রবিবার, ১৮ জানুয়ারী ২০২৬, ১১:২৪ পূর্বাহ্ন

সতর্ক হতে হবে আমাদের

রিপোর্টারের নাম
  • প্রকাশিতঃ সোমবার, ৪ জানুয়ারী, ২০২১
  • ৪১ জন নিউজটি পড়েছেন

আমরা উম্মতে মোহাম্মদি। মুহাম্মদ সা:-এর পর আর কোনো নবী-রাসূল আসবে না এ কথা চিরন্তন সত্য বটে। কিন্তু উম্মতে মোহাম্মদি পাপাচারে লিপ্ত হলে আগেকার জাতিগোষ্ঠীর মতো কোনো আজাব-গজব নিপতিত হবে না! এমন বক্তব্য কুরআন-হাদিসের কোথাও উল্লেখ নেই। বরং আল্লাহ তায়ালা আমাদের হুঁশিয়ার করেছেন, ‘তোমাদের আগেও বহু মানবগোষ্ঠীকে আমি ধ্বংস করেছি, যখন তারা সীমা অতিক্রম করেছিল’ অতঃপর আমি তাদের পর পৃথিবীতে তোমাদের স্থলাভিষিক্ত করেছি, তোমরা কিরূপ আমল করো তা দেখার জন্য’ (সূরা ইউনুস, আয়াত-১৩, ১৪)। মূলত দুনিয়া হলো আল্লাহ তায়ালার পক্ষ থেকে মানুষের বসবাস উপযোগী একটি পরীক্ষাগার। পরীক্ষা কেন্দ্রে যেমন পরীক্ষার্থীর জন্য কিছু বিধিনিষেধ ও নীতিমালা থাকে, যা অমান্য করলে তাকে শাস্তির সম্মুখীন হতে হয়, ঠিক তেমনি আল্লাহ তায়ালাও দুনিয়াতে চলাচলের জন্য নীতিমালা প্রণয়ন করে দিয়েছেন। যখনই মানুষ আল্লাহর দেয়া বিধিবিধানের তোয়াক্কা না করে নিজেদের খামখেয়ালি ও মানব রচিত আইন দিয়ে নিজেদের জীবন পরিচালনা করতে থাকে তখনই সেখানে আল্লাহর ভয়াবহ গজব ও শাস্তি নেমে আসে। সূরা রুমের ৪১ নম্বর আয়াতে আল্লাহ বলেন, ‘মানুষের কৃতকর্মের দরুন স্থলে ও জলে বিপর্যয় ছড়িয়ে পড়ে; যার ফলে তাদেরকে তাদের কোনো কোনো কর্মের শাস্তি তিনি আস্বাদন করান, যাতে তারা ফিরে আসে’। হাদিসে এসেছে, হজরত আবু হুরায়রা রা: বর্ণনা করেন, রাসূলুল্লাহ সা: বলেছেন, ‘তোমরা সাতটি ধ্বংসকারী বস্তু থেকে বেঁচে থাকো। তারা বললেন, হে আল্লাহর রাসূল! সেগুলো কী? তিনি বললেন, ‘আল্লাহর সাথে কাউকে শরিক করা, জাদু করা, বিনা কারণে কাউকে হত্যা করা, সুদ খাওয়া, ইয়াতিমের মাল আত্মসাৎ করা, জিহাদের ময়দান থেকে পলায়ন করা, সতী-সাধ্বী নারীর প্রতি অপবাদ দেয়া’ (বুখারি)।
বর্তমানে উম্মতে মোহাম্মদি দ্বারা আগেকার ধ্বংসপ্রাপ্ত জাতিগোষ্ঠীর মতো অনেক মারাত্মক ধরনের অন্যায় কাজ সংঘটিত হচ্ছে। অন্যের প্রতি জুলুম, শোষণ-নিপীড়ন, বাক-স্বাধীনতা হরণ, খাদ্যে ভেজাল মেশানো, খুন-গুম, ধর্ষণ, হানাহানি, বেপর্দা-বেহায়াপনা, অশ্লীলতা, অবাধ যৌনাচার, গুজব ও সুদ-ঘুষের স্টিমরোলারসহ হারামের মারাত্মক ছড়াছড়ি বিরাজমান। শিশু হত্যা, মানব হত্যা, মানবপাচার, প্রতারণা, জালিয়াতি ও চোরাকারবারিসহ মানব বিধ্বংসী কর্মকাণ্ডে আমরা নিমজ্জিত। শিরক-কুফরির মতো খোদাদ্রোহী কাজ আমাদের নিত্যনৈমিত্তিক ব্যাপার হয়ে দাঁড়িয়েছে। অতীতের জাতিগোষ্ঠীর চেয়ে বহু গুণে ভয়ানক আজাব আপতিত হওয়ার উপযোগী আমরা হয়ে গেছি! তাহলে কেন আমাদের ওপর খোদায়ি গজব আসবে না! বর্তমানে বিশ^ব্যাপী যে করোনাভাইরাস বিদ্যমান তা আমাদের প্রত্যেকের হাতে কামাই করা পাপের ফসল ভিন্ন অন্য