সোমবার, ১৯ জানুয়ারী ২০২৬, ০১:২৭ পূর্বাহ্ন

শীতকালে করোনা সংক্রমণ কি বাড়বে?

রিপোর্টারের নাম
  • প্রকাশিতঃ শনিবার, ১২ ডিসেম্বর, ২০২০
  • ৪৫ জন নিউজটি পড়েছেন

কভিড-১৯-এর সংক্রমণ প্রথম শুরু হয়েছিল চীনের উহানে গত বছরের ডিসেম্বর মাসে অর্থাৎ শীতকালে। এরপর শীতপ্রধান দেশগুলোয় দ্রুত ছড়িয়ে পড়েছিল এই রোগ। ফলে অনেকেই আশঙ্কা করছে চলতি শীতেও এই রোগটির প্রাদুর্ভাব বেড়ে যেতে পারে। তবে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার পক্ষে বলা হয়েছে, শীতকালে করোনাভাইরাস সংক্রমণের প্রকোপ বাড়বে বা কমবে—এমন কোনো প্রমাণ এখনো মেলেনি।

তবুও বেড়েছে সংক্রমণ
এটা ঠিক যে বিশ্বজুড়ে এই শীতে করোনা পরিস্থিতির কিছুটা অবনতি হয়েছে। আমেরিকাসহ ইউরোপের বিভিন্ন দেশ এমনকি বাংলাদেশের পার্শ্ববর্তী দেশ ভারতেও করোনা সংক্রমণ এরই মধ্যে বেড়েছে। গত কিছুদিন থেকে কভিড আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা ও মৃত্যুর হার—দুটিই বেড়েছে বাংলাদেশেও।

যেসব কারণকে দায়ী করা হচ্ছে
শীতে করোনা সংক্রমণ নিয়ে গবেষণা চলছে বিশ্বজুড়ে। এ বিষয়ে প্রমাণিত গবেষণা তথ্য না থাকলেও যেসব কারণে শীতে করোনা সংক্রমণ বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হয় তা হলো :

শীতে কিছু ভাইরাস অতি সক্রিয় হয় : লন্ডনের এডিনবার্গ বিশ্ববিদ্যালয়ের সংক্রামক রোগ গবেষণা কেন্দ্র পরিচালিত সমীক্ষা বলছে, তিন ধরনের ভাইরাস বা যেকোনো জীবাণু ডিসেম্বর থেকে এপ্রিলের মধ্যে (শীতের সময়) বেশি সক্রিয় থাকে। তাই সন্দেহ করা হয়, শীতের সময় করোনা সংক্রমণও বেশি ঘটতে পারে।

স্পাইক প্রোটিন ধ্বংস হতে সময় লাগা : করোনাভাইরাসের বাইরের গায়ে বা আবরণে কাঁটার মতো প্রোটিনের একটি আস্তরণ থাকে। এটা দেখতে অনেকটা মুকুটের মতো। এই গ্লাইকোপ্রোটিনই হলো করোনার স্পাইক প্রোটিন। মানবদেহে প্রবেশ করার পর এই স্পাইক প্রোটিনই সরাসরি দেহকোষে ঢুকে যায়। এরপর সেখানে নিজের জিনের উপাদানগুলো ছড়িয়ে দিয়ে একাধিক ভাইরাস তৈরি করে। আশঙ্কা করা হচ্ছে, শীতের সময় রোদের উত্তাপ কম থাকে বলে এই স্পাইক প্রোটিন ধ্বংস হতে কিছুটা বেশি সময় লাগে। ভাইরাসের চক্রবৃদ্ধির কারণে হয়তো তখন করোনা সংক্রমণ বেশি ছড়াতে পারে।

ড্রপলেট দ্রুত না শুকানো : শীতকালে বাতাসে জলীয় বাষ্প কম থাকায় হাঁচি-কাশির ড্রপলেটগুলো তাড়াতাড়ি শুকিয়ে যেতে পারে। আর্দ্রতা বা ঠাণ্ডা আবহাওয়ায় বাতাসে স্যাঁতসেঁতে ভাব থাকতে পারে। এতে ড্রপলেটের মধ্যে থাকা ভাইরাসের আয়ু বেড়ে যায়। আর ভাইরাস যত বেশি বেঁচে থাকে, সংক্রমণের আশঙ্কা থাকে ততই।

ক্লোজ কন্টাক্ট বেড়ে যাওয়া : অন্যান্য সময়ের চেয়ে শীতকালে মানুষ একে অন্যের বেশ কাছাকাছি থাকে। এ ক্ষেত্রে শারীরিক দূরত্বে থাকার বিষয়টি তেমনভাবে মানা হয় না। অন্যদিকে শীতকালে অনেক ধরনের ভাইরাসের কারণে ঠাণ্ডা, সর্দি-কাশি হয়ে থাকে। এর মধ্যে রাইনোভাইরাস বেশি কমন। করোনাভাইরাসের মতো এই ভাইরাস নাক, মুখ ও চোখ দিয়ে দেহে প্রবেশ করে। এই ভাইরাসে আক্রান্তরা যখন কথা বলে, হাঁচি দেয় বা কাশি দেয়, তখন বাতাসের কণার মাধ্যমে এগুলো ছড়িয়ে থাকে। এ ছাড়া আক্রান্ত ব্যক্তির ব্যবহৃত জিনিসপত্র ব্যবহার করলেও অন্য কেউ আক্রান্ত হতে পারে।

