এক রাতে হজরত ওমর আল-ফারুক রা:-এর খেলাফত চলাকালীন ঘটনা। তিনি ঘুমাচ্ছিলেন এবং একটি স্বপ্ন দেখেছিলেন।
তিনি দেখলেন যে, তিনি ফজরের সালাতের জন্য মাসজিদে নববীতে গিয়েছিলেন এবং নবী করিম সা: ইমাম হয়ে নামাজ পড়াচ্ছিলেন। হজরত আলী রা:ও অন্যদের সাথে সেই সালাতে যোগ দিয়েছিলেন। সালাম শেষ করার পর রাসূলুল্লাহ সা: সাহাবিদের দিকে মুখ ফিরিয়েছিলেন। এ স্থানে এক ব্যক্তি খেজুরের ঝুড়ি এনে রাসূলুল্লাহর দরবারে উপস্থাপন করেন।
মহানবী সা: খেজুর বিতরণের কাজ শুরু করেছিলেন এবং সম্মানিত সাহাবারা একেক করে খেজুর সংগ্রহ করেছিলেন।
আলী রা: বললেন যে, তিনিও কাতারে যোগ দিয়েছিলেন এবং যখন তার পালা এসেছিল, তখন নবী করিম সা: আমাকে মাত্র দুটি খেজুর দিয়েছিলেন। আমি সেগুলো খেয়েছি এবং খুব সন্তুষ্ট বোধ করেছি। এর পরে আমার চোখ খুলল, অর্থাৎ আমি জেগে উঠলাম এবং আমি এখনো আমার মুখের খেজুরগুলোর স্বাদ যেন অনুভব করছিলাম।
আমি যখন চোখ খুললাম, ফজর আজানধ্বনি শোনা যাচ্ছিল। আমি কখনোই কারো কাছে আমার স্বপ্ন প্রকাশ করিনি এবং ফজরের সালাতের জন্য মাসজিদে নববীতে নিত্যদিনের মতোই ধীরে সুস্থে গেলাম। আমি যখন প্রবেশ করলাম তখন আমি দেখতে পেলাম, সালাত ইতোমধ্যে শুরু হয়ে গিয়েছিল এবং ওমর রা: ইমাম ছিলেন, সুতরাং আমি জামাতে যোগ দিয়েছি।
সালাত শেষ করার পর ওমর রা: সাহাবাদের দিকে মুখ ফিরিয়ে বসলেন। এই স্থানে এক ব্যক্তি খেজুরের ঝুড়ি এনে ওমর রা:-এর কাছে উপহার দেন।
ওমর ইবনুল খাত্তাব রা: উপহার পাওয়া খেজুরগুলো বিতরণের কাজ শুরু করলেন এবং সাহাবা রা: তাদের পালা করে খেজুর সংগ্রহ করছিলেন।
হজরত আলী রা: বললেন, তিনিও কাতারে যোগ দিয়েছিলেন এবং যখন তার পালা এসেছিল, তখন ওমর রা: আমাকে মাত্র দুটি খেজুর দিয়েছিলেন। আমি সেগুলো খেয়েছি এবং খুব সন্তুষ্ট বোধ করেছি।
আমি বিতরণকারীকে আরো খেজুরের জন্য জন্য আবদার করলে ওমর রা: বললেনÑ ওহে আলী, আল্লাহর কসম! যদি মহানবী সা: স্বপ্নের ভেতর তোমাকে বেশি খেজুর দিতেন, তবে আমি তোমাকে খুশি করে দিতাম।’
সাইয়্যিদুনা আলী ইবনে আবুতালিব রা: এই কথা শুনে হতবাক হয়ে জিজ্ঞেস করলেন, ‘ইয়া আমির-উল-মুমিনিন, কে সেই ব্যক্তি যিনি আপনাকে আমার স্বপ্নের কথা বলেছিলেন; কেউ কি আপনাকে জানিয়েছিল? অতঃপর তিনি নিজেকে বললেন, ‘আল্লাহ তায়ালা নিশ্চয়ই তাকে এ সম্পর্কে সচেতন করেছেন।
আলী রা:-এর এই কথা শুনে ওমর ইবনে আল-খাত্তাব রা: বললেন, আলী, তুমি কি রাসূলুল্লাহর হাদিস শোনোনিÑ একজন মুমিনের অন্তর্দৃষ্টি সম্পর্কে সতর্ক থাকুন, কারণ তিনি প্রকৃতপক্ষে আল্লাহর নূরের সাথে দেখেন।