শনিবার, ১৭ জানুয়ারী ২০২৬, ০৫:২১ অপরাহ্ন

হঠাৎ করোনার প্রকোপ বৃদ্ধিতে ঢাবিতে আতঙ্ক

রিপোর্টারের নাম
  • প্রকাশিতঃ বৃহস্পতিবার, ২৬ নভেম্বর, ২০২০
  • ৫১ জন নিউজটি পড়েছেন

করোনা পরিস্থিতির শুরুতে কড়াকড়ি লকডাউনের মধ্যে ছিল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস। এসময়ে ক্যাম্পাস এলাকায় বহিরাগতদেরও চলাচলও ছিলো সীমাবদ্ধ। কিন্তু পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতি হওয়ায় শিথিল হয়ে যায় কড়া লকডাউন। এরই মধ্যে ক্যাম্পাস এলাকায় বৃদ্ধি পেয়েছে করোনার প্রকোপ।

বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসের শিক্ষক, কর্মকর্তা-কর্মচারী ও তাদের পরিবারসহ অন্তত অর্ধশতাধিক ব্যক্তি করোনায় আক্রান্ত হয়েছে। এ নিয়ে আতঙ্ক দেখা দিয়েছে শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের মধ্যে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, কর্মকর্তা-কর্মচারীদের দেয়া তথ্যানুযায়ী, বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের অফিসের এক কর্মকর্তা পরিবার সহ করোনায় আক্রান্ত হন। বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজবিজ্ঞান বিভাগের এক শিক্ষক করোনায় আক্রান্ত হয়ে পুরো পরিবার সহ বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে (বিএসএমএমইউ) ভর্তি ছিলেন দীর্ঘদিন। তবে এখন কিছুটা সুস্থ হয়ে বাসায় ফিরেছেন। এর বাইরে যোগাযোগ বৈকল্য বিভাগ, রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের দুজন শিক্ষক এ ব্যাধিতে আক্রান্ত হয়েছেন।

এছাড়াও বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ভবনে কর্মরত পরিবহন ম্যানেজার, পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক অফিসের সহকারী রেজিস্ট্রার, মুদ্রণালয় অফিসের একজন, হিসাব পরিচালকের অফিসের একজন, রেজিস্ট্রার অফিসের একজন, পরিকল্পনা ও উন্নয়ন অফিসের একজনসহ প্রশাসনিক দায়িত্বে থাকা অনেকেই করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন। সর্বশেষ গত সোমবার না ফেরার দেশে চলে যান টিএসসির সাবেক পরিচালক আলমগীর হোসেন।

বিশ^বিদ্যালয়ের বেশ কয়েকজন কর্মকর্তা জানান, প্রথমদিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক কার্যক্রমের সময়সীমা ১টা পর্যন্ত থাকায় সবাই বিশ^বিদ্যালয় এলাকার ভিতরে থাকতো। কিন্তু সাম্প্রতিক তিনটা পর্যন্ত সময় বাড়ানোর কারণে দুপুরে নাস্তা করার জন্য অনেকেই নীলক্ষেত ও অন্যান্য দিকে বের হয়। সেখান থেকেই আক্রান্ত হওয়ার সম্ভাবনা অনেক বেশী। করোনা পজিটিভ হলেও ঘুরে বেড়ান পরিবহন ম্যানেজার

চলতি মাসের ১১ তারিখে করোনা পজিটিভ হয়েছিলো বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবহন ম্যানেজার কামরুল হাসানের। তার উপসর্গ দেখা দেয় ৭ তারিখে। কিন্তু এরপরও উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের বাসা বরাদ্দের বেশ কয়েকটি অফিসিয়াল সভায়। ১১ তারিখ করোনা পজিটিভ আসার পর ১৩ তারিখ বিশ^বিদ্যালয়ের টিএসসি এলাকায় জন্মদিন উদযাপন করেন তিনি। এছাড়াও রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে ব্যায়াম করতে আসেন নিয়মিত। সর্বশেষ ২২ তারিখের পরীক্ষায় তার করোনা ফের পজিটিভ আসলেও ২৩ তারিখ এসেছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার ভবনে।

অভিযোগের বিষয়ে তিনি বলেন, করোনা উপসর্গ দেখা দেয়ার পর আমার শারীরিক কোন সমস্যা ছিলো না। তাই আমি সভাগুলোতে উপস্থিত ছিলাম। আর ১৩ তারিখ মেয়ের জন্মদিন থাকায় টিএসসিতে তা উদযাপন করেছিলাম। সেদিন বন্ধের দিন ছিলো তাই টিএসসিতে কেউ ছিলো না। তবে খোঁজ নিয়ে জানা যায়, ওইদিন শুক্রবার ছিলো। বন্ধের দিনগুলোতে বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসি এলাকায় লোকে লোকারণ্য থাকে। নিয়ম-নীতি না মানার বিষয়ে তিনি বলেন, আমি সব নিয়ম মেনে চলি। আইসোলেশনে আছি। আইসোলেশনে থাকলে কিভাবে ব্যায়াম করতে বের হন তা জানাতে পারেন নি তিনি।

এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড. এ কে এম গোলাম রাব্বানী বলেন, এ পরিস্থিতিতে সবাইকে ব্যক্তিগত জায়গা থেকে সচেতন থাকতে হবে। আমি এ বিষয়ে খোঁজ নিচ্ছি।

মাস্ক ব্যবহারে কড়াকড়ি

এদিকে করোনা আক্রান্তের হার বেড়ে যাওয়া ও সংক্রমণের দ্বিতীয় ঢেউ প্রতিরোধের অংশ হিসেবে গত বেশ কিছুদিন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে মাস্ক ব্যবহার ছাড়া জনসাধারণের প্রবেশ নিষিদ্ধ করেছে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। এর জন্য প্রতিনিয়ত মাইকিং করছে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টরিয়াল টিম। এছাড়া অপ্রয়োজনে সন্ধ্যা ছয়টার পর কাউকে ঢুকতে দেয়া হবে না ক্যাম্পাসে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড. এ কে এম গোলাম রাব্বানী বলেন, গত দুই সপ্তাহ হঠাৎ বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় করোনা আক্রান্তের হার বেড়েছে। এর জন্য আমরা সচেতনতামূলক কর্মসূচি গ্রহণ করেছি। এখন থেকে বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় মাস্ক ছাড়া প্রবেশ সম্পূর্ণভাবে নিষেধ এবং প্রশাসন নো মাস্ক-নো সার্ভিস রুলস কঠোরভাবে ফলো করছে। এর বাইরে অপ্রয়োজনে বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় অবস্থানকে নিরুৎসাহিত করছে।

নিউজটি আপনার বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুন

এই ক্যাটাগরির আর নিউজ
© All rights reserved © vira-l.com 2017-2022
themesba-lates1749691102
Bengali English