কিছু নয়। আজ থেকে ১৪০০ বছর আগে হজরত মুহাম্মদ সা: বলে গেছেন, ‘যখন কোনো জাতির মধ্যে প্রকাশ্যে অশ্লীলতা ছড়িয়ে পড়ে তখন সেখানে মহামারী আকারে এমন সব ব্যাধির উদ্ভব হয়, যা আগেকার লোকদের মধ্যে কখনো দেখা যায়নি’ (ইবনে মাজাহ-৪০১৯)। অন্যত্র বলা হয়েছে, ‘মহামারী একটি শাস্তি, কতক জাতিকে এর দ্বারা শাস্তি দেয়া হয়েছে। তারপর এর কিছু অংশ বাকি রয়ে গেছে। তাই কখনো তা চলে যায় আবার কখনো তা ফিরে আসে’ (সহিহ বুখারি-৬৯৭৪)। রাসূল সা:-এর বাণীর সাথে বর্তমান করোনা পরিস্থিতির যথেষ্ট মিল খুঁজে পাওয়া যায়। জ্বর-সর্দির মতো করোনা কোনো স্বাভাবিক ব্যাধি নয়, বরং খোদায়ি প্রদত্ত একটি সামষ্টিক গজব। কেননা, বর্তমানে অন্যায় ও পাপ ব্যক্তি স্বতন্ত্রের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয় বরং তা পারিবারিক ও সামাজিক পরিধিকে অতিক্রম করে রাষ্ট্রীয় বলয়ে প্রতিষ্ঠা লাভ করেছে। আর শাস্তির পরিধিও বিশ^ব্যাপী বিরাজমান। করোনায় আক্রান্ত হয়ে অনেক মানুষ মারা গেছে, এখনো যাচ্ছে। তাছাড়া বিশ^ব্যাপী করোনা নামক মহামারীতে বিভিন্ন সঙ্কট ও মানবমনে ভয়, আতঙ্ক ও দুশ্চিন্তা চরম আকার ধারণ করেছে। ফলে হার্ট অ্যার্টাক, ব্লাড প্রেসার, পাকস্থলিতে সমস্যা ও ডায়াবেটিসসহ বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত হয়ে অনেক মানুষ মারা যাচ্ছে। আল্লাহর দেয়া খোদায়ি আজাব-গজব থেকে বাঁচতে হলে চিকিৎসা গ্রহণ ও স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার পাশাপাশি একচ্ছত্র ক্ষমতার অধিকারী, জীবন-মৃত্যুর মালিক মহান আল্লাহকে মনেপ্রাণে ভয় করতে হবে। বিশ^াস করতে হবে আল্লাহর শাস্তি থেকে পালানোর বিন্দুমাত্র সুযোগ কারো নেই।
আল্লাহর ঘোষণা ‘আল্লাহ যদি মানুষকে তার অন্যায় কাজের কারণে তাৎক্ষণিক শাস্তি দিতেন তাহলে কোনো প্রাণীকেই তিনি এ পৃথিবীতে জীবিত ছাড়তেন না। কিন্তু তিনি এক নির্ধারিত সময় পর্যন্ত মানুষকে অবকাশ দিয়ে থাকেন। তবে তাদের শাস্তির নির্ধারিত মেয়াদ যখন এসে পড়ে তখন তারা এক মুহূর্ত পেছনেও থাকতে পারে না এবং সামনেও এগোতে পারে না’ নাহল, আয়াত-৬১)। কাজেই শাস্তি যখন আল্লাহর পক্ষ থেকে অবধারিত হয়ে যায় তখন তা থেকে বাঁচার আর কোনো পথ থাকে না। কেননা, আল্লাহর (সূরা পাকড়াও বড়ই কঠিন। তাই শাস্তি আসার আগেই যাবতীয় খোদাদ্রোহী ও মানব বিধ্বংসীর মতো অপরাধমূলক কাজ ছেড়ে দিতে হবে। তাকওয়া অবলম্বনের মাধ্যমে ব্যক্তি থেকে শুরু করে রাষ্ট্রীয় পর্যায়ে পাপকর্ম থেকে বিরত থাকতে পারলে করোনা নামক প্রাণঘাতী থেকে মুক্তি পাওয়া সম্ভব। নচেৎ করোনার চেয়েও ভয়াবহ মহামারী আমাদের ওপর আপতিত হওয়া অবশ্যম্ভাবী।

নিউজটি আপনার বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুন

এই ক্যাটাগরির আর নিউজ
© All rights reserved © vira-l.com 2017-2022
themesba-lates1749691102
Bengali English