সোমবার, ১৯ জানুয়ারী ২০২৬, ০৭:৩৭ পূর্বাহ্ন

যুক্তরাষ্ট্রে অন্য রকম বড়দিন উদ্‌যাপন

রিপোর্টারের নাম
  • প্রকাশিতঃ শুক্রবার, ২৫ ডিসেম্বর, ২০২০
  • ৪৪ জন নিউজটি পড়েছেন

এক অন্যরকম বড়দিন এবার। করোনা মহামারিতে সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত দেশ যুক্তরাষ্ট্রের মানুষের জন্য এ এক অন্যরকম অভিজ্ঞতা।

অন্যবার থ্যাংকসগিভিং ডে থেকে শুরু করে বড়দিন পর্যন্ত এক হইহই ব্যাপার থাকে যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে। কিন্তু এবারের চিত্রটি ভিন্ন। বিশেষত থ্যাংকসগিভিং ডের ছুটিতে শত নিষেধ সত্ত্বেও মানুষের ছুটি কাটাতে দেশময় ঘুরে বেড়ানো এবং সেই সূত্রে করোনাভাইরাসের বিস্তারের কারণে বড়দিন এসেছে অনেকটাই বিমর্ষ ভাব নিয়ে। স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ ও রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ আগে থেকেই মানুষকে সংযত থাকার আহ্বান জানিয়েছেন। ফলে আগের মতো রোশনাই না থাকলেও মানুষ ঠিকই নিজেদের মতো করে বড়দিন উদ্‌যাপন করছে।

আশা করা হয়েছিল বড়দিনের আগেই করোনা টিকা প্রয়োগের মাধ্যমে পরিস্থিতি কিছুটা নিয়ন্ত্রণে আসবে। কিন্তু তা হয়নি। মার্কিন সেন্টারস ফর ডিজিজ কন্ট্রোল অ্যান্ড প্রিভেনশনের বরাত দিয়ে বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানায়, এরই মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের ১০ লাখের বেশি মানুষকে করোনা টিকা দেওয়া হয়েছে। গত ১৪ ডিসেম্বর থেকে শুরু হওয়া এই টিকা প্রদান কর্মসূচি আরও জোরদার হচ্ছে। কিন্তু করোনা বিস্তার ঠেকাতে এর দৃষ্টিগ্রাহ্য কোনো প্রভাব এখনো দেখা যায়নি। যুক্তরাষ্ট্রের সর্বত্রই করোনা সংক্রমণ বাড়ছে পাল্লা দিয়ে। যুক্তরাজ্য ও ইউরোপ থেকেও আসছে একের পর এক দুঃসংবাদ।

এই বাস্তবতায় দাঁড়িয়ে আবারও আলোচনায় উঠেছে গণ-রোগপ্রতিরোধ ব্যবস্থার (হার্ড ইমিউনিটি) প্রসঙ্গটি। নিউইয়র্ক টাইমসকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে বিষয়টি উঠলে যুক্তরাষ্ট্রের শীর্ষ সংক্রামক রোগ বিশেষজ্ঞ অ্যান্থনি ফাউসি বলেন, এই কাজটি টিকার মাধ্যমেই করতে হবে। সে ক্ষেত্রে মোট জনগোষ্ঠীর ৭০ থেকে ৯০ শতাংশ মানুষকে টিকা নিতে হবে।’

এই পরিমাণ টিকার উৎপাদন, সরবরাহ ও প্রয়োগ সময়সাপেক্ষ ব্যাপার। ফলে স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা এখনো স্বাস্থ্য সতর্কতার ওপর জোর দিচ্ছেন। তাঁরা মাস্ক পরা ও শারীরিক দূরত্ব বজায় রাখার বিষয়টির ওপর জোর দিচ্ছেন। কেউ কেউ ইউরোপের দেশগুলোর মতো করে আবার অঞ্চলভিত্তিক লকডাউন শুরুর কথাও বলছেন।

এর মধ্যে সবচেয়ে বাজে বিষয়টি উপহার দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। বড়দিনের ঠিক আগে আগে অনেক আলোচনার পর দীর্ঘ প্রতীক্ষিত দ্বিতীয় করোনা প্রণোদনা বিল কংগ্রেসে পাস হলেও তাতে সই করেননি ট্রাম্প। হঠাৎ করেই তিনি ১৮০ ডিগ্রি ঘুরে বলেছেন, প্যাকেজে প্রস্তাবিত বেকারভাতার পরিমাণ কম হয়ে গেছে। তিনি আরও বেশি দিতে চান। একই সঙ্গে তিনি সরকারি ব্যয় সম্পর্কিত বিলেও সই করেননি। লাখো মানুষকে উৎসবের আগে আর্থিক কষ্টে রেখে চলে গেছেন ছুটিতে।

এদিকে করোনা সংক্রমণ ও এ থেকে মৃত্যুর সংখ্যা ক্রমাগত বাড়ছে। রয়টার্সের দেওয়া তথ্যমতে, ২৩ ডিসেম্বর টানা দ্বিতীয় দিনের মতো যুক্তরাষ্ট্র কোভিড-১৯-এ মারা গেছে তিন সহস্রাধিক মানুষ। এরই মধ্যে দেশটিতে মোট মৃত্যুর সংখ্যা ৩ লাখ ২৬ হাজার ছাড়িয়ে গেছে। করোনার দ্বিতীয় ঢেউয়ে দেশটির সবচেয়ে বেশি আক্রান্ত অঙ্গরাজ্য হিসেবে সামনে এসেছে টেনেসি ও ক্যালিফোর্নিয়ার নাম। প্রথম ঢেউয়ে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত অঙ্গরাজ্য নিউইয়র্কের অবস্থাও খারাপের দিকে যাচ্ছে।

এ অবস্থায় যুক্তরাষ্ট্রে সব ধরনের সতর্কতা অবলম্বন করা হচ্ছে। আর এই সতর্কতার কারণেই জৌলুশ হারিয়েছে বড়দিন। আগের মতো সান্তা ক্লজকে ঘিরে শিশুদের ভিড় দেখা যায়নি এবার। বড়দিন উপলক্ষে সুসজ্জিত পথগুলোয় নেই মানুষের ভিড়। ফলে এসব সজ্জা এখন বরং বিষণ্নতার জন্ম দিচ্ছে।

নিউজটি আপনার বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুন

এই ক্যাটাগরির আর নিউজ
© All rights reserved © vira-l.com 2017-2022
themesba-lates1749691102
Bengali English