রবিবার, ১৮ জানুয়ারী ২০২৬, ১২:৩৬ পূর্বাহ্ন

হিংসার আগুনে পুড়ে ছারখার

রিপোর্টারের নাম
  • প্রকাশিতঃ বুধবার, ৩০ সেপ্টেম্বর, ২০২০
  • ৪৬ জন নিউজটি পড়েছেন

কিছু মানুষের স্বভাব হলো, অন্যের পেছনে লেগে থাকা। কাকে কিভাবে বিপদে ফেলা যায় সারা দিন সেই ফন্দি-ফিকির করা। এরা মুমিনদের ফিতনায় ফেলে দিতে পছন্দ করে।

হিংসুকরা সাধারণত নিছক সন্দেহ কিংবা হিংসার বশবর্তী হয়েই অন্যের প্রতি হিংসা করে। অন্যকে বিপদে ফেলতে যারপরনাই চেষ্টা করে। সারাক্ষণ অন্যের দোষ তালাশ ও দোষচর্চায় মেতে থাকে। অন্যের জনপ্রিয়তা নষ্ট করার জন্য মিথ্যার আশ্রয় নেয়। এভাবে সারাক্ষণ অন্যের পেছনে লেগে থাকা কোনো মুমিনের কাজ হতে পারে না। পবিত্র কোরআনে মহান আল্লাহ বলেন, ‘হে ঈমানদাররা! তোমরা অধিক অনুমান থেকে দূরে থেকো। কারণ কোনো কোনো অনুমান পাপ এবং তোমরা একে অন্যের গোপনীয় বিষয় সন্ধান কোরো না এবং একে অন্যের গিবত কোরো না। তোমাদের মধ্যে কি কেউ তার মৃত ভাইয়ের গোশত খেতে চাইবে? বস্তুত তোমরা তো একে ঘৃণ্যই মনে করো। আর তোমরা আল্লাহর তাকওয়া অবলম্বন করো; নিশ্চয়ই আল্লাহ তাওবা গ্রহণকারী, পরম দয়ালু।’ (সুরা : হুজরাত, আয়াত : ১২)

প্রিয় নবী (সা.) এসব কাজ পছন্দ করতেন না। তিনি সাহাবায়ে কেরামকে এসব কাজ থেকে বিরত থাকার জন্য সর্বদা সতর্ক করতেন। আবু হুরায়রা (রা.) বলেন, রাসুল (সা.) বলেছেন, ‘তোমরা ধারণা (সন্দেহ) করা থেকে বেঁচে থেকো। কেননা সন্দেহ করা হচ্ছে সবচেয়ে বড় মিথ্যা। কারো দোষ অনুসন্ধান কোরো না, দোষ বের করার জন্য গুপ্তচরবৃত্তি কোরো না, একে অন্যের হিংসা কোরো না, পরস্পরে সম্পর্কচ্ছেদ কোরো না। ভ্রাতৃবন্ধনে আবদ্ধ আল্লাহর বান্দা হয়ে যাও। (বুখারি, হাদিস : ৬৭২৪)

হিংসুকরা অন্যের অগ্রগতি দেখলে (হোক তা ধন-সম্পদ, মানসম্মান, প্রভাব-প্রতিপত্তি, জ্ঞান-বুদ্ধি, ব্যবসায় সাফল্য কিংবা সুখ-শান্তি ইত্যাদি) তাদের অন্তরটা পুড়ে যায়। তারা চায় আল্লাহ প্রদত্ত এই নিয়ামতগুলো ধ্বংস করে দিতে; আল্লাহর নিয়ামতপ্রাপ্ত মানুষগুলোকে কোণঠাসা করে দিতে; মানুষের কাছে তাদের অপ্রিয় করে তুলতে। অথচ মহান আল্লাহ কাউকে সফলতা দিতে চাইলে তাকে ব্যর্থ করার ক্ষমতা দুনিয়ার কারো নেই। পবিত্র কোরআনে মহান আল্লাহ বলেন, ‘আল্লাহ মানুষের প্রতি কোনো অনুগ্রহ অবারিত করলে কেউ তা নিবারণকারী নেই এবং তিনি কিছু নিরুদ্ধ করতে চাইলে কেউ তার উন্মুক্তকারী নেই। আর তিনি পরাক্রমশালী, প্রজ্ঞাবান। (সুরা : ফাতির, আয়াত : ২)

অর্থাৎ মহান আল্লাহ কারো প্রতি রহমতের দৃষ্টি দিলে কেউ তার ক্ষতি করতে পারবে না। এমনকি পুরো পৃথিবী তার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হলেও তার কিছুই করতে পারবে না। একবার রাসুল (সা.) ইবনে আব্বাস (রা.)-কে বলেন, ‘জেনে রেখো, যদি সব মানুষ তোমার কোনো উপকারের উদ্দেশ্যে ঐক্যবদ্ধ হয় তাহলে ততটুকু উপকার করতে পারবে, যতটুকু আল্লাহ তাআলা তোমার জন্য লিখে রেখেছেন। অন্যদিকে যদি সব মানুষ তোমার কোনো ক্ষতি করার উদ্দেশ্যে একতাবদ্ধ হয়, তাহলে ততটুকু ক্ষতি করতে সক্ষম হবে, যতটুকু আল্লাহ তাআলা তোমার তাকদিরে লিখে রেখেছেন।’ (তিরমিজি, হাদিস : ২৫১৬)

উপরন্তু হিংসা করে অন্যকে বিপদে ফেলার অপচেষ্টা মানুষের নেক আমলকে নীরবে ধ্বংস করে দেয়। এভাবেই হিংসুক নিজেই তার হিংসার আগুনে ভস্মীভূত হয়ে যায়। অন্যের জন্য গর্ত করে সে গর্তে নিজেই পড়ে যায়। তাই অন্যের সাফল্যে হিংসা না করে নিজে সফল হওয়ার চেষ্টা করা উচিত। মহান আল্লাহর কাছে সাফল্যের জন্য দোয়া করা উচিত।

কেউ হিংসুকের ষড়যন্ত্রের শিকার হলে তাদের উচিত ধৈর্যসহকারে মহান আল্লাহর সাহায্য চাওয়া। ইনশাআল্লাহ হিংসুকের কোনো ষড়যন্ত্রই কার্যকর হবে না। পবিত্র কোরআনে মহান আল্লাহ বলেন, ‘তোমাদের মঙ্গল হলে তা তাদেরকে কষ্ট দেয় আর তোমাদের অমঙ্গল হলে তারা তাতে আনন্দিত হয়। তোমরা যদি ধৈর্যশীল হও এবং মুত্তাকি হও তবে তাদের ষড়যন্ত্র তোমাদের কোনো ক্ষতি করতে পারবে না। তারা যা করে নিশ্চয় আল্লাহ তা পরিবেষ্টন করে রয়েছেন।’ (সুরা : আলে ইমরান, আয়াত : ১২০)

মহান আল্লাহ সবাইকে এই নিকৃষ্ট অভ্যাস ত্যাগ করার তাওফিক দান করুন।

নিউজটি আপনার বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুন

এই ক্যাটাগরির আর নিউজ
© All rights reserved © vira-l.com 2017-2022
themesba-lates1749691102
Bengali English