করোনার কারণে এবার এক লেগেই হলো চ্যাম্পিয়ন্স লিগের কোয়ার্টার ফাইনাল ম্যাচ। দুই লেগের পরিবর্তে সিঙ্গেল ম্যাচ হওয়ায় অন্য যে কোনো বারের চেয়ে এবারের কোয়ার্টার ফাইনাল ছিল উত্তেজনায় ঠাসা। ৪টি কোয়ার্টার ফাইনালের ৪টিতেই ছিল ফুটবলের নান্দনিকার ছোঁয়া ও আধিপত্যের ছড়াছড়ি। এই মৌসুমের চ্যাম্পিয়ন্স লিগের কোয়ার্টার ফাইনালে দাপট দেখিয়েছে ফ্রান্স ও জার্মানির ক্লাব। সেমিফাইনালের ৪ দলের মধ্যে ফ্রান্স থেকে পিএসজি ও লিঁও শেষ ৪ জায়গা করে নিয়েছে। অপরদিকে জার্মানি থেকে জায়গা করে নিয়েছে বায়ার্ন মিউনিখ ও আরবি লাইপজিগ।
পিএসজি ও বায়ার্ন মিউনিখের শেষ ৪-এ জায়গা করে নেয়াটা বড় কোনো চমক ছিল না। কারণ এই মৌসুমে ফেবারিটের তালিকায় ছিল তারা। কিন্তু আরবি লাইপজিগ ও লিঁওর শেষ চারে জায়গা করে নেয়াটা ছিল চমকের চেয়েও বড় কিছু। কারণ এই ২টি দলই সেমিতে এসেছে এবারের আসরের ২ হট ফেবারিটকে হারিয়ে। লাইপজিগ কোয়ার্টার ফাইনালে মুখোমুখি হয়েছিল স্পেনের শক্তিশালী ক্লাব অ্যাতলেটিকো মাদ্রিদের বিপক্ষে জয় তুলে নিয়ে। ২০১৩ ও ২০১৬ সালে চ্যাম্পিয়ন্স লিগের ফাইনালে খেলা অ্যাতলেটিকোকে তারা হারায় ২-১ গোলের ব্যবধানে। অথচ লাইপজিগ এবারই প্রথমবারের মতো ইউরোপের শ্রেষ্ঠত্বের লড়াইয়ের কোয়ার্টার ফাইনালে খেলার যোগ্যতা অর্জন করে। তাছাড়া এই আরবি লাইপজিগ প্রতিষ্ঠা হয়েছিল মাত্র ১১ বছর আগে। এই ১১ বছরের মাথাই তারা শেষ চারে জায়গা করে নেয়। অথচ কেউই তাদের ফেবারিটের তকমা দেয়া তো দূরের কথা তাদের ফেবারিট হিসেবে চিন্তাও করেনি।
অপরদিকে লিঁওর অবস্থাও একই রকম। তারা যে সেমিফাইনালে খেলবে তা কেউ চিন্তা করেনি। অথচ তারাই কোয়ার্টার ফাইনালে ইতালির চ্যাম্পিয়ন জুভেন্টাসকে টপকে কোয়ার্টার ফাইনালে জায়গা করে নিয়েছিল। অবশ্য জুভেন্টাসের বিপক্ষে রাউন্ড ষোলতে ২ লেগ মিলিয়ে ২-২ গোলের ড্র করেছিল তারা। কিন্তু জুভেন্টাসের ঘরের মাঠে একটি গোল তুলে নেয়ায় অ্যাওয়ে গোলের হিসাবে এগিয়ে থাকায় জুভেন্টাসের বদলে তারা শেষ আটে জায়গা করে নেয়। এরপর কোয়ার্টার ফাইনালে তারা মুখোমুখি হয় ইংল্যান্ডের শক্তিশালী ক্লাব ম্যানচেস্টার সিটির বিপক্ষে। এই ম্যাচটিতেও চোখ বন্ধ করে ম্যানসিটিকে এগিয়ে রেখেছিল সবাই। কিন্তু শেষ পর্যন্ত চমক দেখিয়ে তারাই জায়গা করে নেয়।
সেমিফাইনালের অপর ২ দলের মধ্যে পিএসজিকে অবশ্য সেমিতে উঠতে ঘাম ঝরাতে হয়েছে। তারা কোয়ার্টার ফাইনালে মুখোমুখি হয় ইতালিয়ান ক্লাব আটলান্টার বিপক্ষে। সেই ম্যাচটিতে শেষ মুহূর্তে ২ গোল করে ২-১ গোলের জয় নিয়ে শেষ চারের টিকেট পেয়েছিল তারা। অপরদিকে বায়ার্ন মিউনিখ তো বার্সেলোনাকে ৮-২ গোলে রীতিমতো বিধ্বস্ত করে এরপর সেমিতে আসে।
এদিকে এখন জার্মানির ও ফ্রান্সের করে দল উঠায় এবার ফুটবল ভক্তরা অল জার্মান বা অল ফ্রান্স ফাইনাল দেখতে পারে। কারণ ২টি সেমিতেই মুখোমুখি হবে জার্মানি-ফ্রান্সের ক্লাব। প্রথম সেমিতে পিএসজি খেলবে আরবি লাইপজিগের বিপক্ষে। অপরদিকে লিঁও খেলবে বায়ার্ন মিউনিখের বিপক্ষে।