রবিবার, ১৮ জানুয়ারী ২০২৬, ০৯:৩০ পূর্বাহ্ন

১৭ বছর ধরে ঝুলে আছে ইয়াবার প্রথম মামলা

রিপোর্টারের নাম
  • প্রকাশিতঃ রবিবার, ১৪ ফেব্রুয়ারী, ২০২১
  • ৪৬ জন নিউজটি পড়েছেন

১৭ বছর ধরে ঝুলে আছে দেশের প্রথম ইয়াবা মামলার বিচার। মামলার দেড় যুগ পরেও এজাহারভুক্ত দুই আসামিকে গ্রেফতার করতে পারেনি পুলিশ। গ্রেফতারকৃত প্রধান আসামিসহ তিন জন এখন জামিনে রয়েছে। মামলার ১৫ জন সাক্ষীর মধ্যে মাত্র দুই জন আদালতে সাক্ষ্য দিয়েছেন। বাকিদের জামিন অযোগ্য গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেও আদালতে হাজির করা যায়নি।

পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) এ এফ এম রেজাউল করিম হিরণ বলেন, মামলাটি পরিবেশ আদালতে বিচারাধীন। পরিবেশ আদালতের আপিল বিভাগে বিচারক না থাকাও বিচার বিলম্বিত হওয়ার উল্লেখযোগ্য কারণ। গত বছরের জুন থেকে এই মামলার কোর্টের বিচারক নেই। মূলত করোনাকালীন ছুটিজনিত কারণে গত বছরের মার্চ মাস থেকেই এই মামলার কোনো অগ্রগতি নেই।

সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, ২০০২ সালের ডিসেম্বর মাসে গুলশানের নিকতনে প্রথম ইয়াবা উদ্ধার করে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর। গ্রেফতার হয় মাদক ব্যবসায়ী সফিকুল ইসলাম ওরফে জুয়েল। তার দেওয়া তথ্যমতে, রামপুরার বনশ্রী এলাকায় অভিযান চালিয়ে তার দুই সহযোগী শামছুল ইসলাম ও রফিকুল ইসলামকে গ্রেপ্তার করা হয়। ইয়াবা উদ্ধারের ঘটনায় ১৯ ডিসেম্বর গুলশান থানায় মামলা দায়ের করে মাদক নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের তত্কালীন পরিদর্শক এনামুল হক। মামলা তদন্ত শেষে ২০০৩ সালের ১৪ জানুয়ারি ছয় জনকে অভিযুক্ত করে আদালতে চার্জশিট দেয় মাদক নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর। অভিযোগপত্রে সফিকুল ও তার তিন সহযোগী সোমনাথ সাহা, মোশফিক ও এমরান হকের বিরুদ্ধে মাদক ব্যবসার সঙ্গে সরাসরি জড়িত থাকার প্রমাণ পাওয়ার বিষয়টি উল্লেখ করা হয়। এছাড়া সফিকুলের বাবা শামছুল ও ভাই শরিফুল মাদক ব্যবসায় সহযোগিতা করে অপরাধ করেছে বলেও চার্জশিটে বলা হয়।

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা বর্তমানে মাদক নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের গোয়েন্দা শাখার পরিদর্শক হেলাল উদ্দিন ভূইয়া বলেন, ‘ট্যাবলেটগুলো ধরা পড়ার পর রাসায়নিক পরীক্ষার মাধ্যমে আমরা ইয়াবার বিষয়টি নিশ্চিত হই। চ্যাঞ্চল্যকর এই মামলার তদন্তে নেমে দেশে ইয়াবা ব্যবসার সঙ্গে জড়িত ছয় জনকে অভিযুক্ত করে আদালতে চার্জশিট দিই। এটি দেশে ইয়াবার প্রথম মামলা। মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা হিসেবে আসামিদের সর্বোচ্চ শাস্তি প্রত্যাশা করি।’

আদালত সূত্রে জানা গেছে, দীর্ঘদিন ধরে বিচারাধীন থাকা এই মামলা ২০১৬ সালে পরিবেশ আদালতের আপিল বিভাগে হস্তান্তর করা হয়। তবে এই আদালতে বিচারক না থাকায় মামলাটি বিচারহীন অবস্থায় পড়ে আছে। পরিবেশ আদালতের আপিল বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, পরিবেশ-সংক্রান্ত মামলার বাইরে যে মামলাগুলোর বিচার দীর্ঘদিন আটকে আছে, সাক্ষী হাজির করতে পারছে না, সেসব মামলা এখানে হস্তান্তর করা হচ্ছে।

জানা গেছে, বারবার সমন জারি করেও আদালতে সাক্ষী হাজির করা যাচ্ছে না। ১৫ জন সাক্ষীর মধ্যে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের উপপরিদর্শক ফজলুর রহমান ও পরিদর্শক হেলাল উদ্দিন আদালতে সাক্ষ্য দিয়েছেন। বাকি ১৩ জনের বিরুদ্ধে জামিন অযোগ্য গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেছে আদালত। আদালত সূত্রে জানা গেছে, ইয়াবার প্রথম মামলায় এজহারভুক্ত দুই আসামি এখনো পলাতক রয়েছে। এরা হলো সোমনাথ সাহা ও এমরান হক। গ্রেপ্তারকৃত তিন আসামি বর্তমানে জামিনে রয়েছে। ইয়াবার প্রথম মামলায় ১৫ জন সাক্ষীর মধ্যে মাত্র চার জন সাধারণ জনগণ। বাকি ১১ জনই মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের কর্মকর্তা, যাদের মধ্যে বেশ কয়েক জন চাকরির মেয়াদ শেষে অবসরে গেছেন। একাধিক আইনজীবী বলেন, সাক্ষীকে আদালতে হাজির করানোর দায়িত্ব পুলিশের। কিন্তু নিজে পুলিশ সদস্য হয়েও অনেকেই সাক্ষ্য দিতে যাচ্ছেন না। এতে থেমে থাকছে মাদক মামলার বিচার।

নিউজটি আপনার বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুন

এই ক্যাটাগরির আর নিউজ
© All rights reserved © vira-l.com 2017-2022
themesba-lates1749691102
Bengali English