শনিবার, ১৭ জানুয়ারী ২০২৬, ০২:২২ অপরাহ্ন

সরকার খালেদা জিয়াকে মুক্ত করবে, আশা বিএনপির

রিপোর্টারের নাম
  • প্রকাশিতঃ মঙ্গলবার, ১ সেপ্টেম্বর, ২০২০
  • ৪১ জন নিউজটি পড়েছেন

সরকার বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে মুক্ত করবে বলে আশা প্রকাশ করেছেন দলটির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি বলেন, ‘তাকে একটি মিথ্যা মামলায় অন্যায়ভাবে সাজা দিয়েছে। যে সাজা তার প্রাপ্য নয়। জামিন তার প্রাপ্য। আমরা আশা করছি, সরকারের শুভবুদ্ধির উদয় হবে। তারা খালেদা জিয়াকে (স্থায়ী জামিন) মুক্ত করবে।

মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) বিএনপির ৪২তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে দলের প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমানের কবরে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানান স্থায়ী কমিটির নেতারা। পরে খালেদা জিয়ার স্থায়ী জামিনের বিষয়ে পরিবারের আবেদন করা নিয়ে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে এসব কথা বলেন মির্জা ফখরুল। এর আগে সকাল থেকে ঢাকা মহানগর বিএনপিসহ দলটির সহযোগী ও অঙ্গসংগঠনের পক্ষ থেকে জিয়াউর রহমানের কবরে শ্রদ্ধা জানানো হয়।

প্রসঙ্গত, চলতি বছরের ২৫ মার্চ সরকারের নির্বাহী আদেশে সাজা স্থগিত করে ছয় মাসের জন্য মুক্তি দেওয়া হয় খালেদা জিয়াকে। নিজ বাসায় থেকে চিকিৎসা নেবেন এবং দেশের বাইরে যেতে পারবেন না এই দুই শর্তে সরকার তাকে মুক্তি দেয়। আগামী ২৪ সেপ্টেম্বর তার মুক্তির মেয়াদ শেষ হবে। তাকে স্থায়ীভাবে জামিন দেওয়ার জন্য স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে আবেদন করেছে খালেদা জিয়ার পরিবার।
জিয়াউর রহমানের কবরে বিএনপি নেতাদের শ্রদ্ধা

৪২ বছরে বিএনপির সামনে কী চ্যালেঞ্জ জানতে চাইলে মির্জা ফখরুল বলেন, এখন আমাদের সামনে বড় চ্যালেঞ্জ হচ্ছে গণতন্ত্রকে পুনরুদ্ধার করা। বড় চ্যালেঞ্জ হচ্ছে, ৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধে যে চেতনা নিয়ে সংগ্রাম ও লড়াই করেছিলাম সেই চেতনায় একটা গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র নির্মাণ করা, মানুষের অধিকারগুলেকে ফিরিয়ে দেওয়া। আজ আমাদের সেই জায়গায় ফিরে যেতে হবে এবং গণতন্ত্রকে আবারও প্রতিষ্ঠিত করতে হবে।

আওয়ামী লীগ গণতন্ত্র হরণ করেছে দাবি করে মির্জা ফখরুল বলেন, তারা জনগণের অধিকার কেড়ে নিয়েছে। যে ভয়াবহ একদলীয় শাসনব্যবস্থা কায়েম করেছে তার বিরুদ্ধে জনগণকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠা করতে হবে। খালেদা জিয়াকে মুক্ত করতে হবে এবং জনগণের শাসন ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা করতে হবে।

বিএনপির মহাসচিব বলেন, ‘আজকের এই দিনে আমরা গভীর শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করছি দলের প্রতিষ্ঠাতা ও স্বাধীনতার ঘোষক শহীদ জিয়াউর রহমানকে। তিনি এই দেশের রাজনীতিতে একদলীয় শাসন ব্যবস্থার পরিবর্তে বহুদলীয় গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা ফিরিয়ে এনেছিলেন। তিনি সত্যিকার অর্থে সম্ভাবনাময় বাংলাদেশে গড়ে তোলেন। তিনি খুব অল্প সময়ে সমস্ত জাতিকে ঐক্যবদ্ধ করেছেন। বাংলাদেশি দর্শনের ভিত্তিতে দেশকে উন্নয়নের অগ্রগতির দিকে এগিয়ে নিয়েছিলেন।

খালেদা জিয়া দীর্ঘ ২০ বছর বিএনপির নেতৃত্ব দিয়েছেন বলে উল্লেখ করে মির্জা ফখরুল বলেন, ‘এখনও তিনি নেতৃত্ব দিয়ে যাচ্ছেন। তিনি কারাগারে যাওয়ার পর থেকে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান দলকে নেতৃত্ব দিচ্ছেন। তাদের নেতৃত্বে দল এখন সুশৃঙ্খলভাবে এগিয়ে চলেছে।

শ্রদ্ধা নিবেদনের সময় উপস্থিত ছিলেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য খন্দকার মোশাররফ হোসেন, ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ, মির্জা আব্বাস, গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, নজরুল ইসলাম খান, সেলিমা রহমান, বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা কাউন্সিলের সদস্য আমান উল্লাহ আমান, আব্দুল করীম, সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী, যুগ্ম মহাসচিব মাহবুব উদ্দিন খোকন, যুগ্ম মহাসচিব খায়রুল কবির খোকন, হাবিব উন নবী খান সোহেল, দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের দলের সাবেক মেয়র প্রার্থী ইশরাক হোসেন, বিএনপি চেয়ারপারসনের মিডিয়া উইং সদস্য শামসুদ্দিন দিদার, শায়রুল কবির খান প্রমুখ। প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে সকালে নয়াপল্টন বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয় ও গুলশানে চেয়ারপারসনের কার্যালয়ে দলীয় পতাকা উত্তোলন করা হয়।

নিউজটি আপনার বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুন

এই ক্যাটাগরির আর নিউজ
© All rights reserved © vira-l.com 2017-2022
themesba-lates1749691102
Bengali English