কক্সবাজারের রামু রশিদ নগর এলাকার সাত বছরের এক মেয়ে শিশু শিক্ষার্থীকে যৌন নিপীড়নের দায়ে মো. ইসলাম নামের এক মাদরাসা শিক্ষককে সশ্রম যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই আদেশে এক লাখ টাকা অর্থদণ্ডও করা হয়েছে। অনাদায়ে আরও এক বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দেয়া হয়।
সোমবার (৭ ডিসেম্বর) দুপুরে কক্সবাজার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-২ এর বিচারক জেবুন্নাহার আয়েশা এ আদেশ দেন। যাবজ্জীবন কারাদণ্ডপ্রাপ্ত মোহাম্মদ ইসলাম চকরিয়া উপজেলার করাইয়া ঘোনা এলাকার মৃত আলী হোসেনের ছেলে।
আদালত সূত্রে যায়, ২০১৭ সালের ২৮ জানুয়ারি রামু উপজেলার রশিদ নগরে এ ঘটনা ঘটে। মসজিদে ঝাড়ু দেয়ার কথা বলে শিশু শিক্ষার্থীকে মসজিদের ভেতরে নিয়ে গিয়ে যৌন নিপীড়ন করে মাদরাসা শিক্ষক মোহাম্মদ ইসলাম।
এ ঘটনায় অভিযুক্ত শিক্ষককের বিরুদ্ধে একইদিন রামু থানায় বাদী হয়ে সংশ্লিষ্ট আইনে মামলা দায়ের করেন শিশুটির পিতা। পরে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ২০১৭সালের ২৮ এপ্রিল আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন।
কক্সবাজার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-২ এর স্পেশাল পাবলিক প্রসিকিউর সৈয়দ মোহাম্মদ রেজাউর রহমান জানান, এ মামলায় ১২জন সাক্ষীর সাক্ষ্য গ্রহণে যৌন নিপীড়নের অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণ করতে সক্ষম হয় রাষ্ট্রপক্ষ।
যার প্রেক্ষিতে অভিযুক্তকে সশ্রম যাবজ্জীবন কারাদণ্ড প্রদান করে বিজ্ঞ আদালত। পাশাপাশি ক্ষতিপূরণ হিসেবে এক লাখ টাকা অর্থদণ্ড, অনাদায়ে আরও এক বছর সশ্রম কারাদণ্ডের আদেশ দেন আদালত। আদেশ প্রাপ্তির ৩০দিনের মধ্যে অর্থ আদায় করা না হলে সমপরিমাণ স্থাবর ও অস্থাবর সম্পত্তি ক্রোক ও বাজেয়াপ্ত করতে জেলা কালেক্টরকে (ডিসি) নির্দেশ দেয়া হয়েছে।
এ রায়ে রাষ্ট্রপক্ষ ও মামলার বাদী উভয়ে সন্তোষ্ট বলে জানিয়েছেন নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-২ এর স্পেশাল পাবলিক প্রসিকিউটর সৈয়দ মোহাম্মদ রেজাউর রহমান।