শুক্রবার, ১৬ জানুয়ারী ২০২৬, ০৪:৪৬ পূর্বাহ্ন

সম্পদ কেন সাপের মতো

রিপোর্টারের নাম
  • প্রকাশিতঃ শুক্রবার, ১০ জুলাই, ২০২০
  • ৪৯ জন নিউজটি পড়েছেন

পৃথিবীতে বেঁচে থাকার জন্য মানুষকে সম্পদ অর্জন করতে হয়। কিন্তু সম্পদ অর্জনই জীবনের একমাত্র লক্ষ্য নয়। মহান আল্লাহর দেওয়া নিয়ম মেনে সম্পদ অর্জনে ইসলামের কোনো নিষেধাজ্ঞা নেই। বরং মহান আল্লাহ মানব জাতিকে হালাল রিজিক অন্বেষণের আদেশ দিয়েছেন। পবিত্র কোরআনে ইরশাদ হয়েছে, ‘যখন নামাজ আদায় হয়ে যায়, তখন জমিনে ছড়িয়ে পড়ো এবং আল্লাহর অনুগ্রহ সন্ধান করো। (সুরা : জুমা, আয়াত : ৬২)

অর্থাৎ হালাল রিজিকের সন্ধানে বেরিয়ে পড়ো। রাসুল (সা.) বলেছেন, অন্যান্য ফরজ আদায়ের পর হালাল রিজিক অর্জন করাও একটি ফরজ। (শুআবুল ঈমান, হাদিস : ৮৩৬৭)।

শুধু তা-ই নয়, ইসলাম পরিবার-পরিজনের জন্য প্রয়োজনীয় সম্পদ সংরক্ষণ ও সঞ্চয়ের নির্দেশ দিয়েছে। একদিন আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রা.)-কে উদ্দেশ করে রাসুল (সা.) বলেন, ‘তোমার উত্তরাধিকারীদের মানুষের মুখাপেক্ষী বানিয়ে দরিদ্র অবস্থায় রেখে যাওয়া অপেক্ষা সচ্ছল অবস্থায় রেখে যাওয়া অধিক উত্তম।’ (বুখারি, হাদিস : ১২৯৫)

তবে এ ক্ষেত্রে অবশ্যই মহান আল্লাহর দেওয়া নির্দেশনা মেনে চলতে হবে। হালাল পন্থায় সম্পদ অর্জন করতে হবে। সঠিকভাবে সম্পদের জাকাত আদায় করতে হবে। নইলে এই সম্পদই আমাদের কঠিন বিপদের কারণ হতে পারে। আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসুল (সা.) বলেছেন, ‘তোমাদের প্রত্যেকের সঞ্চিত ধন, যার জাকাত আদায় করা হয়নি, কিয়ামতের দিন টাকওয়ালা হিংস্র সাপে পরিণত হবে। সম্পদের মালিক তা থেকে পালাতে থাকবে। কিন্তু সাপ তার পিছে লেগে থাকবে। আর বলবে, আমি তোমার সঞ্চিত সম্পদ। তিনি বলেন, আল্লাহর শপথ! সাপ তার পিছু ধাওয়া করতেই থাকবে। পরিশেষে সে বাধ্য হয়ে তার হাত প্রসারিত করে দেবে। ফলে সাপ তার মুখ গিলে নেবে। (বুখারি, হাদিস : ৬৯৫৭)

প্রশ্ন জাগতে পারে, উল্লিখিত হাদিসে সঞ্চিত সম্পদকে সাপের সঙ্গে তুলনা করা হলো কেন? স্বপ্নযোগে সাপ দেখলেও কোনো কোনো স্কলার এর ব্যাখ্যা সম্পদ অর্জন করেন কেন? এর উত্তর হলো, সাপ যেমন আমাদের জন্য অত্যন্ত জরুরি একটি প্রাণী। কিন্তু তা থেকে উপকৃত হওয়ার জন্য অবশ্যই সতর্কতা অবলম্বন ও নির্দিষ্ট নিয়ম মানতে হয়।

বিশ্বে সাপের বিষের রয়েছে বড় বাজার। ওষুধশিল্পের কাঁচামাল ও নানা গবেষণার কাজে ব্যবহূত হচ্ছে এই বিষ বা ভেনম। সাপের মাংস ও চামড়াও বড় আয়ের উৎস। সংশ্লিষ্টদের মতে, বিশ্বে বছরে ৭০০ থেকে ৮০০ পাউন্ড সাপের বিষের চাহিদা রয়েছে। যেখানে এক গ্রাম বিষের দাম সাপভেদে চার হাজার থেকে পাঁচ হাজার আমেরিকান ডলার।

সাপের বিষ ওষুধশিল্পের গুরুত্বপূর্ণ কাঁচামাল। ক্যান্সারসহ বেশ কিছু রোগের প্রতিষেধক তৈরি করতেও এর প্রয়োজন। গবেষণার কাজেও হয় ব্যবহার। (বৈশাখী টিভি অনলাইন)

উপরোক্ত তথ্য দ্বারা আমরা বুঝতে পারি যে মানুষের জীবন রক্ষাকারী ওষুধ তৈরি করতেও সাপের বিষ প্রয়োজন হয়। অথচ বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার তথ্য মতে, বছরে প্রায় ৮০ হাজার মানুষ সাপের কামড়ে মৃত্যুবরণ করে। (ডিডাব্লিউ ডটকম)

এর কারণ হলো, সাপ কিংবা তার বিষ থেকে উপকৃত হওয়ার জন্য নির্দিষ্ট নিয়ম-নীতি আছে। যারা তা অনুসরণ করে তারা তা থেকে উপকৃত হতে পারে। কিন্তু এর বিপরীত ঘটলেই বিপত্তি ঘটতে পারে। হতে পারে মৃত্যু। তদ্রুপ সম্পদ অর্জনের ক্ষেত্রেও হালাল পন্থায় তা অর্জন করতে হয়। প্রতিবছর সঠিকভাবে তার জাকাত আদায় করতে হয়। যদি কেউ এই নিয়মগুলো না মেনে সম্পদ অর্জন ও সঞ্চয় করতে যায়, তাহলে এই সম্পদই তার ধ্বংসের কারণ হতে পারে।

নিউজটি আপনার বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুন

এই ক্যাটাগরির আর নিউজ
© All rights reserved © vira-l.com 2017-2022
themesba-lates1749691102
Bengali English