রবিবার, ১৮ জানুয়ারী ২০২৬, ০৮:৪০ পূর্বাহ্ন

সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায় ভেন্টিলেশনে

রিপোর্টারের নাম
  • প্রকাশিতঃ মঙ্গলবার, ১৩ অক্টোবর, ২০২০
  • ৪১ জন নিউজটি পড়েছেন

প্রখ্যাত অভিনেতা সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায়কে গতকাল সোমবার রাতে বাইপ্যাপ ভেন্টিলেশন দেওয়া হয়েছে। তিনি অনেকটা অচৈতন্য অবস্থায় রয়েছেন। তাঁর জ্বর ও শ্বাসকষ্ট রয়েছে।

চিকিৎসকরাও বলেছেন, আজ মঙ্গলবার সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায়ের ইসিজি ও ইকোর পরীক্ষা হবে। আগামীকাল বুধবার আবার তাঁর করোনার নমুনা পরীক্ষা করা হবে।

চিকিৎসকেরা জানান, সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায়ের ফুসফুসের এমআরআই করা হয়েছে। তেমন কিছু পাওয়া যায়নি। তাঁর প্রোস্টেট ক্যানসার ফুসফুস ও মস্তিষ্কে ছড়িয়ে পড়েছে। মূত্রনালিতেও সংক্রমণ ঘটেছে। তাঁকে অক্সিজেন দেওয়া হচ্ছে।

চিকিৎসকেরা বলেছেন, সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায়ের শরীরের বেশির ভাগ অঙ্গ কাজ করছে। তবে তাঁর স্নায়বিক সমস্যার এখনো উন্নতি হয়নি। শরীরে পটাশিয়াম ও সোডিয়ামের মাত্রাও ঠিক নেই। বেড়েছে কার্বন ডাই–অক্সাইডের পরিমাণ।

বেলভিউ নার্সিংহোমের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) প্রদীপ ট্যান্ডন গতকাল জানিয়েছেন, তাঁরা সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায়ের অন্য অসুখগুলো নিয়ে বেশি চিন্তিত। তাঁরা আশাবাদী, প্রবীণ এই তারকা শিগগিরই সুস্থ হয়ে যাবেন।

গত শনি ও রোববার সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায়ের শরীরে তিন ইউনিট প্লাজমা দেওয়া হয়েছে। রোববার তাঁর মস্তিষ্কের সিটিস্ক্যান করা হলে সংক্রমণ ধরা পড়ে।

রাজ্য সরকার সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায়ের চিকিৎসায় সহায়তা করার জন্য দুজন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক নিয়োগ দিয়েছে। চিকিৎসকেরা বলেছেন, সৌমিত্র কোভিড এনসেফেলোপ্যাথির শিকার হয়েছেন। এর অর্থ এখন তাঁর করোনা সংক্রমণ মস্তিষ্কেও প্রভাব ফেলেছে।

গত বছর সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায় নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত হয়ে চিকিৎসা নিয়েছিলেন। তিনি প্রোস্টেট ক্যানসার, সিওপিডি, প্রেশার, সুগারে ভুগছেন।

গত ৩০ সেপ্টেম্বর নিজের একটি বায়োপিকের শুটিংয়ের জন্য সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায় টালিগঞ্জের ভারতলক্ষ্মী স্টুডিওতে যান। সেখানে তাঁর শুটিংয়ের জন্য উপস্থিত ছিলেন কলাকুশলীসহ ২৫ থেকে ৩০ জন কর্মী। এখানেই শুটিংয়ের সময় তিনি অসুস্থ হয়ে পড়েন। এরপর শুটিং শেষে তাঁকে বাড়িতে নিয়ে যাওয়া হয়।

১ অক্টোবর থেকে সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায়ের জ্বর হয়। গত ৫ অক্টোবর তাঁর করোনার পজিটিভ রিপোর্ট আসে। ৬ অক্টোবর তাঁকে বেলভিউ নার্সিংহোমে ভর্তি করা হয়।
সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায়ের বয়স এখন ৮৫ বছর। ১৯৩৫ সালের ১৯ জানুয়ারি তিনি জন্মগ্রহণ করেন পশ্চিমবঙ্গের নদীয়া জেলার কৃষ্ণনগরে। পড়াশোনা করেন হাওড়া জেলা স্কুল, স্কটিশ চার্চ কলেজ, কলকাতার সিটি কলেজ এবং কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ে।

বাংলা চলচ্চিত্রের এই দিকপাল ২০১২ সালে পেয়েছেন ভারতের চলচ্চিত্র অঙ্গনের সর্বোচ্চ রাষ্ট্রীয় সম্মান দাদাসাহেব ফালকে পুরস্কার। এ ছাড়া আরও পেয়েছেন দেশ-বিদেশের বহু পুরস্কার। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য ফ্রান্সের ‘লেজিয়ঁ দ্য নর’ পুরস্কার (২০১৮)। পেয়েছেন ভারতের রাষ্ট্রীয় সম্মান পদ্মভূষণসহ (২০০৪) ভারতের জাতীয় চলচ্চিত্র, সংগীত নাটক একাডেমি, ফিল্ম ফেয়ার পুরস্কারসহ নানা পুরস্কার।

নিউজটি আপনার বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুন

এই ক্যাটাগরির আর নিউজ
© All rights reserved © vira-l.com 2017-2022
themesba-lates1749691102
Bengali English