রবিবার, ১৮ জানুয়ারী ২০২৬, ০৮:২৪ অপরাহ্ন

সিনেমায় বিজয়ের ইতিহাস ফুটিয়ে তোলার আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর

রিপোর্টারের নাম
  • প্রকাশিতঃ রবিবার, ১৭ জানুয়ারী, ২০২১
  • ৩৫ জন নিউজটি পড়েছেন
করোনা নিয়ে সতর্ক থাকার নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর

প্রজন্মের পর প্রজন্ম যেন বাঙালির বিজয়ের ইতিহাস সঠিকভাবে জানতে পারে, সেদিকে লক্ষ্য রেখে চলচ্চিত্র নির্মাণের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এছাড়াও পারিবারিক, শিশুতোষ ও মুক্তিযুদ্ধের ছবি নির্মাণের জন্য সংশ্লিষ্টদের তাগিদ দেন তিনি। রবিবার (১৭ জানুয়ারি) সকালে গণভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে যুক্ত হয়ে, বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে আয়োজিত ২০১৯ সালের জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী এ কথা বলেন।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি বলেন, আমাদের শিল্প-সংস্কৃতি যেন বিশ্বের সঙ্গে তাল মিলিয়ে চলতে পারে। আমাদের শিল্প-সংস্কৃতির প্রয়াসগুলো যেন আন্তর্জাতিকভাবে গ্রহণযোগ্যতা পায়। আমি আপনাদের এইটুকু অনুরোধ করব যে, আমাদের মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস ১৫ আগস্ট জাতির পিতাকে হত্যা করার পর বিকৃত করা হয়েছে। কাজেই সেই ইতিহাসটা যেন সবাই জানে। আর আমরা তো বীরের জাতি, মুক্তিযুদ্ধে বিজয় অর্জন করেছি। আমাদের সেই বিজয়ের ইতিহাসটা প্রজন্মের পর প্রজন্ম যেন মনে রাখে, সে ধরনের চলচ্চিত্র আরো নির্মাণ হওয়া দরকার। এমনভাবে সিনেমা তৈরি করতে হবে, যেন পরিবার-পরিজন নিয়ে দেখতে পারি।

চলচ্চিত্র শিল্প সংশ্লিষ্টদের উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রী আরো বলেন, আমি একজন রাজনীতিবিদ যত বক্তৃতা দিয়ে কথা বলি না কেন, একটি নাটক বা একটি সিনেমা বা একটা গানের মধ্যদিয়ে বা কবিতার মধ্যদিয়ে অনেক কথা বলা যায়। এগুলো নিয়ে মানুষের অন্তরে প্রবেশ করা যায়, মনের গহিনে প্রবেশ করা যায়। কাজেই সে জন্য একটা আবেদন কিন্তু রয়েছে।

এছাড়া ছোট শিশুদের জন্য সিনেমা তৈরি করা একান্তভাবে প্রয়োজন জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, এর মধ্যে দিয়ে একটা শিশু তার জীবনটাকে দেখতে পারবে, জীবনটাকে তৈরি করতে পারবে, বড় হতে পারবে। সেদিকে লক্ষ্য রেখে শিশুদের জন্য চলচ্চিত্র নির্মাণ করা, তার মধ্যে দিয়ে একটা শিক্ষণীয় বিষয়গুলো প্রতিফলিত করা, এটাও কিন্তু আমাদের করতে হবে। কাজেই অনেক দায়িত্ব আপনাদের। সেই দায়িত্বটাও পালন করার আহ্বান জানান প্রধানমন্ত্রী।

পাশাপাশি চলচ্চিত্র শিল্পকে আধুনিক করার জন্য যা যা দরকার সেটা সরকারের পক্ষ থেকে আমরা করছি এবং করে যাব বলেও আশ্বাস দেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, চলচ্চিত্রে আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ানোর উদ্যোগ নিতে হবে। চলচ্চিত্রের স্বর্ণালী দিন ফিরিয়ে আনতে এক হাজার কোটি টাকার বিশেষ তহবিল গঠন করা হচ্ছে। এ তহবিল থেকে স্বল্প সুদে ঋণ নিয়ে যে সকল সিনেমা হল বন্ধ হয়ে গেছে সেগুলো চালু করা যাবে। সিনেমা হল নির্মাণ করতে পারবে। আবার বর্তমান হলগুলো আধুনিকায়ন করবে। হলগুলো ডিজটাল করতে হবে। শেখ হাসিনা আরো বলেন, কাওরান বাজার পাইকারি বাজার। এখানে স্বল্প পরিসরে রেখে অন্যত্র সরিয়ে নেব বাজারটা। এফডিসিকে প্রসারিত করব, একটা কমপ্লেক্স হবে। প্রশিক্ষণের ওপর গুরুত্ব দিয়ে শেখ হাসিনা বলেন, আমাদের শিল্পীরা যাতে প্রশিক্ষণ নিয়ে ভালো সিনেমা নির্মাণ করতে পারে তার জন্য আমরা ব্যবস্থা করে দেব। কারণ উন্নত দেশে প্রশিক্ষণ নিয়ে নির্মাতারা ভালো সিনেমা তৈরি করে। শিল্পীদের প্রশিক্ষণ নিয়ে দক্ষ হতে হবে। আমরা প্রত্যেকটা ক্ষেত্রে আধুনিকায়নের চেষ্টা করছি।

পুরস্কার প্রদান অনুষ্ঠানে সশরীরে উপস্থিত থাকতে না পারার জন্য দুঃখ প্রকাশ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমি তো আছি সবসময় আপনাদের পাশে। কারণ আমার বাবার হাতে গড়া এফডিসি।
সিনেমা তৈরি করার যে উৎসাহটা তিনিই দিয়েছিলেন। কাজেই সেদিকে মাথায় রেখে আমি সবসময় কাজ করি। আর আমাদের যারা শিল্পী তাদের সবসময় আলাদা একটা সম্মান আমাদের সমাজে আছে। তারপরও আমি আলোচনা করে দেখব। আপনাদের যারা আজীবন সম্মাননা পাচ্ছেন, তাদের সম্মাননাটা যেন সবসময় তারা পান, সে ব্যবস্থা করার জন্য যা করণীয় আমরা তা করব।

নিউজটি আপনার বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুন

এই ক্যাটাগরির আর নিউজ
© All rights reserved © vira-l.com 2017-2022
themesba-lates1749691102
Bengali English