শুক্রবার, ১৬ জানুয়ারী ২০২৬, ০৭:১৪ অপরাহ্ন

শবেকদর কোরআন নাজিলের রাত

অনলাইন ডেস্ক
  • প্রকাশিতঃ বৃহস্পতিবার, ৬ মে, ২০২১
  • ৫৭ জন নিউজটি পড়েছেন
যে পাঁচ কারণে কুরআন প্রত্যেকের পড়া উচিত

রমজান মাস কোরআন নাজিলের মাস। শবেকদর কোরআন নাজিলের রাত। এ রাতেই প্রথম পবিত্র মক্কা মুকাররমার হেরা পর্বতের গুহায় মহান আল্লাহ রাব্বুল আলামিনের পক্ষ থেকে ফেরেশতাদের সরদার জিবরাইল (আ.)-এর মাধ্যমে বিশ্বনবী হজরত মুহাম্মাদ (সা.)-এর প্রতি মহাগ্রন্থ আল কোরআন অবতীর্ণ হয়।

আল্লাহতায়ালা বলেন, ‘রমজান মাস! যে মাসে কোরআন নাজিল হয়েছে মানবের দিশারি রূপে ও হিদায়াতের সুস্পষ্ট নিদর্শন। (সুরা-২ বাকারা, আয়াত: ১৮৫)। মহিমান্বিত রজনি লাইলাতুল কদরের অপর নাম শবেকদর। এ রাতে অজস্র ধারায় আল্লাহর রহমত বর্ষিত হয়। মহান আল্লাহর ভাষায়, লাইলাতুল কদর হাজার মাস অপেক্ষা উত্তম। লাইলাতুল কদরের ফজিলত ও তাৎপর্য অপরিসীম। কোরআনুল কারিমে এরশাদ হয়েছে, ‘আমি একে নাজিল করেছি শবেকদরে। শবেকদর সম্পর্কে আপনি কী জানেন? শবেকদর হলো এক হাজার মাস অপেক্ষা শ্রেষ্ঠ। এতে প্রত্যেক কাজের জন্য ফেরেশতাগণ ও রুহ অবতীর্ণ হয় তাদের পালনকর্তার নির্দেশক্রমে। এটা নিরাপত্তা, যা ফজরের উদয় পর্যন্ত অব্যাহত থাকে। (সুরা আল কাদর : আয়াত ১-৫)।

মহান আল্লাহ রাব্বুল আলামিন আরও বলেন, ‘উজ্জ্বল কিতাবের শপথ! নিশ্চয় আমি তা নাজিল করেছি এক বরকতময় রাতে; নিশ্চয় আমি ছিলাম সতর্ককারী, যাতে সকল গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নির্ধারিত হয়। এ নির্দেশ আমার তরফ থেকে, নিশ্চয়ই আমিই দূত পাঠিয়ে থাকি। এ হলো আপনার প্রভুর দয়া, নিশ্চয়ই তিনি সব শোনেন ও সব জানেন। তিনি নভোম-ল-ভূম-ল ও এ উভয়ের মাঝে যা আছে সে সবের রব। যদি তোমরা নিশ্চিত বিশ্বাস করো; তিনি ছাড়া কোনো মাবুদ নেই, তিনি জীবন ও মৃত্যু দেন, তিনিই তোমাদের পরওয়ারদিগার আর তোমাদের পূর্ব পুরুষদেরও। তবু তারা সংশয়ে রঙ্গ করে। তবে অপেক্ষা করো সে দিনের, যেদিন আকাশ সুস্পষ্টভাবে ধূম্রাচ্ছন্ন হবে।’ (সুরা দুখান: আয়াত ১-১০)।

ইবনে আবি হাতেম (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন-একদা রাসূলুল্লাহ (সা) সাহাবিদের সম্মুখে বনি ইসরাইলের জনৈক চারজন লোক সম্পর্কে আলোচনা করলেন যে, তারা দীর্ঘ হায়াত লাভ করে অধিককাল যাবত ইবাদত করেছেন। এ সময়ের মধ্যে তারা একটিও নাফরমানি করেননি। রাসূলুল্লাহর (সা.) কাছ থেকে এ কথা শুনতে পেরে সাহাবায়ে কেরাম অত্যন্ত বিস্মিত হন এবং নিজেদের ব্যাপারে আফসোস করতে থাকেন। সাহাবায়ে কেরামের এ আফসোসের পরিপ্রেক্ষিতে মহান রাব্বুল আলামিন হজরত জিব্রাঈলের (আ.) মাধ্যমে রাসূলের (সা.) কাছে এমন সময় এই সুরায়ে ‘কদর’ অবতীর্ণ করেন। আর এতে কদরের রাতের ফজিলত বোঝানো হয়। (তাফসিরে মাআরিফুল কোরআন ও তাফসিরে মাজহারি)।

হাদিস শরিফে বর্ণিত আছে, শবেকদরে হজরত জিবরাইল (আ.) ফেরেশতাদের বিরাট এক দল নিয়ে পৃথিবীতে অবতরণ করেন এবং যত নারী-পুরুষ নামাজরত অথবা জিকিরে মশগুল থাকে, তাদের জন্য রহমতের দোয়া করেন। (তাফসিরে মাজহারি)। মিশকাত শরিফে উল্লেখ রয়েছে, হজরত আবু হোরায়রা (রা) থেকে বর্ণিত, রাসূল (সা) এরশাদ করেন, ‘যদি তোমরা কবরকে আলোকময় পেতে চাও তাহলে লাইলাতুল কদরে জাগ্রত থেকে ইবাদত কর। রাসূলুল্লাহ্ (সা) এরশাদ করেন, যদি কেউ ঈমানের সঙ্গে সাওয়াব লাভের খাঁটি নিয়তে লাইলাতুল কদর কিয়ামুল্লাইল বা তাহাজ্জুদে অতিবাহিত করে তবে তার পূর্ববর্তী সকল গোনাহ ক্ষমা করা হবে।’ (বুখারি, হাদিস নং : ৬৭২)।

অনেকেই মনে করেন ২৭ রমজানই লাইলাতুল কদরের রাত। আসলে এ ধারণাটি সঠিক নয়। লাইলাতুল কদরের নির্দিষ্ট কোনো তারিখ নেই। রাসূলুল্লাহ (সা.) কখনো বলেন নি যে, ২৭ রমজানের রাত কদরের রাত। তবে ২১ রমজান থেকে নিয়ে ২৯ রমজান পর্যন্ত বেজোড় যেকোনো রাতই শবেকদর হতে পারে। লাইলাতুল কদরের তারিখের ব্যাপারে নবী করীম (সা.) এরশাদ করেন, আমাকে লাইলাতুল কদর দেখানো হয়েছে, অতঃপর আমাকে তা ভুলিয়ে দেওয়া হয়েছে। অতএব তোমরা শেষ দশ রাতের বেজোড় রাতসমূহে তা খোজ করবে। (বুখারি, হাদিস নং : ৭০৯)। রাসূল (সা.) আরও বলেন, রমজানের শেষ দশ দিনে তোমরা কদরের রাত তালাশ কর। (মুসলিম, হাদিস নং : ১১৬৯)।

নিউজটি আপনার বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুন

এই ক্যাটাগরির আর নিউজ
© All rights reserved © vira-l.com 2017-2022
themesba-lates1749691102
Bengali English