রবিবার, ১৮ জানুয়ারী ২০২৬, ১০:১৮ অপরাহ্ন

যৌবনকালের মূল্যায়ন

রিপোর্টারের নাম
  • প্রকাশিতঃ রবিবার, ২২ নভেম্বর, ২০২০
  • ৩১ জন নিউজটি পড়েছেন

মানবজীবনের সবচেয়ে উত্তম ও শ্রেষ্ঠ সময় হলো যুবকাল। জীবনকে উপলব্ধি করার, ভোগ করার, সৃজনশীলতা স্থাপন করার বা ধ্বংসশীল আচরণে মেতে উঠার এটাই সময়। জীবনের যৌবন পূর্ববর্তী অধ্যায় শিশুকাল আর যৌবনের পরবর্তী অধ্যায় বার্ধক্য। দু’টি অধ্যায়ই দুর্বলতা ও অসহায়ত্বে পূর্ণ। শারীরিক ও মানসিক অক্ষমতা মানুষকে এ দু’টি পর্যায়ে পরনির্ভর করে রাখে। তাই বলা যায়, যৌবন জীবনের প্রাণশক্তি। এ বিষয়ে ইরশাদ হয়েছে, ‘তিনিই তোমাদের সৃষ্টি করেছেন মাটি থেকে, তারপর শুক্রবিন্দু থেকে, এরপর জমাট বাঁধা রক্ত থেকে। অতঃপর তিনি তোমাদের বের করেন শিশু রূপে, তারপর তোমরা যৌবনে পদার্পণ করে থাকো, অবশেষে বার্ধক্যে উপনীত হও। তোমাদের মধ্যে কেউ কেউ এর আগেই মৃত্যুবরণ করে। এটা এ জন্য যে, তোমরা যেন তোমাদের নির্ধারিত সময়কাল পূর্ণ করতে পারো এবং তোমরা যেন অনুধাবন করতে পারো।’ (সূরা মুমিন-৬৭)
ইসলামের সূচনালগ্নে রাসূল সা:-এর যেসব সাহাবি তাঁর প্রতি ঈমান এনেছেন, জীবন বাজি রেখে তাকে সাহায্য-সহযোগিতা করেছেন তাদের বেশির ভাগই ছিলেন যুবক। ইসলামের অনেক গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব রাসূল সা: যুবকদের হাতে ন্যস্ত করেন। হজরত আবুবকর ও ওমর রা:-এর মতো বড় বড় সাহাবিদের উপস্থিতিতে মাত্র ১৮ বছর বয়সী ওসামা ইবন জায়েদ রা:-কে যুদ্ধের সেনাপতি নিয়োগ করেছিলেন। হুনাইনের যুদ্ধে যাওয়ার সময় উতবা ইবনে উসাইদ রা:-কে মাত্র ২০ বছর বয়সে রাসূল সা: মক্কার গর্ভনর নিয়োগ করেছিলেন। স্বয়ং রাসূল সা: ১৬-১৭ বছর বয়সে ‘হিলফুল ফুজুুল’ (শান্তির সঙ্ঘ) সংগঠন প্রতিষ্ঠা করে যুবকদের শিখিয়ে গেছেন কিভাবে সামাজিক কল্যাণমূলক কাজে নিজেদের সম্পৃক্ত করতে হয়। হজরত মুসা আ:-এর দাওয়াতে যুবকরাই বেশি ঈমান গ্রহণ করেছেন। আসহাবে কাহাফের সাত ব্যক্তিও ছিলেন যুবক। যারা আল্লøাহর ওপর ইমান এনেছিলেন আর আল্লøাহ তাদেরকে অত্যাচারী বাদশাহ দাকিয়ানুস থেকে রক্ষা করেছিলেন।
যৌবনকালকে গণিমতের মাল তথা মূল্যবান সম্পদ হিসেবে উল্লেখ করে তা মূল্যায়ন করতে তাগিদ দিয়ে রাসূল সা: বলেছেন, আমর ইবনু মাইমুন আল আওদি রা: বলেন, রাসূল সা: জনৈক ব্যক্তিকে উপদেশ স্বরূপ বললেন, পাঁচটি বস্তুর আগে পাঁচটি বস্তুকে গণিমত মনে করোÑ ১. তোমার বার্ধক্য আসার আগে যৌবনকে; ২. পীড়িত হওয়ার আগে সুস্বাস্থ্যকে; ৩. দারিদ্র্যতার আগে সচ্ছলতাকে; ৪. ব্যস্ততার আগে অবসরকে এবং ৫. মৃত্যু আসার আগে জীবনকে।’ (তিরমিজি, মিশকাত-৫১৭৪)। কিয়ামতের দিন বিশেষ একশ্রেণীর যুবকদেরকে আল্লøাহ তায়ালা তাঁর নিজ ছায়ার নিচে আশ্রয় দান করবেন। হজরত আবু হুরায়রা রা: থেকে বর্ণিতÑ রাসূলুল্লøাহ সা: বলেছেন, ‘আল্লøাহ সাত ব্যক্তিকে তাঁর (আরশের) ছায়ায় আশ্রয় দেবেন, যেদিন তাঁর ছায়া ব্যতীত আর কোনো ছায়া থাকবে না… তার মধ্যে ওই যুবক যার যৌবন অতিবাহিত হয় আল্লাহর ইবাদতে।’ (মুসলিম-১০৩১, বুখারি-৬৬০)।
