শনিবার, ১৭ জানুয়ারী ২০২৬, ০৬:০২ অপরাহ্ন

শীতে করোনা পরিস্থিতি আরো খারাপ হতে পারে

রিপোর্টারের নাম
  • প্রকাশিতঃ সোমবার, ২১ সেপ্টেম্বর, ২০২০
  • ৩৪ জন নিউজটি পড়েছেন

আসছে শীতে করোনা ভাইরাসের প্রকোপ যদি আবার বাড়ে, তা মোকাবিলায় এখন থেকেই সবাইকে প্রস্তুত থাকার আহ্বান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, ‘করোনা ভাইরাস মোকাবিলায় সবাই আন্তরিকতার সঙ্গে কাজ করছে। সেজন্য হয়তো আমরা এটা মোকাবিলা করতে সক্ষম হয়েছি। তবে সামনে শীত, আরেকটু খারাপের দিকে যেতে পারে। তবু আমাদের এখন থেকে প্রস্তুত থাকতে হবে। আমাদের এই মুহূর্ত থেকেই তা মোকাবিলার জন্য প্রস্তুতি নিতে হবে।’

গতকাল রবিবার প্রধানমন্ত্রীর ত্রাণ ও কল্যাণ ফান্ডে দেওয়া ৩৪টি বাণিজ্যিক ব্যাংকসহ বিভিন্ন সংগঠনের অনুদান গ্রহণকালে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন। গণভবন থেকে এক ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রী এই অনুষ্ঠানে যোগ দেন। প্রধানমন্ত্রীর পক্ষ থেকে তার মুখ্য সচিব ড. আহমদ কায়কাউস প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে (পিএমও) এই অনুদানের চেক গ্রহণ করেন।

এই অনুদান সাধারণ মানুষের কাজে লাগবে জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী ভার্চুয়াল অনুষ্ঠানে উপস্থিত বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিদের বলেন, ‘এটা ঠিক যে এই করোনা ভাইরাসের কারণেই (সরাসরি উপস্থিত থেকে) দেখা হচ্ছে না। তবু বিকল্প ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। আপনারা যে কষ্ট করে এসেছেন আমার অফিসে, সেজন্য আপনাদের সবাইকে আন্তরিক ধন্যবাদ জানাই। সবাই সুস্থ থাকুক এটাই আমরা চাই। দোয়া করেন, দেশটা যাতে এই করোনা ভাইরাস মহামারি থেকে মুক্তি পায়। সারা বিশ্বই যাতে মুক্তি পায়। মানুষের সত্যিই খুব কষ্ট হচ্ছে এই করোনা ভাইরাসের কারণে।’

বাংলাদেশের ব্যাংকগুলো যেন ভালোভাবে পরিচালিত হয়, সেদিকে বিশেষ দৃষ্টি দিতে অনুষ্ঠানে উপস্থিত বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব ব্যাংকস (বিএবি) প্রতিনিধিদের নির্দেশনা দেন প্রধানমন্ত্রী। ব্যাংকের মালিকদের বিভিন্ন দাবি সরকার ‘অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে’ বিবেচনা করে জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, কিছু কিছু ব্যাংক আছে অতি দুর্বল হয়ে যায়। সে ক্ষেত্রে অনেক সময় মার্জ করাতে হয়। অবিবেচনা করে কিছু করা হবে না এইটুকু ভরসা রাখবেন। যে কোনো দুর্যোগ-দুর্বিপাকে বিএবির সদস্যরা এগিয়ে আসায় তাদের ধন্যবাদ জানিয়ে শেখ হাসিনা বলেন, ‘প্রাইভেটে ব্যাংকটা দেওয়ার সিদ্ধান্ত আমরাই নিয়েছিলাম। আমরা দিয়েছি সব থেকে বেশি। গ্রাম পর্যায় পর্যন্ত মানুষ যাতে ব্যাংকিংয়ে অভ্যস্ত হয়, তার ব্যবস্থাও আমরা নিয়েছি। এমনকি কৃষকদের ১০ টাকায় ব্যাংক অ্যাকাউন্ট খোলার ব্যবস্থাও করে দিয়েছি।’ তিনি বলেন, ‘আমি মনে করি, সব থেকে বড় কথা আমরা যত বড় প্রাইভেট ব্যাংক দিয়েছি, ব্যাপক হারে কর্মস্থান হয়েছে, অনেক মানুষের চাকরি হয়েছে। আর আমাদের ব্যবসা-বাণিজ্যও সম্প্রসারিত হয়েছে। সেখানে ব্যাংকগুলো যাতে ভালোভাবে চলে আমরা সেটাও চাই।’

