রবিবার, ১৮ জানুয়ারী ২০২৬, ১১:৪৪ অপরাহ্ন

স্ত্রী-মেয়ে-শ্যালিকাসহ এমপি পাপুলের ৬১৭ অ্যাকাউন্ট ফ্রিজ, সম্পত্তি ক্রোক

রিপোর্টারের নাম
  • প্রকাশিতঃ রবিবার, ২৭ ডিসেম্বর, ২০২০
  • ৪৮ জন নিউজটি পড়েছেন

লক্ষ্মীপুর-২ আসনের সংসদ সদস্য কাজী শহিদ ইসলাম পাপুল ও তার স্ত্রী সংরক্ষিত নারী সদস্য সেলিনা ইসলামসহ চার জনের ৬১৭টি ব্যাংক হিসাব ফ্রিজ এবং ৯২টি তফসিলভুক্ত স্থাবর সম্পত্তি ক্রোকের নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।

রোববার ঢাকা মহানগর সিনিয়র স্পেশাল জজ কেএম ইমরুল কায়েশ এ আদেশ দেন।

দুর্নীতি দমন কমিশনের মামলায় দুদকের পক্ষ থেকে পাপুলের পরিবারের এসব ব্যাংক হিসাব ফ্রিজ ও তফসিলভুক্ত স্থাবর সম্পত্তি ক্রোকের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে বিচারক এ আদেশ দেন।

দুদকের আইনজীবী মাহমুদ হোসেন জাহাঙ্গীর বলেন, দুদক পাপুল, তার স্ত্রী, মেয়ে ও শ্যালিকার ৬১৭টি ব্যাংক হিসাব জব্দের আবেদন করে। আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে বিচারক ব্যাংক হিসাবগুলো জব্দের নির্দেশ দেন।

তিনি বলেন, পাপুলের ১৪৮টি, স্ত্রী সেলিনা ইসলামর ৩৪৫টি, মেয়ে ওয়াফা ইসলামের ৭৬টি ও শ্যালিকা জেসমিন প্রধানের ৪৮টি ব্যাংক হিসাব জব্দের নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।

পাপুল কুয়েতে গ্রেফতার হওয়ার পর ১১ নভেম্বর তিনিসহ তার স্ত্রী এমপি সেলিনা, শ্যালিকা জেসমিন প্রধান এবং মেয়ে ওয়াফা ইসলামের বিরুদ্ধে একটি মামলা করে দুদক।

মামলায় অভিযোগ করা হয়, পাপুলের শ্যালিকা জেসমিন শিক্ষার্থী থাকাবস্থায় দুই কোটি ৩১ লাখ ৩৭ হাজার ৭৩৮ টাকার অবৈধ সম্পদ অর্জন করেছেন।

এ ছাড়া ‘কাগুজে প্রতিষ্ঠানের’ আড়ালে জেসমিন পাঁচ ব্যাংকের মাধ্যমে ২০১২ থেকে ২০২০ সালের অক্টোবর পর্যন্ত ১৪৮ কোটি টাকা হস্তান্তর, রূপান্তর ও স্থানান্তরের মাধ্যমে অর্থপাচার করেছেন বলে অভিযোগে বলা হয়।

মামলায় প্রধান আসামি জেসমিনের বিষয়ে বলা হয়, তিনি শিক্ষার্থী থাকাবস্থায় বোন সেলিনা ইসলাম ও ভগ্নিপতি শহীদ ইসলাম পাপুলের অবৈধ অর্জিত অর্থ মানিলন্ডারিং করে বৈধতায় রূপ দিতে ‘লিলাবালি’ নামে একটি কাগুজে প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলেন।

বিভিন্ন ব্যাংকে তার নামে প্রায় ৪৪টি হিসাব পাওয়া গেছে। যেখানে শুধু এনআরবি কমার্শিয়াল ব্যাংকেই রয়েছে ৩৪টি এফডিআর হিসাব। আসামি শহীদ ইসলাম পাপুল এনআরবি কমার্শিয়াল ব্যাংকের পরিচালক ছিলেন, বিধায় এ সুবিধা গ্রহণ করতে তার কোনো বেগ পেতে হয়নি।

এসব অভিযোগে গত ১৭ জুন পাপুলের স্ত্রী, মেয়ে ও শ্যালিকার দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে দুর্নীতিবিরোধী সংস্থাটি।

দুদকের অনুসন্ধানে দেখা যায়, অন্তত ৪৪টি ব্যাংক হিসাবে ১৪৮ কোটি টাকা লেনদেন হয়েছে।

এ ছাড়া সেলিনা ইসলামের নামে ২৯৫টি এফডিআরে ২০ কোটি ৮৬ লাখ টাকা, জেসমিনের নামে ২০টি এফডিআরে ১ কোটি, পাপুলের ২৩টি এফডিআরে ২ কোটি ১৮ লাখ এবং মেয়ে ওয়াফা ইসলামের নামে ৪১টি এফডিআরে ২ কোটি ২৯ লাখ টাকা রয়েছে।

নিউজটি আপনার বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুন

এই ক্যাটাগরির আর নিউজ
© All rights reserved © vira-l.com 2017-2022
themesba-lates1749691102
Bengali English