সোমবার, ১৯ জানুয়ারী ২০২৬, ০৩:৪৭ অপরাহ্ন

রাজস্ব বোর্ডের পুরস্কার পাবে ভ্যাটদাতা ক্রেতা

রিপোর্টারের নাম
  • প্রকাশিতঃ বৃহস্পতিবার, ২৬ নভেম্বর, ২০২০
  • ৪৮ জন নিউজটি পড়েছেন

ইলেকট্রনিক ফিসক্যাল ডিভাইসের (ইএফডি) মাধ্যমে যারা ভ্যাট দেবেন, আগামী জানুয়ারি থেকে তাদের ইনভয়েস লটারি করা হবে। আর সেই লটারির মাধ্যমে কয়েকজনকে পুরস্কৃত করবে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। অভ্যন্তরীণ সম্পদ বিভাগের সিনিয়র সচিব ও জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) চেয়ারম্যান আবু হেনা মো. রহমাতুল মুনিম বলেছেন, রাজস্ব আয় বাড়লে ভ্যাটের হার কমবে।

পল্টনের ফারস হোটেল অ্যান্ড রিসোর্টে ইলেকট্রনিক ফিসকাল ডিভাইস (ইএফডি) ও সেলস ডাটা কন্ট্রোলার (এসডিসি) ব্যবহার ও উপকারিতা সম্পর্কে জানাতে শুক্রবার আয়োজিত এক সেমিনার তিনি এ মন্তব্য করেন। ঢাকা দক্ষিণের কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেট এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করে। ঢাকা দক্ষিণের কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেট কমিশনার এসএম হুমায়ুন কবীরের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে আরো উপস্থিত ছিলেন এনবিআরের সদস্য (মূসক ও নীরিক্ষা) জাকিয়া সুলতানাসহ বিভিন্ন ব্যবসায়ী প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধি।

রহমাতুল মুনিম বলেন, আমাদের এনবিআরের একটা ফর্মুলা আছে। যত রেভিনিউ (রাজস্ব) বৃদ্ধি পাবে তত আমরা রেট কমাতে পারবো। যত আয় বৃদ্ধি পাবে তত আমরা ভ্যাট কমাতে পারবো। তিনি বলেন, যাদের ইএফডি মেশিন আছে, তারা জানুয়ারি থেকে কম্ফোর্ট ফিল করবেন। ইএফডি মেশিনের মাধ্যমে একটা করে ইনভয়েস জেনারেট হয়। এই ইনভয়েসের একটা ইউনিক নম্বর থাকে। আমরা পরিকল্পনা করেছিম জানুয়ারি থেকে ইএফডি মেশিন থেকে যে ইনভয়েস পাব, সেগুলোর ওপর লটারি করবো। প্রতি মাসে ইনভয়েসগুলোর ওপর লটারি হবে। সেই লটারিতে আমরা বিভিন্ন ধরনের পুরস্কার রেখেছি। আর যারা পুরস্কার পাবে, তাদের লটারি নাম্বার গণমাধ্যমে প্রকাশ করা হবে। ফলে নিকটস্থ ভ্যাট অফিস থেকে পুরস্কারের টাকা নিতে পারবে ভোক্তারা। তাই যাদের দোকানে ইএফডি আছে, ভোক্তারা কিন্তু সেই সব দোকান খুঁজে পণ্য কিনতে শুরু করবে।

ক্রেতা ভ্যাট দিতে উদ্বুদ্ধ হবেন জানিয়ে তিনি বলেন, যখন লটারিতে নগদ অর্থ পাওয়া যাবে তখন একজন কাস্টমার ২-৩ টাকা বেশি দিয়ে ভ্যাট দেয়ার জন্য দ্বিধা করবেন না। তখন তার কাছে ভ্যাট চাপ মনে হবে না। এ কারণে লটারির টিকিট নিতে ক্রেতা ইএফডি মেশিন যেসব দোকানে আছে সেখান থেকে কেনাকাটা করবে। এর ফলে যে দোকানে ইএফডি মেশিন নেই সেই দোকানে বিক্রি কমবে।

তিনি বলেন, ভ্যাট নিয়ে ক্রেতা ও বিক্রেতাদের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া আছে। বিক্রেতাকে ভ্যাটকে বোঝা মনে করে আর ক্রেতারা ভাবেন তাদের প্রদেয় ভ্যাট সরকারের কাছে পৌঁছায় না। আমরা চাই জনগণের ভ্যাট না দেয়ার মানসিকতা দূর হোক।

এনবিআরের সদস্য (মূসক বাস্তবায়ন ও আইটি) ড. আব্দুল মান্নান শিকদার বলেন, অনেক ব্যবসায়ী অভিযোগ করেন ভোক্তা ভ্যাট দিতে চায় না। তবে আমার দীর্ঘ অভিজ্ঞতা থেকে বলতে পারি, ভোক্তারা ভ্যাট দিতে চায়। তারা বরং আমাদের কাছে বলে আমরা ভ্যাট দেই, কিন্তু চালানের কপি পায় না।

এনবিআর সদস্য জাকিয়া সুলতানা বলেন, আমরা আগস্ট থেকে ১ হাজার প্রতিষ্ঠানে ইএফডি দিয়েছি। ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ার যে প্রত্যয়, আমরা সেটার দিকে এগিয়ে যেতে চাই। ২০টি সেক্টরে ইএফডি মেশিন বসছে। সরকারের পলিসি হলো সম্ভাব্য সবগুলো খাতে ডিজিটাল প্রযুক্তির ব্যবহার নিশ্চিত করা। তাই সরকারকে রাজস্ব প্রদানে সবাইকে সহযোগিতা করতে হবে।

নিউজটি আপনার বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুন

এই ক্যাটাগরির আর নিউজ
© All rights reserved © vira-l.com 2017-2022
themesba-lates1749691102
Bengali English