সংসার ভেঙ্গে বউ অথবা স্বামীকে বন্ধু বানানো এখন নতুন ট্রেন্ড। পাশ্চাত্য বিষয়টি পুরনো হলেও বাংলাদেশে-ভারতে বিশেষ করে শোবিজ তারকাদের কাছে এটি হালের ফ্যাশনে পরিণত হয়েছে। দেশের মিথিলা-তাহসান থেকে বলিউড পাড়ার আমির খান-কিরণ রাও এই বিষয়টি যেন আরো উস্কে দিয়েছেন। আর এই তালিকা ধরেই সামনে এসেছে বলিউড অভিনেতা হৃতিক রোশন ও সুজান খানের নাম।
২০১৩ সালে তারা দুজন যখন ১৩ বছরের সংসারের ইতিটানার ঘোষণা দেন। তখন বিষয়টি নিয়ে ব্যপক সমালোচনা হয়েছিল। কারণ তারা এখনকার তারকাদের মতো বন্ধু হয়ে থাকার সিদ্ধান্তে সংসার ভাঙ্গেননি। একজন আরেকজনের প্রতি পরকীয়ায় আসক্ত হওয়ার অভিযোগ তুলেছিলেন। বিষয়টি সুরাহা করতে বেশ কয়েক বছর আদালতে যেতে হয়েছেন হৃতিক-সুজানকে।
কিন্তু এখন পুরনো সেই দ্বন্দ্ব ভুলে গেছেন তারা। তবে নতুন করে বিয়ের সিদ্ধান্ত নেননি। দুই সন্তানকে সময় দিতে তারা এখন ভালো বন্ধুতে পরিণত হয়েছে। আর এই সূত্র ধরেই এবারের লকডাউনের পুরো সময় বন্ধুর বাসায় কাটিয়েছেন সুজান।
সম্প্রতি ভোগ ইন্ডিয়া তাদের দুজনকে নিয়ে একটি ‘কাভার স্টোরি’ করেছেন। যেখানে হৃতিক-সুজান খান একই বাড়িতে থাকছেন বলে তথ্য পাওয়া যায়। প্রতিবেদনে বলা হয়, বিচ্ছেদের পরও সন্তানদের সঙ্গে নিয়মিত ভারতের বাইরে বেড়াতে গেছেন তারা। আর লকডাউন তাদরে বন্ধুত্ব আরো গাঢ় করেছে।
মুম্বাইয়ের জুহুর লিংক রোডে হৃতিকদের যে বিশাল বাড়ি সেখানেই থাকছেন তারা এখন। হৃতিকের বাড়ির বারান্দা থেকে দেখা যায় আরব সাগরের একাংশ। সন্তানদের নিয়ে বাড়ির বারান্দায় সময় কাটাতে ভালোবাসেন হৃতিক। হৃতিকের বাড়ির অন্দরসজ্জা সাজিয়েছেন ভারতীয় বিখ্যাত ইন্টেরিয়র ডিজাইনার অভিনেশ শাহ। কয়েকটি বেডরুম, দুটি ড্রয়িংরুম, ডাইনিং, ড্রেসিং কাম মেকআপ রুম, লাইব্রেরি, মিটিং রুম, বারান্দা ছাড়াও হৃতিকের বাড়িতে আছে জিমনেসিয়াম আর একটা বিশাল খেলাঘর।
তারকাদের বাড়ির অন্দরসজ্জায় বিভিন্ন ভাইব থাকে। মিলেনিয়াল, মিনিমালিস্টিক, লাক্সারিয়াস, ইউরোপিয়ান আর্টফর্ম বা মডার্ন। কিন্তু হৃতিকের বাড়িতে এসব কিছু নয়, বরং প্রাধান্য পেয়েছে নিজেদের পছন্দ আর স্বাচ্ছন্দ্য। তবে বাড়ির অন্দরসজ্জা এমনভাবে করা হয়েছে, যেন কোনো দিক দিয়ে আলো বাধা না পায়।
এই বিষয়ে হৃতিক ভোগ ইন্ডিয়াকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে বলেন, ‘অন্দরসজ্জার সব নিয়ম কানুন মেনে বাড়ি হয় না। বাড়ি এমন একটা জায়গা, যেখানে আমি জুতাটা খুলে আয়েশ করতে পারি। যেখানে আমি আমি হতে পারি।’