শনিবার, ১৭ জানুয়ারী ২০২৬, ০৪:০৫ অপরাহ্ন

যারা প্রথমবার জান্নাতে যাবে না

রিপোর্টারের নাম
  • প্রকাশিতঃ শুক্রবার, ১১ সেপ্টেম্বর, ২০২০
  • ৫০ জন নিউজটি পড়েছেন

পরকালে মুক্তির জন্য ঈমান আনা অপরিহার্য। তাই কাফিররা চিরকাল জাহান্নামে থাকবে। কিন্তু এমন কিছু কাজ আছে, যেগুলো করলে মুসলমান হয়েও প্রথমবারে জান্নাতে যাওয়া যাবে না। তারা ওই গুনাহর কারণে প্রথমে জাহান্নামে শাস্তি ভোগ করবে। এরপর আল্লাহ চাইলে জান্নাতে যাবে।

ওই ধরনের কিছু গুনাহ নিম্নরূপ :

হারাম খাদ্য ভক্ষণকারী জান্নাতে যাবে না : জাবের ইবনে আবদুল্লাহ (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সা.) ইরশাদ করেছেন, ‘যে দেহ হারাম খাদ্য দ্বারা লালিত-পালিত হয়েছে, তা জান্নাতে প্রবেশ করবে না।’ (সুনানে বায়হাকি : ৫৫২০)

আত্মীয়তার সম্পর্ক ছিন্নকারী জান্নাতে যাবে না : জুবাইর ইবনে মুতইম (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সা.) ইরশাদ করেছেন, ‘আত্মীয়তার সম্পর্ক ছিন্নকারী ব্যক্তি জান্নাতে প্রবেশ করবে না।’ (বুখারি, হাদিস : ৫৫২৫)

প্রতিবেশীকে কষ্ট দানকারী জান্নাতে যাবে না : আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘যার অত্যাচার থেকে প্রতিবেশীরা নিরাপদ নয়, সে জান্নাতে প্রবেশ করবে না।’ (মুসলিম, হাদিস : ৬৬)

মা-বাবার অবাধ্য সন্তান ও দাইয়ুস নারী জান্নাতে যাবে না : রাসুলুল্লাহ (সা.) ইরশাদ করেন, ‘তিন শ্রেণির লোক জান্নাতে যাবে না—মা-বাবার অবাধ্য, দাইয়ুস (অর্থাৎ যে ব্যক্তি তার স্ত্রী-বোন প্রমুখ অধীন নারীকে বেপর্দা চলাফেরায় বাধা দেয় না) এবং পুরুষের বেশ ধারণকারী নারী।’ (মুসতাদরাক হাকেম, হাদিস : ২২৬)

অশ্লীলভাষী ও উগ্র মেজাজি জান্নাতে যাবে না : হারেছা বিন ওহাব (রা.) বর্ণনা করেন, রাসুলুল্লাহ (সা.) ইরশাদ করেছেন, ‘অশ্লীলভাষী ও উগ্র মেজাজি ব্যক্তি জান্নাতে যাবে না।’ (আবু দাউদ : ৪১৬৮)

প্রতারণাকারী শাসক জান্নাতে যাবে না : মাকাল বিন ইয়াসার (রা.) বলেন, আমি রাসুলুল্লাহ (সা.)-কে বলতে শুনেছি, ‘মুসলমানদের ওপর প্রতিনিধিত্বকারী শাসক যদি এ অবস্থায় মারা যায় যে সে তার অধীনদের ধোঁকা দিয়েছে, তাহলে আল্লাহ তাআলা তার জন্য জান্নাত হারাম করে দেবেন।’ (বুখারি, হাদিস : ৬৬১৮)

অন্যের সম্পদ আত্মসাত্কারী জান্নাতে যাবে না : আবু উমামা (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সা.) ইরশাদ করেন, ‘যে ব্যক্তি কসম করে কোনো মুসলমানের সম্পদ আত্মসাৎ করে, আল্লাহ তাআলা তার জন্য জাহান্নাম ওয়াজিব করে দেন এবং জান্নাত হারাম করেন। এক ব্যক্তি বলল, হে আল্লাহর রাসুল! যদিও সামান্য কোনো জিনিস হয়? তিনি বলেন, যদিও পিলুগাছের একটি ছোট ডাল হোক না কেন।’ (মুসলিম, হাদিস : ১৯৬)

