গাইবান্ধার মহিমাগঞ্জের রংপুর চিনিকলে ৯০জন শ্রমিক-কর্মচারীকে ছাঁটাইয়ের প্রতিবাদে ব্যবস্থাপনা পরিচালককে অবরুদ্ধ করে বিক্ষোভ করে শ্রমিক-কর্মচারীরা। শনিবার সকাল সোয়া নয়টা থেকে চার ঘণ্টা পরিচালককে তার কার্যালয়ে অবরুদ্ধ করে রাখে বিক্ষোভকারীরা। এ সময় চিনিকলের অন্যান্য বিভাগের কর্মকর্তারাও অবরুদ্ধ হয়ে পড়ে। পরে গাইবান্ধা জেলা প্রশাসক মো. আব্দুল মতিনের আশ্বাসে অবরোধ তুলে নেয় শ্রমিকরা।
শ্রমিক নেতারা জানান, সরকারি নিয়োগ বিধি মেনে কর্পোরেশনের সদর দপ্তরের প্রতিনিধি সমন্বয়ে গঠিত কমিটির কাছে পরীক্ষা দিয়ে এক যুগ ধরে দিন মজুর ভিত্তিক কাজ করছেন তারা। তাই মৌখিক নির্দেশে কাউকে চাকরিচ্যূত করতে পারে না। কর্তৃপক্ষের চাকরিচ্যূতির সিদ্ধান্ত শ্রমিকরা মেনে নেবে না।
শ্রমিক-কর্মচারী ইউনিয়নের সভাপতি আবু সুফিয়ান সুজা অভিযোগ করে বলেন, গত ২০ ডিসেম্বর বাংলাদেশ চিনি ও খাদ্য শিল্প সংস্থার প্রেস রিলিজে ঘোষণা দেওয়া হয়েছে, আখ মাড়াই স্থগিত হওয়া চিনিকলগুলোর কোনো শ্রমিক-কর্মচারীর চাকরি যাবে না। তাদের বেতন-ভাতা আগের মতই নিয়মিত প্রদান করা হবে। কিন্তু কোনো প্রজ্ঞাপন বা নিয়মনীতির তোয়াক্কা না করে এ চিনিকলের কারখানা বিভাগের ৯০জন শ্রমিক-কর্মচারীকে ছাঁটাই করা হয়েছে।
রংপুর চিনিকলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. নূরুল কবির জানান, আখ মাড়াই বন্ধ হওয়ায় কারখানায় কোনো কাজ না থাকায় কানামনা (কাজ নাই, মজুরি নাই) ভিত্তিক ৯০জন শ্রমিককে প্রথম পর্যায়ে দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। তবে এ সমস্যা সমাধানের লক্ষ্যে সদর দপ্তরে আলোচনার জন্য তিনি ঢাকায় যাচ্ছেন। সেখান থেকে অনুমতি পেলে তাদের ফিরিয়ে নেওয়া হবে।