কোভিড-১৯-এর অভিঘাত থেকে দেশের অর্থনীতিকে মুক্ত রাখতে প্রণোদনা প্যাকেজ ঘোষণাসহ সরকারের আন্তরিক প্রচেষ্টার কথা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা দেশের ব্যবসা-বাণিজ্য ও অর্থনীতিকে সচল রাখতে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করেছি। আমরা প্রণোদনা প্যাকেজ ঘোষণা করেছি এবং যেখানে যা প্রয়োজন তা-ই দিয়েছি। কারণ জনগণের সেবা করাই আমাদের প্রধান লক্ষ্য।’

বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব ব্যাংকস (বিএবি)-এর নেতৃত্বে ৩৪টি বাণিজ্যিক ব্যাংক অনুষ্ঠানে ১৬৪ কোটি টাকা, বাংলাদেশ স্থপতি ইনস্টিটিউট ১০ লাখ টাকা, মিনিস্টার গ্রুপ ২৫ লাখ টাকা, খাদ্য মন্ত্রণালয় ৬০ লাখ টাকা, জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয় ১০ লাখ টাকা, বাংলাদেশ বিচার বিভাগীয় কর্মচারী অ্যাসোসিয়েশন ৪০ লাখ টাকা প্রধানমন্ত্রীর ত্রাণ ও কল্যাণ তহবিলে অনুদান দিয়েছে বলে সরকারপ্রধানের দপ্তর থেকে জানানো হয়।

অনুদান দেওয়া ব্যাংকগুলোর মধ্যে রয়েছে—এবি ব্যাংক লিমিটেড, আল-আরাফাহ ইসলামী ব্যাংক লিমিটেড, ব্যাংক এশিয়া লিমিটেড, ব্র্যাক ব্যাংক লিমিটেড, সিটি ব্যাংক লিমিটেড, ঢাকা ব্যাংক লিমিটেড, ইস্টার্ন ব্যাংক লিমিটেড, এক্সিম ব্যাংক লিমিটেড, ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংক লিমিটেড, ইসলামী ব্যাংক (বিডি) লিমিটেড, যমুনা ব্যাংক লিমিটেড, মার্কেন্টাইল ব্যাংক লিমিটেড, মিডল্যান্ড ব্যাংক লিমিটেড, মধুমতি ব্যাংক লিমিটেড, মিউচুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংক লিমিটেড, ন্যাশনাল ব্যাংক লিমিটেড, এনসিসি ব্যাংক লিমিটেড, এনআরবি ব্যাংক লিমিটেড, এনআরবি বাণিজ্যিক ব্যাংক লিমিটেড, এনআরবি গ্লোবাল ব্যাংক লিমিটেড, ওয়ান ব্যাংক লিমিটেড, পদ্মা ব্যাংক লিমিটেড, প্রাইম ব্যাংক লিমিটেড, পূবালী ব্যাংক লিমিটেড, এসবিএসি ব্যাংক লিমিটেড, শাহজালাল ইসলামী ব্যাংক লিমিটেড, সাউথইস্ট ব্যাংক লিমিটেড, স্ট্যান্ডার্ড ব্যাংক লিমিটেড, ট্রাস্ট ব্যাংক লিমিটেড, ইউনিয়ন ব্যাংক লিমিটেড, ইউনাইটেড কমার্শিয়াল ব্যাংক লিমিটেড ও উত্তরা ব্যাংক লিমিটেড। আরো ছয়টি সংস্থা যেমন—খাদ্য মন্ত্রণালয়, ফোসা (ফরেন অফিসার্স স্পাউস অ্যাসোসিয়েশন), রাজশাহী মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়, ইনস্টিটিউট অব আর্কিটেক্টস বাংলাদেশ (আইএবি), বাংলাদেশ জুডিশিয়াল এমপ্লয়িজ অ্যাসোসিয়েশন প্রধানমন্ত্রীর কল্যাণ তহবিলে অনুদান দিয়েছে। অনুষ্ঠানে বিএবির চেয়ারম্যান নজরুল ইসলাম মজুমদারসহ অন্যান্য ব্যাংকের মালিক ও কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

নিউজটি আপনার বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুন

এই ক্যাটাগরির আর নিউজ
© All rights reserved © vira-l.com 2017-2022
themesba-lates1749691102
Bengali English