এ হাদিস থেকে স্পষ্ট বোঝা যায়, যৌবনকালের ইবাদত আল্লাহর কাছে বেশি পছন্দনীয়। রাসূল সা: বলেন, ‘আল্লøাহ তায়ালা সেই যুবকের প্রতি বিস্মিত হন, যার যৌবনে কোনো কুপ্রবৃত্তি ও ভ্রষ্টতা নেই।’ (সিলসিলাহ সহিহাহ-২৮৪৩) একজন যুবক কিভাবে তার যৌবনকাল অতিবাহিত করেছে এ ব্যাপারে কিয়ামতের দিন জিজ্ঞাসিত হবে! মহানবী সা: বলেন, ‘কিয়ামতের দিন কোনো বান্দার পদযুগল ততক্ষণ পর্যন্ত সরবে না, যতক্ষণ পর্যন্ত না তাকে পাঁচটি জিনিস প্রসঙ্গে প্রশ্ন করা হবে… (তার মধ্যে) একটি হলো, ‘তার যৌবনকাল কোনো কাজে লাগিয়েছে।’ (সিলসিলাহ সহিহাহ-৯৪৬)
যুবকদের ব্যাপারে হাদিসে এসেছে, ‘নিঃসন্দেহে আল্লøাহ তায়ালা তাঁর সৃষ্টির মধ্যে এ সুন্দর যুবককে সবচেয়ে বেশি পছন্দ করেন, যে তার যৌবন ও সৌন্দর্যকে আল্লøাহ তায়ালার ইবাদতের মধ্যে কাটিয়ে দিয়েছে। আল্লাহ তায়ালা এ ধরনের বান্দার ওপর ফেরেশতাদের সামনে গর্ব করে ইরশাদ করেন, ‘এই হলো আমার প্রকৃত বান্দা।’ (কানজুল উম্মাল, আত-তারগিবুল আবাদি মিনাল আকওয়াল-৮, ১৫/৩৩২, ৪২০৯)
মহানবী সা: বলেছেন, ‘মুসলিম যখন বিয়ে করে, তখন সে তার অর্ধেক ঈমান পূর্ণ করে, অতএব বাকি অর্ধেকাংশে সে যেন আল্লøাহকে ভয় করে।’ (সহিহুল জামে-৬১৪৮) যুবক যেন যৌবনের তাড়নায় পাপ-পঙ্কিলতা ও অবৈধ উপায়ে যৌনক্ষুধা নিবারণের দিকে পা না বাড়ায় এ জন্য তাদের সামনে হজরত ইউসুফ আ:-এর দৃষ্টান্ত উপস্থাপন করেছেন। আল্লøাহ বলেন, ‘আর সে যে মহিলার ঘরে ছিল, সে তাকে ফুঁসলাতে লাগল এবং দরজাসমূহ বন্ধ করে দিলো। সে মহিলা বলল, শুনো! তোমাকে বলছি, এদিকে আসো, সে বললÑ আল্লøাহ রক্ষা করুন; তোমার স্বামী আমার মালিক। তিনি আমাকে সযতেœ থাকতে দিয়েছেন। নিশ্চয় সীমা লঙ্ঘনকারীরা সফল হয় না।’ (সূরা ইউসুফ-২২)।
প্রতিটি যুবকের উচিত তার যৌবনকালকে মূল্যায়ন করা। যৌবনকালকে জীবনের শ্রেষ্ঠ ও সর্বোত্তম সময় মনে করে যথাযথভাবে কাজে লাগিয়ে আল্লøাহর জন্য নিবেদিত করতে পারলে উভয় জগতে সফলতা অর্জন সম্ভব হবে। কেননা, আল্লøাহর ঘোষণাÑ ‘অবশ্যই বিশ^াসীগণ সফলকাম হয়েছে।’ (সূরা মুমিনুন-০১)

নিউজটি আপনার বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুন

এই ক্যাটাগরির আর নিউজ
© All rights reserved © vira-l.com 2017-2022
themesba-lates1749691102
Bengali English