রবিবার, ১৮ জানুয়ারী ২০২৬, ০৫:৫৪ অপরাহ্ন

শিশুসন্তানের মৃত্যুতে ধৈর্যধারণের পুরস্কার

রিপোর্টারের নাম
  • প্রকাশিতঃ রবিবার, ১৫ নভেম্বর, ২০২০
  • ৫০ জন নিউজটি পড়েছেন

সুখময় দাম্পত্যজীবনে পূর্ণতা আনে সন্তান-সন্ততি। সন্তান ছাড়া দাম্পত্যজীবন শুধুই শূন্যতা ও হতাশা। এই সন্তান আল্লাহ তাআলার কত বড় নিয়ামত, তা শুধু নিঃসন্তান স্বামী-স্ত্রীই উপলব্ধি করতে পারে। মায়ের দীর্ঘ ১০ মাসের মধুর কষ্ট আর বাবার স্বপ্নময় প্রতীক্ষার অবসান ঘটে সন্তান ভূমিষ্ঠের মাধ্যমে। ঘর আলোকিত করা সেই নতুন আনন্দের অনুভূতিটাই অন্য রকম। কিন্তু আল্লাহর দেওয়া পরম আদরের সন্তান যখন অল্প সময়ে আবার আল্লাহর কাছে চলে যায়, তখন মা-বাবার জন্য এই শোক সহ্য করা একটু কঠিনই বটে। তবে শোকাতুর মুমিন মা-বাবার জন্য আল্লাহ তাআলা বিশেষ সৌভাগ্যের ঘোষণা দিয়ে রেখেছেন, যা আল্লাহর পক্ষ থেকে তাদের জন্য অনেক বড় সান্ত্বনা।

আবু হাসসান (রহ.) বলেন, আমি আবু হুরায়রা (রা.)-কে বললাম, ‘আমার দুটি সন্তান মারা গেছে। আপনি কি রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর থেকে এমন একটি হাদিস বর্ণনা করবেন, যাতে আমরা অন্তরে সান্ত্বনা পেতে পারি?’ তখন আবু হুরায়রা (রা.) বলেন, হ্যাঁ, আমি নবীজি (সা.)-কে বলতে শুনেছি, ‘ছোট বয়সে মৃত্যুবরণকারী সন্তানরা জান্নাতের প্রজাপতির মতো। তাদের কেউ যখন পিতা কিংবা মাতা-পিতা উভয়ের সঙ্গে মিলিত হবে, তখন তার পরিধানের কাপড় কিংবা হাত ধরবে, যেভাবে এখন আমি তোমার কাপড়ের আঁচল ধরেছি। এরপর সেই কাপড় কিংবা হাত আর ছাড়বে না যতক্ষণ পর্যন্ত আল্লাহ তাআলা তাকে তার মা-বাবাসহ জান্নাতে প্রবেশ না করাবেন।’ (মুসলিম, হাদিস : ৬৩৭০)

অন্য একটি হাদিসে রয়েছে, মৃত্যুবরণকারী শিশুসন্তান মা-বাবার জন্য জান্নাতের দরজা খুলে দাঁড়িয়ে থাকবে।

কুররা (রা.) বলেন, রাসুলুল্লাহ (সা.) যখন বসতেন, তখন সাহাবিদের অনেকে তাঁর কাছে এসে বসতেন। তাদের মধ্যে একজন সাহাবির ছোট একটি শিশুপুত্র ছিল। তিনি তার ছেলেকে পেছনে দিক থেকে নিজের সামনে এনে বসাতেন। একদিন সে ছেলেটি মৃত্যুবরণ করল। ফলে সে সাহাবি খুব বিষণ্ন হয়ে পড়লেন। ছেলের শোকে তিনি নবীজির মজলিসে উপস্থিত হতেন না। কয়েক দিন তাকে না দেখে রাসুলুল্লাহ (সা.) জিজ্ঞাসা করলেন, ‘অমুক ব্যক্তিকে দেখছি না কেন?’ সাহাবিরা বলেন, ‘হে রাসুলুল্লাহ! আপনি তার যে ছোট ছেলেকে দেখেছিলেন সে মৃত্যুবরণ করেছে।’ পরে তার সঙ্গে সাক্ষাৎ করে রাসুলুল্লাহ (সা.) জিজ্ঞাসা করেন, ‘তোমার সে ছেলেটির কী হয়েছে?’ তিনি বলেন, ‘ছেলেটির মৃত্যু হয়েছে।’ তখন নবীজি (সা.) তাকে সান্ত্বনা দিয়ে ধৈর্য ধারণ করতে বলেন। তারপর বলেন, ‘হে অমুক! তোমার কাছে কোনটা বেশি পছন্দনীয়, তার দ্বারা তোমার পার্থিব জীবন সুখময় করা, নাকি কাল কিয়ামতে জান্নাতের যে দরজা দিয়ে তুমি প্রবেশ করতে চাইবে তাকে সেখানেই পাওয়া, যেখানে সে পৌঁছে তোমার জন্য জান্নাতের দরজা খুলে দেবে?’ তিনি বলেন, ‘হে আল্লাহর রাসুল! বরং সে আমার জান্নাতের দরজায় গিয়ে আমার জন্য দরজা খুলে দেবে; এটাই আমার কাছে অধিক পছন্দনীয়।’ তখন রাসুল (সা.) বলেন, ‘তাহলে তোমার জন্য তাই হবে।’ (নাসায়ি, হাদিস : ২০৯০)

আনাস ইবনে মালিক (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আল্লাহর রাসুল (সা.) বলেছেন, যেকোনো মুসলিম ব্যক্তির এমন তিনটি (সন্তান) মারা যাবে, যারা প্রাপ্তবয়স্ক হয়নি, আল্লাহ তাদের প্রতি বিশেষ রহমতে তাদের মা-বাবাকে জান্নাতে প্রবেশ করাবেন। (বুখারি, হাদিস : ১৩৮১)

আল্লাহ সন্তানহারা মা-বাবাদের ধৈর্য ধারণ করার মাধ্যমে জান্নাতের বিশেষ পুরস্কারের অধিকারী হওয়ার তাওফিক দান করুন।

নিউজটি আপনার বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুন

এই ক্যাটাগরির আর নিউজ
© All rights reserved © vira-l.com 2017-2022
themesba-lates1749691102
Bengali English