‘আমদের সরকারের সঙ্গে মিয়ানমার সরকারের চুক্তি হয়েছে। সুতরাং প্রক্রিয়া অব্যাহত থাকা উচিত। আমাদের ইতিহাস আছে, আগে যখন মিয়ানমারে সামরিক সরকার ছিল, ১৯৭৮ বা ১৯৯২ সাল, ওই সময়ে প্রত্যাবাসন হয়েছে। তাহলে এখন কেন হবে না? মিয়ানমারের জন্য এটি সুযোগ। যদি প্রত্যাবাসন করে তাহলে তাদের জন্য সুযোগ যে তারা অন্যদের সঙ্গে আছে। তাদের এই সুযোগ নেওয়া উচিত।’
জাতিসংঘে চীনের বিরোধিতা:
জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদে মিয়ানমারের বিরুদ্ধে কোনও ব্যবস্থা গ্রহণে আপত্তি আছে চীনের এবং সে কারণে ওই সংস্থা কোনও বিবৃতি বা পদক্ষেপ নিতে পারছে না। এ বিষয়ে জানতে চাইলে পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘চীন যা বলছে সেটি তাদের নীতি। তাদের নীতিতে আমি নাক গলাতে পারি না।’
পশ্চিমা বিশ্ব রোহিঙ্গা ইস্যুতে লিপ সার্ভিস দিচ্ছে জানিয়ে তিনি বলেন, ‘রোহিঙ্গা ইস্যুতে আমরা সবাইকে বলেছি। আমরা মিয়ানমারকে বলেছি। পৃথিবীর সব দেশকে বলেছি, জাতিসংঘকে বলেছি। সবাই আমাদের লিপ সার্ভিস দিয়েছে এবং দুর্ভাগ্যজনকভাবে যারা এগুলো নিয়ে বেশি বেশি বলেন, এর জন্য শান্তিতে নোবেল পুরস্কার পেয়েছেন। তাদেরও ব্যবসা মিয়ানমারের সঙ্গে কয়েকগুণ বেড়েছে। তারাই বলেছেন গণহত্যা হয়েছে, তারাই বলেছেন জাতিগত নিধন হয়েছে, কিন্তু তারাই ব্যবসা-বাণিজ্য ঠিকমতো করে যাচ্ছেন। যারা আজ মিয়ানমারের বিরুদ্ধে বলছেন তাদের আবার অর্থনৈতিক বিষয়গুলো চলমান আছে।’
তিনি আরও বলেন, ‘আমরা তাদের পথ ধরিনি। তবে আমরা বিশ্বাস করি যে গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া থাকা উচিত এবং সেটি আমরা বলেছি। ওনারা বলেন একদিকে, কাজ করেন অন্যদিকে। কিন্তু আমরা এরকম না। আমি যা বলি সেটাই করি।’
বাংলাদেশ কেন নিন্দা জানায়নি:
মিয়ানমারের সাম্প্রতিক ঘটনায় অনেক দেশ নিন্দা জানালেও বাংলাদেশ কেন জানায়নি জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘মিয়ানমার আমাদের প্রতিবেশী। অন্যরা নিন্দা জানিয়ে শেষ। রোহিঙ্গারা নির্যাতিত হলো এবং তারা নিন্দা জানিয়ে শেষ। তারা আমাদের ঘাড়ে এসে পড়লো। মিয়ানমার আমাদের প্রতিবেশী রাষ্ট্র। মিয়ানমারের ইতিহাসে মিলিটারি বহু বছর ধরে আছে। আমরা বলেছি গণতন্ত্রে বিশ্বাস করি এবং এটি চর্চাও করি। আমরা গণতন্ত্র অন্য দেশে বিকশিত হোক এটিতে উৎসাহ দেই এবং বলেছি মিয়ানমার যেন গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া সমুন্নত রাখে। এটি আমরা দৃঢ়ভাবে বলেছি।’
তিনি বলেন, ‘আমরা আরও বলেছি তারা প্রতিবেশী রাষ্ট্র, তাদের সঙ্গে আমাদের সম্পর্ক আছে। আমরা চাই সেখানে যেন শান্তিশৃঙ্খলা বজায় থাকে। তৃতীয়ত, রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়া যাতে চলমান থাকে সেটির কথা বলেছি।’