আসন্ন ঈদুল আজহা উপলক্ষে মানুষের যাতায়াত এবং ব্যবসা-বাণিজ্যসহ অর্থনৈতিক কার্যক্রম স্বাভাবিক রাখতে কঠোর বিধিনিষেধ শিথিলের সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। তবে ঈদের একদিন পরেই আবারও কঠোর লকডাউনের কথাও জানানো হয়েছে। এরআগে কঠোর বিধিনিষেধের মধ্যেও কলকারখানা খোলা থাকলেও এবার সব ধরনের শিল্প-কারখানাও বন্ধের সিদ্ধান্ত দিয়েছে সরকার। এ অবস্থায় শঙ্কার মধ্যে পড়েছেন দেশের তৈরি পোশাক শিল্পের মালিকরা। তারা বলছেন, গার্মেন্ট শ্রমিকদের এমনিতেই ঈদের ছুটি দেয়া হচ্ছে। এরসঙ্গে সরকারি নির্দেশনা মেনে আরও দুই সপ্তাহ কারখানা বন্ধ রাখা হলে অন্তত ১৮-১৯ দিন একটানা শিল্পের কার্যক্রম থেমে যাবে। এতে তৈরি পোশাক শিল্প আবারো বড় ধরনের ক্ষতির মুখে পড়বে। এ বিষয়ে তৈরি পোশাক শিল্প মালিকদের সংগঠন বিজিএমএই’র সহ সভাপতি শহিদউল্লাহ আজিম বলেন, গার্মেন্ট সেক্টর মাত্রই ঘুরে দাঁড়াচ্ছিলো।
করোনার মধ্যে রপ্তানি ব্যাপকভাবে কমে গিয়েছিল। সেখান থেকে আমরা ধীরে ধীরে ঘুরে দাঁড়াচ্ছিলাম। কিন্তু এই মুহূর্তে আবারো যদি বন্ধ করে দিতে হয়, যখন ইউরোপের দেশগুলোতে খুলে দেয়া হচ্ছিলো; এ অবস্থায় আমরা যদি তাদেরকে পণ্য না দিতে না পারি, তাহলে তারা অন্য কোথাও থেকে পণ্য নিয়ে নেবে। এতে আমরা বড় ধরনের ক্ষতির মধ্যে পড়ে যাবো। রপ্তানি খাত যদি আবারো এমন ক্ষতির মুখে পড়ে তাহলে দেশের অর্থনীতিতেও ব্যাপকভাবে নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে।
তিনি বলেন, জুন-জুলাই-আগস্ট এই তিন মাস ছিল আমাদের গার্মেন্ট সেক্টরের পিক এক্সপোর্ট টাইম। সারা বছরে যা এক্সপোর্ট করি, তার চেয়ে বেশি করি এই তিন মাসে। এই তিন মাসে আমরা শীতের পোশাকগুলো বেশি পাঠাই। এগুলোর দাম অনেক বেশি থাকে। এখন এগুলো আটকা পড়ে গেলে তো আমাদের জন্য খুবই মুশকিল হবে। ৩০ তারিখ পর্যন্ত যদি বন্ধ থাকতো তবুও একটা সহনীয় পর্যায়ে থাকতো। কারণ আমরা তো ঈদের ছুটি হিসেবে ২৫-২৬ তারিখ পর্যন্ত বন্ধ এমনিই দিতাম। সেখান থেকে হয়তো আর ৪-৫ দিন আমরা সেক্রিফাইস করতাম। কিন্তু ৫ তারিখ পর্যন্ত অনেক বেশি হয়ে যায়। আর ৫ তারিখ পর আবার শুক্রবার শনিবার। এই দুইদিনও বন্ধ রাখতে হবে। সবমিলিয়ে অন্তত ১৮-১৯ দিনের মতো কারখানা বন্ধ হয়ে যাচ্ছে। একটানা এতদিন গার্মেন্ট বন্ধ থাকলে বড় ধরনের ক্ষতি হয়ে যাবে। কারণ সেক্টরটি মাত্রই ঘুরে দাঁড়াচ্ছিলো। এই মুহূর্তে এমন সিদ্ধান্ত মোটেও ঠিক হয়নি বলেও জানান বিজিএমইএ সহ- সভাপতি। তিনি বলেন, এভাবে লকডাউন দিয়ে একবার শিথিল করা আবার কঠোর করা এটা আসলে বাস্তবসম্মত হয়নি। এতে সংক্রমণ আরও বাড়বে, কমবে না। কারণ আমাদের বেশির ভাগ শ্রমিকরাই উত্তর এবং দক্ষিণাঞ্চলের। কারখানা বন্ধ থাকলে সবাই গ্রামে চলে যাবে, আবার তারা ঢাকায় আসবে, এতে করোনা আরও ছড়াবে। এটা না করে সবাই যদি এক জায়গায় থাকতো, লকডাউন চলমান থাকলে ঈদের ছুটিতেও শ্রমিকরা ঢাকায় থাকতো ভিড় করে সবাই গ্রামে যেতো না। তখন সংক্রমণ কম হতো। এখন তারা গ্রামে যাবে তারপর ডেল্টা ভ্যারিয়েন্ট আনবে। তখন সংক্রমণের ঝুঁকি আরও বেড়ে যাবে।