কোভিডের কারণে পরীক্ষা না নেওয়ায় মাধ্যমিক স্তরের (ষষ্ঠ থেকে দশম শ্রেণি পর্যন্ত) শিক্ষার্থীদের নতুন শিক্ষাবর্ষে রোল নম্বরের পরিবর্তে আইডি নম্বর দেওয়ার নির্দেশনা দিয়েছে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তর (মাউশি)। এ জন্য এ বছর শিক্ষার্থীদের শ্রেণি রোল নম্বর আর থাকছে না। এর পরিবর্তে শিক্ষার্থীদের আইডি নম্বর দেওয়া হবে।
পুরোনো রোল নম্বর প্রথার বিলুপ্তি হবে। শিক্ষার্থীদের মধ্যে সহযোগিতামূলক মানসিকতা তৈরির লক্ষ্য নিয়ে রোল নম্বরের পরিবর্তে আইডি নম্বর দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। আর দৈবচয়ন পদ্ধতিতে বা নামের বর্ণ ক্রমানুসারে শিক্ষার্থীদের আইডি নম্বর দেওয়া যায় বলে মন্তব্য করেছে মাউশি। এ আলোকে শিক্ষার্থীদের আইডি দেওয়ার কাজ শুরু করতে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর প্রধানদের বলা হয়েছে।
মাউশি থেকে আঞ্চলিক পরিচালক, উপপরিচালক, জেলা-উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা ও সরকারি-বেসরকারি স্কুলগুলোর প্রধানদের চিঠি পাঠিয়ে বিষয়টি জানানো হয়েছে।
মাউশির মহাপরিচালক সৈয়দ মো. গোলাম ফারুক স্বাক্ষরিত নির্দেশনায় বলা হয়, কোভিড-১৯ মহামারির কারণে শিক্ষার্থীদের সুরক্ষার জন্য ২০২১ শিক্ষাবর্ষে মাধ্যমিক পর্যায়ে প্রাতিষ্ঠানিক বার্ষিক পরীক্ষা গ্রহণ করা সম্ভব হয়নি। তবে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের নির্দেশনায় অ্যাসাইনমেন্ট ভিত্তিক মূল্যায়ন কার্যক্রম সারা দেশে সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে। এ মূল্যায়নের ভিত্তিতে শিক্ষার্থীদের রোল নম্বর দেওয়া যথাযথ হবে কি না, তা নিয়ে অভিভাবকদের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া রয়েছে।
এ ছাড়া রোল নম্বর প্রথা শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রতিযোগিতা ও প্রতিদ্বন্দ্বিতা তৈরি করে, যা শেষ পর্যন্ত গুণগত শিক্ষা অর্জনের ক্ষেত্রে অন্তরায় হয়ে দাঁড়ায়। গুণগত শিক্ষা অর্জনে প্রতিদ্বন্দ্বিতার মনোভাব নয়, বরং শিক্ষার্থীদের মধ্যে সহযোগিতামূলক মানসিকতা তৈরি করা প্রয়োজন। এ ক্ষেত্রে রোল নম্বর প্রথার পরিবর্তে আইডি নম্বর ব্যবহার অনুকূল পরিবেশ তৈরি করবে।
মাউশি বলছে, শিক্ষার্থীদের দুই পদ্ধতিতে আইডি নম্বর দেওয়া যায়। একটি দৈবচয়ন পদ্ধতিতে এবং অন্যটি শিক্ষার্থীর নামের বানানের ক্রমানুসারে (অ্যালফাবেট অর্ডার) আইডি দেওয়া যায় বলে উল্লেখ করা হয়েছে। এর আলোকে পরবর্তী কার্যক্রম গ্রহণ করতে মাঠপর্যায়ের শিক্ষা কর্মকর্তা ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো প্রধানদের কার্যক্রম নিতে বলেছে শিক্ষা অধিদপ্তর।