিকে হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত বলে ঘোষণা করেন। তবে ধারনা করা হচ্ছে, হাসপাতালে নেয়ার পথিমধ্যেই তার মৃত্যু হয়। পুলিশ খবর পেয়ে দ্রুত হাসপাতালে গিয়ে ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে নিহত শৈবালীনির ছেলে সুব্রত ও পুত্রবধু সুচিত্রাকে হাতেনাতে আটক করে।
মোংলা থানার অফিসার ইনচার্জ মোঃ ইকবাল বাহার চৌধুরী বলেন, এ ঘটনার সাথে জড়িত থাকার অভিযোগে প্রথমে ছেলে সুব্রত ও ছেলের বউ সুচিত্রা বিশ্বাসকে আটক করা হয়েছে। তাদের জিজ্ঞাসা বাদ করলেই হত্যার আসল ঘটনা উদঘাটন করা সম্ভব হবে, এছাড়া মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া চলছে বলেও জানান তিনি। এদিকে মাকে হত্যার ঘটনায় অভিযুক্ত ছেলে সুব্রত রায়ের বিরুদ্ধে অসংখ্য অভিযোগ রয়েছে এলাকাবাসীরও। সুব্রত পেশায় গ্রাম্য পশু চিকিৎসক ও পিতা ক্ষীতিশ চন্দ্র রায় হোমিও চিকিৎসক। সুব্রতর স্ত্রীর সাথে তার মায়ের প্রায়ই বিরোধ লেগেই থাকতো। শ্বাশুড়ি ও বউয়ের এ বিরোধ গড়িয়েছে থানা পুলিশ পর্যন্তও। শেষমেষ মঙ্গলবার দুপুরে শ্বাশুড়ী শৈবালীনি ও পুত্রবধু সুচিত্রার মধ্যে বাড়ীতে পারিবারিক বিভিন্ন বিষয় নিয়ে ঝগড়ার হয়। সেই ঝগড়াকে কেন্দ্র করেই বউয়ের পক্ষ নিয়ে এক পর্যায় ছেলে মাটি কাটা কোদাল দিয়ে কুপিয়ে মাকে হত্যা করে। এ ঘটনায় এলাকাবাসী সুব্রত ও তার স্ত্রী সুচিত্রা দৃষ্টান্তমুলক শাস্তির দাবী জানিয়েছেন।
এব্যাপারে নিহত শৈবালিনী রায়ের স্বামী হোমিও চিকিৎসক ক্ষীতিশ চন্দ্র রায় বলেন, মঙ্গলবার দুপুরে খাবার শেষে ঘরে ঘুমিয়েছিলাম। এসময় নিহত স্ত্রী শৈবালীনি ও পুত্রবধু সুচিত্রা বিশ্বাস সামান্য একটি বিষয় নিয়ে কথা কাটাকাটি হয়। তার এক পর্যায় ছেলে সুব্রত এসে বিষয়টি মিট করার চেষ্টা করে ব্যর্থ হয়ে ক্ষিপ্ত হয়ে হাতে থাকা কোদাল দিয়ে তার মায়ের মাথায় আঘাত করে। এতে সে ওইখানেই মাটিতে লুটিয়ে পরলে ছেলে দ্রুত দৌড়ে এসে আমার কাছে তার মাকে আঘাত করার কথা শ্বিকার করে। পরে স্ত্রীকে হাসপাতালে নিয়ে গেলে ডাক্তার তাকে মৃত ঘোষনা করে। মামলার ব্যাপারে অন্য দুই ছেলে রয়েছে তারা এসেই ব্যবস্থা নেবে বলে জানায় নিহতের স্বামী ক্ষিতিশ চন্দ্র রায়।