হারারেতে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে একমাত্র টেস্টের প্রথম দিন শুধু হতাশা দেখাচ্ছে বাংলাদেশ। ৯ ব্যাটসম্যান নিয়েও স্বাগতিকদের সামনে থিতু হতে পারছেন না বাংলাদেশের ক্রিকেটারেরা। একে একে উইকেট হারিয়ে ব্যাটিং বিপর্যয়ে পড়েছে সফরকারীরা। এর মধ্যে কিছুটা আশা দেখিয়েছিল মুমিনুল হকের ব্যাট। কিন্তু থিতু হয়েও টিকে থাকতে পারলেন না তিনি। অধিনায়কের বিদায়ে পর হাল ধরেছেল লিটন-মাহমুদউল্লাহ। এই জুটিতে ২০০ ছাড়িয়েছে বাংলাদেশ।
টেস্টের প্রথম দিনের দ্বিতীয় সেশনে চা বিরতিতে যাওয়ার আগে সাজঘরে ফেরেন মুমিনুল। তখন বাংলাদেশের রান ছিল ১৩২। যার অর্ধেকই আসে মুমিনুলের ব্যাট থেকে। ৯২ বল মোকাবিলা করে ১৩ বাউন্ডারিতে ৭০ রান করেছেন বাংলাদেশ অধিনায়ক।
এ প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত বাংলাদেশের সংগ্রহ ছয় উইকেটে ২১১ রান। উইকেটে লড়ছেন লিটন দাস ও সুযোগ পাওয়া মাহমুদউল্লাহ। এরই মধ্যে হাফসেঞ্চুরি করেছেন লিটন।
এদিন টসে জিতে ব্যাট করতে নামা বাংলাদেশের শুরুটা মোটেও ভালো হয়নি। ৮ রান তুলতেই দুই উইকেট হারিয়ে বসে বাংলাদেশ। ওপেনিংয়ে নামা সাদমান ইসলাম ও সাইফ হাসান দুজনেই ব্যর্থ হন। আস্থার প্রতিদান দিতে পারেননি তিনে নামা নাজমুল হোসেন শান্ত।
তিন টপঅর্ডার ব্যাটসম্যানকে হারিয়ে মুশফিকুর রহিমকে নিয়ে সামাল দেওয়ার চেষ্টা করেন মুমিনুল। কিন্তু ১১ রানের মাথায় ব্লেসিং মুজারাবানির করা ভেতরে ঢোকা ডেলিভারি ছেড়ে দিয়ে এলবিডব্লিউ হন মুশফিকুর রহিম। অবশ্য টিভি রিপ্লেতে দেখা যায় বল স্টাম্পের ওপর দিয়ে চলে যাচ্ছিল। কিন্তু বল না বুঝেই ছেড়ে দিলেন তিনি।
মুশফিককে হারানোর পরপরই আরেকটি ধাক্কা খায় বাংলাদেশ। দলে ফেরা সাকিব এই ম্যাচেও দেখান ব্যর্থতা। ভিক্টর নিয়াউচির অনেক বাইরের বল মোকাবিলা করতে গিয়ে দুই রানে উইকেটের পেছনে ক্যাচ তুলে দেন বিশ্বসেরা অলরাউন্ডার।
ম্যচটিতে বাংলাদেশ দলে ৯ জন ব্যাটসম্যান নেওয়া হয়েছে। দলে সুযোগ পেয়েছেন মাহমুদউল্লাহ। গত বছরের ফেব্রুয়ারিতে পাকিস্তানের বিপক্ষে সর্বশেষ টেস্ট খেলেছিলেন তিনি।
আইসিসি টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপে নেই জিম্বাবুয়ে। তাই সাধারণ টেস্টের আদলেই হবে এই লড়াই। তবে টেস্ট ক্রিকেটের তলানির দল হওয়ায় দুদলই চাইবে ম্যাচটি জিততে। সেই হিসেবে ঘরের মাঠ বিবেচনায় চ্যালেঞ্জিং হবে বাংলাদেশের জন্য। মাঠে নেমে সেই চিত্রই দেখাচ্ছে মুমিনুল হকের দল।
বাংলাদেশ একাদশ: সাইফ হাসান, সাদমান ইসলাম, নাজমু হোসেন শান্ত, মুমিনুল হক (অধিনায়ক), মুশফিকুর রহিম, সাকিব আল হাসান, মাহমুদউল্লাহ, লিটন দাস, মেহেদী হাসান মিরাজ, তাসকিন আহমেদ, ইবাদত হোসেন চৌধুরী।
জিম্বাবুয়ে একাদশ: টাকুদজয়নাশে কাইটানো, রয় কাইয়া, রেজিস চাকাভা, ব্রেন্ডন টেইলর (অধিনায়ক), টিমাইসেন মারুমা, ডিওন মায়ার্স, মিল্টন শুম্বা, ডোনাল্ড টিরিপানো, ভিক্টর নিয়াউচি, রিচার্ড এনগারাভা, ব্লেসিং মুজারাবানি।