খোটা দানকারী, অবাধ্য সন্তান ও মদ্যপ জান্নাতে যাবে না : আবদুল্লাহ বিন আমর (রা.) বলেন, নবী করিম (সা.) ইরশাদ করেন, ‘উপকার করে খোটা দানকারী, মা-বাবার অবাধ্য সন্তান, সর্বদা মদপানকারী—এই তিন শ্রেণির মানুষ জান্নাতে প্রবেশ করবে না।’ (সুনানে নাসায়ি : ৫৫৭৭)

চোগলখোর জান্নাতে যাবে না : হুজাইফা (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সা.) ইরশাদ করেন, ‘চোগলখোর জান্নাতে প্রবেশ করবে না।’ (মুসলিম, হাদিস : ১৫১)

গর্ব-অহংকারকারী জান্নাতে যাবে না : আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সা.) ইরশাদ করেন, ‘যার অন্তরে অণু পরিমাণ অহংকার রয়েছে, সে জান্নাতে প্রবেশ করবে না।’ (সহিহ মুসলিম : ১৩১)

রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর নাফরমান জান্নাতে যাবে না : আবু হুরায়রা থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সা.) ইরশাদ করেন, ‘আমার সব উম্মত জান্নাতে যাবে; কিন্তু সে ব্যক্তি নয়, যে (জান্নাতে যেতে) অস্বীকার করেছে। সাহাবিরা জিজ্ঞেস করেন, হে আল্লাহর রাসুল! কে অস্বীকার করেছে? তিনি বলেন, যে আমার আনুগত্য করে, সে জান্নাতে যাবে। আর যে আমার নাফরমানি করে, সে (জান্নাতে যেতে) অস্বীকার করেছে।’ (বুখারি : ৬৭৩৭)

অকারণে তালাক কামনাকারী নারী জান্নাতে যাবে না : সাওবান (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সা.) ইরশাদ করেন, ‘যে নারী তার স্বামীর কাছে অকারণে তালাক কামনা করে, সে জান্নাতের সুঘ্রাণও পাবে না।’ (তিরমিজি : ১১০৮)

কালো কলপ ব্যবহারকারী জান্নাতে যাবে না : আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সা.) ইরশাদ করেন, ‘শেষ যুগে কিছু লোক কবুতরের সিনার (বুক) মতো কালো কলপ ব্যবহার করবে। তারা জান্নাতের ঘ্রাণও পাবে না।’ (সুনানে নাসায়ি, হাদিস : ৪৯৮৮)

লৌকিকতা প্রদর্শনকারী জান্নাতে যাবে না : আবু হুরায়রা (রা.) সূত্রে বর্ণিত এক দীর্ঘ হাদিসে রাসুলুল্লাহ (সা.) ইরশাদ করেন, ‘কিয়ামতের দিন সর্বপ্রথম একজন শহীদকে ডাকা হবে। অতঃপর একজন কারিকে। তারপর একজন দানশীল ব্যক্তিকে হাজির করা হবে। প্রত্যেককে তার কৃতকর্ম সম্পর্কে জিজ্ঞেস করা হবে। অতঃপর শহীদকে বীর-বাহাদুর উপাধি লাভের উদ্দেশ্যে জিহাদ করার অপরাধে, কারি সাহেবকে বড় কারির উপাধি ও সুখ্যাতি লাভের জন্য কিরাত শেখার অপরাধে এবং দানশীলকে বড় দাতা উপাধি লাভের নিয়তে দান-সদকা করার অপরাধে উপুড় করে জাহান্নামে নিক্ষেপ করা হবে।’ (মুসলিম, হাদিস : ৩৫২৭)

ওয়ারিশকে বঞ্চিতকারী জান্নাতে যাবে না : রাসুলুল্লাহ (সা.) ইরশাদ করেন, ‘যে ব্যক্তি কোনো ওয়ারিশকে তার অংশ থেকে বঞ্চিত করল, আল্লাহ তাআলা তাকে জান্নাতের অংশ থেকে বঞ্চিত করবেন।’ (সুনানে ইবনে মাজাহ : ২৬৯৪)

নিউজটি আপনার বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুন

এই ক্যাটাগরির আর নিউজ
© All rights reserved © vira-l.com 2017-2022
themesba-lates1749691102
Bengali English