লালমনিরহাটের বুড়িমারীতে রংপুরের শহীদুন্নবী জুয়েল নামে এক ব্যক্তিকে হত্যার পর মরদেহ পুড়িয়ে ফেলার ঘটনায় জড়িতদের গ্রেফতার এবং দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে রংপুরসহ বিভিন্ন এলাকায় নানা কর্মসূচি অব্যাহত রয়েছে।
বুধবার সন্ধ্যা ৭টা থেকে ৭টা ৫ মিনিট পর্যন্ত রংপুর নগরীর গোটা শালবন এলাকা অন্ধকারে নিমজ্জিত ছিল। এ সময় সকল বাড়ির বৈদ্যুতিক বাতি ৫ মিনিট বন্ধ রেখে বাড়ির সকল সদস্যরা ঘরের বাইরে বেরিয়ে সারিবদ্ধভাবে সড়কে দাঁড়িয়ে প্রতিবাদ জানান।
এছাড়াও আগামীকাল বৃহস্পতিবার সকাল ১০টায় শালবন মহল্লার নারী, পরুষ নির্বিশেষে সকলের অংশগ্রহণে বিক্ষোভ মিছিল বের করে স্থানীয় প্রশাসনের কাছে স্মারকলিপি পেশ করা হবে বলে জানা গেছে।আজ বৃহস্পতিবার সকাল ১০টা থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত মহল্লার সকল দোকানপাট ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠান বন্ধ রাখা হবে।সকল কর্মসূচি সফল করতে ইতিমধ্যে শালবন মহল্লার অন্তর্গত ইন্দ্রারার মোড়, শাহীপাড়া, শালবন, পূর্ব শালবন, আরসিসিআই মোড়, মিস্ত্রীপাড়া, শিয়ালুর মোড়, খেরবাড়ি ও বোতলা বৈশাখী ক্লাবসহ বিভিন্ন পাড়ায় লিফলেট বিতরণ, পোস্টারিং এবং আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। এছাড়াও মাইকে প্রচারণা চালানো হচ্ছে।
শালবন এলাকার সাবেক কমিশনার ইকবাল শহিদুল আক্তার ফিরোজ ও সমাজসেবক আব্দুর রউফ জানান, পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি জুয়েলের মৃত্যুতে তার স্ত্রী ও সন্তানরা এখন অসহায়।নগরীর শালবন বাসীর দাবী আমরা এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের দৃষ্টান্ত মূলক শাস্তি চাই।
শালবন এলাকার রসিক কাউন্সিলর নুরুন্নবী ফুলু, সমাজসেবক অ্যাডভোকেট জোবাইদুল ইসলাম বুলেট, জিলা স্কুলের প্রাক্তন শিক্ষার্থী জুয়েল ,প্রভাষক সিদ্দিক আরেফিনসহ অনেকেই জানান, বুধবার সন্ধ্যা ৭টা থেকে ৭টা ৫ মিনিট পর্যন্ত এক যোগে গোটা শালবন এলাকা অন্ধকার থাকবে। এ সময় প্রতিটি বাড়ির নারী-পুরুষ নির্বিশেষে সকলেই ঘর থেকে বেরিয়ে রাস্তায় দাঁড়িয়ে পৈশাচিক এই হত্যাকান্ডের প্রতিবাদ জানাবো।
এদিকে একই দাবিতে প্রতিদিনই রংপুরে বিভিন্ন সংগঠনসহ জিলা স্কুলের প্রাক্তন শিক্ষার্থীরা আন্দোলন অব্যাহত রেখেছেন।কারমাইকেল কলেজের প্রাক্তন ও বর্তমান শিক্ষার্থীদের উদ্যোগে গতকাল বৃহস্পতিবার বেলা ১১টায় প্রেসক্লাব চত্বরে মানববন্ধন-সমাবেশ করেছে।