পুলিশ ফাঁড়িতে রায়হান আহমদকে নির্যাতন করে হত্যার ঘটনায় প্রধান আসামি এসআই আকবরকে ৭ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন সিলেটের জেলা দায়রা জজ আদালত। গতকাল কানাইঘাটের ডনা সীমান্ত থেকে গ্রেফতারের পর মঙ্গলবার দুপুরে তাকে আদালতে তোলা হলো।
পালিয়ে থাকার ২৮ দিনের মাথায় সোমবার সিলেটের কানাইঘাটের ডনা সীমান্ত থেকে জেলা পুলিশ তাকে গ্রেফতার করে। আকবর ভারতে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছিলেন বলে জানান জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার লুৎফর রহমান।
পুলিশ সূত্র জানায়, ১০ অক্টোবর বন্দরবাজার ফাঁড়িতে তুলে নিয়ে নির্যাতন করা হয় রায়হানকে। এরপর ১১ অক্টোবর সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়ার পর চিকিৎসাধীন অবস্থায় রায়হানের মৃত্যু হয়। এ ঘটনায় ১২ অক্টোবর রাতে অজ্ঞাতনামাদের আসামি করে পুলিশি হেফাজতে মৃত্যু আইনে নগরীর কোতোয়ালি মডেল থানায় মামলা করেন রায়হানের স্ত্রী তাহমিনা আক্তার তান্নি। এরপর ১২ অক্টোবর এসআই আকবর হোসেনসহ চারজনকে বরখাস্ত ও তিনজনকে প্রত্যাহার করা হয়। বরখাস্ত হওয়ার পর থেকে আকবরকে পাওয়া যাচ্ছিল না। তিনি পলাতক ছিলেন।
ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, নিহত রায়হানের মরদেহে ১১১টি আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। এসব আঘাতের ৯৭টি ফোলা আঘাত ও ১৪টি ছিল গুরুতর জখমের চিহ্ন। এ আঘাতগুলো লাঠি দিয়েই করা হয়েছে। অসংখ্য আঘাতের কারণে হাইপোভলিউমিক শক ও নিউরোজেনিক শকে মস্তিষ্ক, হৃৎপিণ্ড, ফুসফুস, কিডনিসহ গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গগুলো কর্মক্ষমতা হারানোর কারণে রায়হানের মৃত্যু হয়েছে।