শুক্রবার, ১৬ জানুয়ারী ২০২৬, ০৭:০০ পূর্বাহ্ন

হাইতির প্রেসিডেন্ট খুনের সেই মুহূর্তের বিবরণ দিলেন তার স্ত্রী

অনলাইন ডেস্ক
  • প্রকাশিতঃ রবিবার, ১১ জুলাই, ২০২১
  • ৪৪ জন নিউজটি পড়েছেন
হাইতির প্রেসিডেন্ট খুনের সেই মুহূর্তের বিবরণ দিলেন তার স্ত্রী

হাইতির নিহত প্রেসিডেন্ট জোভেনেল ময়িসের স্ত্রী মার্টিন ময়িস বন্দুকধারীদের হামলায় আহত হওয়ার পর এ নিয়ে প্রথম মুখ খুলেছেন।
মধ্যরাতে ভাড়াটে ঘাতকরা আচমকাই বাড়িতে ঢুকে চোখের সামনেই কীভাবে গুলিতে ঝাঁঝরা করে দিয়েছে স্বামীকে সেই দৃশ্য রোববার বর্ণনা করেছেন তিনি।

মার্টিন ময়িস বলেন, হামলা এত দ্রুত ঘটেছে যে তার স্বামী জোভেনেল ময়িস একটি কথা পর্যন্ত বলতে পারেননি।

বিবিসি জানায়, গত ৭ জুলাই ২৮ জন বিদেশি ভাড়াটে ঘাতক প্রেসিডেন্ট জোভেনেল ময়িসের বাসভবনে হামলা চালিয়ে তাকে হত্যা করে।

এ হামলায় প্রেসিডেন্টের স্ত্রী মার্টিন ময়িসও আহত হন। চিকিৎসার জন্য তাকে যুক্তরাষ্ট্রে ফ্লোরিডা রাজ্যের মায়ামিতে নেওয়া হয়। শনিবার মার্টিন তার টুইটার পেজে একটি ‘ভয়েস মেসেজ’ পোস্ট করেছেন। বার্তাটি যে মার্টিনেরই তা নিশ্চিত করে জানিয়েছে একাধিক সূত্র।

এ বার্ততেই মার্টিন স্বামী হত্যার সেই মুহূর্তের বর্ণনা দিয়ে বলেছেন, “মধ্যরাতে চোখের পলকে ভাড়াটে হত্যাকারীরা বাড়িতে ঢুকে আমার স্বামীকে গুলিতে ঝাঁজরা করে দিল… তাকে একটি কথা বলারও সুযোগ দেওয়া হয় নি।”

রাজনৈতিক কারণে তার স্বামীকে নিশানা করা হয়েছে বলে ইঙ্গিত দিয়েছেন মার্টিন। বলেছেন, বিশেষ করে সংবিধান পরিবর্তনে গণভোট পরিকল্পনার কারণে এ হত্যাকাণ্ড ঘটানো হয়ে থাকতে পারে। হামলাকারীরা প্রেসিডেন্টের স্বপ্নকে হত্যা করতে চায় বলেও জানান মার্টিন।

তিনি বলেন, “হামলার ঘটনায় আমি বেঁচে গেছি। কিন্তু আমি আমার স্বামীকে হারিয়েছি।”

নিহত প্রেসিডেন্ট ময়িসের কাজ এগিয়ে নেওয়ার অঙ্গীকার করে মার্টিন বলেন, “আমি কাঁদছি, এটা ঠিক। কিন্তু আমরা দেশকে পথ হারা হতে দিতে পারি না। আমার স্বামী, আমাদের প্রেসিডেন্টকে আমরা অনেক ভালোবাসি। তিনিও আমাদেরকে ভালবাসতেন। তার রক্ত আমরা বৃথা যেতে দিতে পারি না।”
৫৩ বছর বয়সী জোভেনেল ময়িস ২০১৭ সালের ফেব্রুয়ারি থেকে হাইতির প্রেসিডেন্ট পদে ছিলেন। তার বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগে উঠেছিল। তার আমলে দেশটি প্রায়ই সহিংস সরকারবিরোধী বিক্ষোভে জর্জরিত হয়েছে। এ বছরের শুরুতেও হাইতির রাজধানী ও অন্যান্য কয়েকটি শহরে ময়িসের পদত্যাগের দাবিতে ব্যাপক বিক্ষোভ হয়েছিল।

লাগাতার অস্থিতিশীলতা, রাজনৈতিক বিভাজন, প্রাকৃতিক দুযোর্গ-দুর্বিপাক ও মানবিক সঙ্কটে উত্তর আমেরিকা মহাদেশের অন্যতম গরিব দেশে পরিণত হয়েছে হাইতি। দেশটিতে রাজনৈতিক সহিংসতা বাড়তে থাকার মধ্যে প্রেসিডেন্ট ময়িস খুন হয়েছেন।

তাকে হত্যার নির্দেশদাতা কে এবং হত্যাকাণ্ডের উদ্দেশ্যই বা কী তা এখনও স্পষ্ট নয়। হাইতি কর্তৃপক্ষ বলছে, হত্যাকাণ্ডে ২৮ জনের সংশ্লিষ্টতা আছে।

এদের ২৬ জন কলম্বিয়ার এবং দুজন হাইতি বংশোদ্ভূত মার্কিন নাগরিক। এরাই প্রেসিডেন্টে বাড়িতে ঢুকে গুলি চালিয়েছিল। ঘাতক দলের ১৭ জন এ পর্যন্ত গ্রেপ্তার হয়েছে এবং ৩ জন পুলিশের সঙ্গে গোলাগুলিতে নিহত হয়েছে।

নিউজটি আপনার বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুন

এই ক্যাটাগরির আর নিউজ
© All rights reserved © vira-l.com 2017-2022
themesba-lates1749691102
Bengali English