সোমবার, ১৯ জানুয়ারী ২০২৬, ১২:০৬ পূর্বাহ্ন

শূন্যপদ পূরণে নিজেদের ব্যর্থতা স্বীকার করলেন জয়-লেখক

রিপোর্টারের নাম
  • প্রকাশিতঃ সোমবার, ২৮ ডিসেম্বর, ২০২০
  • ৫৯ জন নিউজটি পড়েছেন

বাংলাদেশ ছাত্রলীগ কেন্দ্রীয় নির্বাহী সংসদের শূন্য ৪৮টি পদ পূরণে নিজেদের ব্যর্থতা স্বীকার করেছেন সভাপতি আল নাহিয়ান খান জয় ও সাধারণ সম্পাদক লেখক ভট্টাচার্য। গতকাল রবিবার (২৭ ডিসেম্বর) বিকেলে ছাত্রলীগের দলীয় কার্যালয়ে (২৩ বঙ্গবন্ধু এভিনিউ) এক সভায় এ ব্যর্থতা স্বীকার করেন।

ছাত্রলীগের শূন্য পদ কেন এতদিন পূরণ হয়নি নেতৃবৃন্দের এমন প্রশ্নে সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক নিজেদের এ দায় স্বীকার করেন এবং দ্রুত সময়ের মধ্যে তা পূরণের আশ্বাস দেন। এ সময় কয়েকজন ‘দ্রুত সময়’, ‘দ্রুত সময়’ বলে রসিকতাও করেন।

সভায় উপস্থিত ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক ফেরদৌস আলম সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদককে বলেন, ৭৩ বছরের ঐতিহ্যবাহী সংগঠন বাংলাদেশ ছাত্রলীগকে যারা তুচ্ছতাচ্ছিল্য করে খাদের কিনারায় নিয়ে গেছে, তাদের আমরা কেন্দ্রীয় কমিটিতে দেখতে চাই না। শূন্য পদে এমন কাউকে চাই না যারা বিতর্কিত। কারণ, বিতর্কিতদের বাদ দিয়ে এবং কেউ কেউ অব্যাহতি নিয়ে এই পদগুলো শূন্য হয়েছে।

ফেরদৌস আলমের কথায় সুর মিলিয়ে জয়-লেখক ‘যারা বেশি বাড়াবাড়ি করছে তাদের একটাও পদ পাবে না’ এমন মন্তব্য করেছেন বলে জানিয়েছেন সভায় উপস্থিত কয়েকজন কেন্দ্রীয় নেতা।

এছাড়াও ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় নির্বাহী সংসদের এ জরুরি সভায় বেশ কয়েকটি বিষয় নিয়ে ‘হট্টগোল’ সৃষ্টি হয়। দলের সভাপতি-সাধারণ সম্পাদকের নির্ধারিত সময়ের পর সভায় উপস্থিত হওয়া, প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে কমিটি হওয়া, ছাত্রলীগ নেত্রী ফাল্গুনী দাস তন্বীর ওপর হামলার ঘটনাসহ নানান বিষয়ে কথা উঠলে ‘হট্টগোলের’ সৃষ্টি হয়।

সভায় উপস্থিত ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় নির্বাহী সংসদের একাধিক নেতা জানান, রবিবার (২৭ ডিসেম্বর) বিকেল ৪টায় সভা শুরু হওয়ার কথা থাকলেও সভাকক্ষে ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক লেখক ভট্টাচার্য ৪৮ মিনিট এবং সভাপতি আল নাহিয়ান খান জয় এক ঘণ্টা দেরি করে প্রবেশ করেন। ৪টায় সভা ডেকে কেন তারা দেরি করে ভেতরে প্রবেশ করবেন, তা নিয়ে প্রথমেই হট্টগোলের সৃষ্টি হয়। তারা প্রতিটি অনুষ্ঠানে ‘দেরি করে আসেন’ অভিযোগ করে কেন্দ্রীয় নেতারা জয় ও লেখকের ওপর ক্ষুব্ধ হয় এবং এর কৈফিয়ত জানতে চান।

প্রেস বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে কেন কমিটি করা হচ্ছে এ বিষয়ে জয়-লেখক বলেন, আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় নেতাদের চাপ আছে। তাই প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে কমিটি দেওয়া হয়েছে। আমরা চেষ্টা করব সম্মেলনের মাধ্যমে কমিটি দেওয়ার।

কয়েকজন নেতা অভিযোগ করে বলেন, আমার জেলায় কমিটি হয় আমি জানি না। আপনারা কিসের ভিত্তিতে তাদের কমিটি দেন? তারা কী করে না করে সে বিষয়ে আপনারা কী এলাকায় গিয়ে খোঁজ নেন?

সভায় বাংলাদেশ ছাত্রলীগের সহ-সভাপতি সোহান খান রোকেয়া হলের এজিএস ফাল্গুনী দাস তন্বীর ওপর হামলাকারীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেন। এ সময় কেন্দ্রীয় যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক শামস ই নোমান উচ্চস্বরে সোহান খানের কথা কেড়ে নিয়ে বলেন, মারধরের জন্য যদি নিশিকে শাস্তি দিতে হয়, এর আগে সিনিয়রকে গালি দেওয়ার জন্য তন্বীকে বিচারের আওতায় আনতে হবে।

তখন শামস ই নোমান কেন একজনের কথা শেষ না হওয়ার আগে কণ্ঠ উঁচু করেছেন এর প্রতিবাদ জানিয়ে কেন্দ্রীয় উপ-সম্পাদক মেশকাত হোসেন বলেন, থামেন! একজন কথা শেষ করার আগে কেন কথা বলবেন। তার কথা শেষ করতে দেন।

মেশকাত নোমানকে ‘উপ-সম্পাদক বলে হেয় করলে’ সভায় উপস্থিত ছাত্রলীগের অনেক নেতা নোমানের কথার প্রতিবাদ করেন এবং মেশকাতকে সমর্থন দেন। এতে সভায় চরম হট্টগোলের সৃষ্টি হয়। এ সময় জয় ও লেখক সবাইকে শান্ত হতে বললে কিছুক্ষণ পর পরিস্থিতি কিছুটা নিয়ন্ত্রণে আসে।

ছাত্রলীগের সভাপতি আল নাহিয়ান খান জয় বলেন, আমরা হামলার বিষয়ে জেনেছি। হামলাকারী যেই হোক না কেন তার বিরুদ্ধে কঠিন ব্যবস্থা নিব। আর লেখক বলেন, তন্বী এখন একটু ট্রমায় আছে। সে সুস্থ হলে এ বিষয়টি সমাধান করব।

এরপর পটুয়াখালীর কলাপাড়া পৌর শাখা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক জুয়েল রানা ১৩ পিস ইয়াবাসহ আটক হলে তার বিরুদ্ধে কেন সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেয়া হয়নি এ বিষয়ে প্রশ্ন তোলেন সাংগঠনিক সম্পাদক সোহানুর রহমান। তখন জয়-লেখক তদন্ত করে ব্যবস্থা নেবেন বলে জানান।

সভায় ছাত্রলীগের সহ-সভাপতি সোহান খান জয় ও লেখককে কেন্দ্রীয় নেতাদের ফোন রিসিভ না করার কারণ জানতে চাইলে জয় ‘ভাইয়া…’ বলে এড়িয়ে যান।

নিউজটি আপনার বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুন

এই ক্যাটাগরির আর নিউজ
© All rights reserved © vira-l.com 2017-2022
themesba-lates1749691102
Bengali English