অপর্যাপ্ত ভিটামিন ‘ডি’ : শীতের সময় রোদের তীব্রতা এমনিতেই কম থাকে। ফলে শরীরে ভিটামিন ‘ডি’-এর জোগান কমে যায়। মানুষ ভিটামিন ‘ডি’ স্বল্পতায় ভোগে। এতে কমে যায় রোগ প্রতিরোধক্ষমতা, বেড়ে যায় নানা রোগব্যাধি। আর করোনাভাইরাস ঠেকানোর মোক্ষম উপায় হলো, রোগ প্রতিরোধক্ষমতা বেশি থাকা।

আবদ্ধ থাকা : শীতকালে ঠাণ্ডা আটকাতে দরজা-জানালা সব বন্ধ করে রাখার একটা প্রবণতা থাকে। সেটা বাড়িতে যেমন, গণপরিবহনেও তেমন। তাই এই বদ্ধ অবস্থায় একসঙ্গে অনেক মানুষ থাকলে সংক্রমণ ছড়ানোর আশঙ্কা বেশি থাকে।

বাতাসে অতিরিক্ত ধূলিকণা : শীতকালে কিছু রোগের প্রকোপ বেড়ে যায়। বিশেষ করে বাতাসে অতিরিক্ত ধূলিকণা থাকায় সর্দি, হাঁচি-কাশির প্রকোপ বাড়ে। এতে উপসর্গহীন কভিড রোগীদের মাধ্যমে করোনাভাইরাসের সংক্রমণ বেশি ঘটতে পারে।

তাহলে করণীয় কী?
বিশ্বে করোনাভাইরাস প্রতিরোধে টিকার যাত্রা এরই মধ্যে শুরু হয়েছে। শিগগিরই হয়তো আমাদের দেশেও চলে আসবে। তবে শীতকাল হোক বা গ্রীষ্মকাল—করোনা প্রতিরোধের সাধারণ নিয়ম-কানুন সবাইকে মানতেই হবে। শুধু ভাইরাস সংক্রমণ নয়, শীতকালে বিভিন্ন রোগবালাইয়ের ঝুঁকি কমাতে আরো কিছু পদক্ষেপ নেওয়া যেতে পারে। যেমন :

♦ বাইরে গেলে অবশ্যই মাস্ক ব্যবহার করুন।

♦ সাবান বা স্যানিটাইজার দিয়ে (প্রয়োজনে গরম পানিতে) বারবার হাত ধুয়ে নিন। হাত না ধুয়ে চোখ, নাক এবং মুখ স্পর্শ করা পুরোপুরি এড়িয়ে চলুন।

♦ যাঁরা অসুস্থ তাঁদের থেকে অন্তত তিন ফুট দূরে থাকুন। পরিবারে থাকা বৃদ্ধ মানুষদের থেকে শিশুদের যথাসম্ভব দূরে রাখুন। বৃদ্ধদের বা যাঁদের হাঁচি-কাশি আছে, তাঁরা বাসায় মাস্ক ব্যবহার করুন।

♦ কাশি বা হাঁচির উদ্রেক হলে আশপাশের মানুষ থেকে দূরে গিয়ে কাশি বা হাঁচি দিন।

♦ প্রচুর পানি পান করুন। দিনে কমপক্ষে আট থেকে ১০ গ্লাস। এই সময় শরীরকে হাইড্রেট রাখা খুবই গুরুত্বপূর্ণ।

♦ গরমের সময় কর্মক্ষেত্র থেকে বাসায় ফিরে অনেকে গোসল করে। সমস্যা মনে না করলে এখনো গরম পানি ব্যবহার করে গোসল করা যেতে পারে।

♦ স্যাঁতসেঁতে পরিবেশে বসবাস নয়। ঘরের দরজা-জানালা খুলে দিন। আবার বিকেল হওয়ার আগে বন্ধ করে দিন।

♦ গণপরিবহনে চলার সময় করোনা সতর্কতা মেনে চলুন।

♦ সম্ভব হলে পরিবারের সবাইকে নিয়ে প্রতিদিন বাসার ছাদ বা খোলা স্থানে কিছুটা সময় রোদে কাটান। সুর্যরশ্মি থেকে যে ভিটামিন মেলে তা দেহের রোগ প্রতিরোধক্ষমতা বাড়ায়।

♦ শ্বাসকষ্ট এবং হৃদরোগের ঝুঁকি বাড়ায় ধূমপান। তাই ধূমপান এবং অ্যালকোহল থেকে দূরে থাকুন।

♦ প্রচুর পরিমাণ ভিটামিন ‘সি’, ফলমূল ও শাক-সবজি খান। তৈলাক্ত খাদ্য থেকে দূরে থেকে সালাদজাতীয় খাবার বেশি খান। এসব স্বাস্থ্যকর খাবার রোগ প্রতিরোধক্ষমতা শক্তিশালী রাখতে সহায়তা করবে।

♦ Centers for Disease Control and Prevention (CDC)-এর মতে, ছয় মাস বা তার বেশি বয়সী সবাইকে বার্ষিক ফ্লুর ভ্যাকসিন দেওয়া উচিত। প্রতিবছর সিজনাল ফ্লু ভ্যাকসিন সেই বছরের ইনফ্লুয়েঞ্জা ভাইরাসের সাধারণ তিন থেকে চার ধরনের স্ট্রেইনের বিরুদ্ধে সুরক্ষা দিয়ে থাকে।

নিউজটি আপনার বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুন

এই ক্যাটাগরির আর নিউজ
© All rights reserved © vira-l.com 2017-2022
themesba-lates1749691102
Bengali English