শনিবার, ১৭ জানুয়ারী ২০২৬, ০১:১১ পূর্বাহ্ন

সেতু প্রকল্পে পরিদর্শন বাংলোর প্রস্তাব

রিপোর্টারের নাম
  • প্রকাশিতঃ রবিবার, ৯ আগস্ট, ২০২০
  • ৫২ জন নিউজটি পড়েছেন

উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় কর্মকর্তাদের জন্য বাসভবন বা পরিদর্শন বাংলো নির্মাণ পরিহারের অনুশাসন দিয়েছিলেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

কিন্তু সেটি না মেনে ৩ কোটি ৯০ লাখ টাকা ব্যয়ে খুলনা সড়ক বিভাগের জন্য চার তলা ফাউন্ডেশনের উপর দুই তলা বিশিষ্ট বাংলো নির্মাণের প্রস্তাব করা হয়েছে। ‘খুলনা সড়ক জোনের আওতাধীন মহাসড়কে বিদ্যমান সরু ও ঝুঁকিপূর্ণ পুরাতন কংক্রিট সেতু বা বেইলি সেতুর স্থলে কংক্রিট সেতু নির্মাণ’ শীর্ষক প্রকল্পে ঘটছে এমন ঘটনা।

প্রকল্পের আওতায় ৪৯টি কংক্রিটের সেতু নির্মাণ করা হবে। এতে মোট ব্যয় ধরা হয়েছে ৫৩০ কোটি ৩২ লাখ টাকা। জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) আগামী সভায় প্রকল্পটি উপস্থাপন করা হতে পারে। অনুমোদন পেলে চলতি বছর থেকে শুরু হয়ে ২০২২ সালের ডিসেম্বরের মধ্যে এটি বাস্তবায়ন করবে সড়ক ও জনপথ অধিদফতর (সওজ)। পরিকল্পনা কমিশন সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে।

এ প্রসঙ্গে বিশ্বব্যাংক ঢাকা অফিসের সাবেক লিড ইকোনমিস্ট ড. জাহিদ হোসেন শনিবার বলেন, প্রধানমন্ত্রী নিজেই যেখানে অনুশাসন দিয়েছেন, সেখানে তা প্রতিপালন করা জরুরি। তাছাড়া যে কোনো খোঁড়া যুক্তি দেখিয়ে এরকম প্রস্তাব মেনে নেয়া ঠিক হয়নি পরিকল্পনা কমিশনের। তাছাড়া প্রধানমন্ত্রীর আরও একটি নির্দেশনা হচ্ছে- প্রকল্পে ব্যয় সাশ্রয় করতে হবে। সেখানে সেতু নির্মাণ প্রকল্পে পরিদর্শন বাংলো নির্মাণের প্রস্তাব করা ঠিক হয়নি। একেবারেই অপরিহার্য না হলে এসব অপ্রয়োজনীয় ব্যয় থেকে প্রকল্প সংশ্লিষ্টদের বেরিয়ে আসতে হবে। তিনি বলেন, করোনার মাহামারীর কারণে উন্নয়ন প্রকল্পে গাড়ি ক্রয় স্থগিত, সরকারি কর্মকর্তাদের বিদেশ সফর স্থগিতসহ নানা গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে ইতোমধ্যে। সেসময় এরকম প্রস্তাব বেমানান। কোভিড-১৯ পরিস্থিতিতে এমন প্রস্তাব পরিহার করা উচিত।

পরিকল্পনা কমিশন সূত্র জানায়, গত বছরের ২৬ নভেম্বর একনেক সভায় উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় কর্মকর্তাদের জন্য বাসভবন বা পরিদর্শন বাংলো নির্মাণ পরিহারের অনুশাসন দিয়েছিলেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এই অনুশাসন দেয়ার আগেই গত বছরের ১৬ সেপ্টেম্বর প্রস্তাবিত প্রকল্পটি নিয়ে প্রকল্প মূল্যায়ন কমিটির (পিইসি) সভা হয়। ফলে সেসময় প্রকল্পের আওতায় পরিদর্শন বাংলো নির্মাণের বিষয়টি রাখা হয়েছিল। খুলনা জোনের পরিদর্শন বাংলোটি অনেক পুরনো ও জরাজীর্ণ হওয়ায় সওজের নিজস্ব জমিতে ৫ হাজার বর্গমিটার এই পরিদর্শন বাংলোর সংস্থান রাখা হয়েছে।

পরিকল্পনা কমিশনের একাধিক কর্মকর্তা জানান, উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় এরকম অপ্রয়োজনীয় ব্যয় প্রস্তাব পরিহার করতেই সব মন্ত্রণালয় ও বিভাগের সচিবদের সঙ্গে বৈঠক করবে পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়। ১৩ আগস্ট পরিকল্পনামন্ত্রী এমএ মান্নানের সভাপতিত্বে এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে। সেখানে সার্বিক উন্নয়নের বিষয়গুলোর পাশাপাশি প্রকল্পের আওতায় অতিরিক্ত পণ্যমূল্য, বিদেশ ভ্রমণ কিংবা অপ্রয়োজনীয় ব্যয় প্রস্তাবের বিষয়গুলো নিয়ে আলোচনা হবে।

প্রকল্পের প্রস্তাবনায় বলা হয়েছে, খুলনা সড়ক জোনের আওতাধীন বিভিন্ন সড়কে বেশকিছু বেইলি সেতু, সরু ও ঝুঁকিপূর্ণ কংক্রিট সেতু আছে। এগুলো পুরনো ও ঝুঁকিপূর্ণ হওয়ায় কখনও কখনও বেশি ওজনের পণ্যবাহী যানবাহনের কারণে ভেঙে পড়ে দুর্ঘটনা ঘটে। বর্তমানে খুলনা সড়ক জোনের বিভিন্ন সড়কে বিদ্যমান ক্ষতিগ্রস্ত, সরু ও ঝুঁকিপূর্ণ ২৫টি বেইলি ও ২৪টি পুরনো কংক্রিট সেতুর স্থলে নতুন কংক্রিট সেতু নির্মাণ করা হলে সড়কগুলো যানবাহন চলাচলে ঝুঁকি হ্রাস পাবে। এজন্য পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগ বেইলি ও সরু পুরনো সেতুর স্থলে মোট ৪৯টি নতুন কংক্রিট সেতু নির্মাণের জন্য প্রস্তাবিত প্রকল্পটি নেয়া হয়েছে।

প্রকল্পটি যেসব জেলায় বাস্তবায়িত হবে তা হল- খুলনা, বাগেরহাট, সাতক্ষীরা, যশোর, মাগুরা, নড়াইল, ঝিনাইদহ, কুষ্টিয়া ও চুয়াডাঙ্গা।

নিউজটি আপনার বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুন

এই ক্যাটাগরির আর নিউজ
© All rights reserved © vira-l.com 2017-2022
themesba-lates1749691102
Bengali English