উয়েফা ইউরো কাপ চ্যাম্পিয়ন ইতালি। ১৯৬৮ সালের পর ফের ইউরোপিয়ান চ্যাম্পিয়নশিপ জিতে নিলে ইউরোপের অন্যতম শক্তিশালী দল। ৫৩ বছর পর ইউরোপের সর্বশ্রেষ্ঠ দল হিসেবে নিজেদের প্রমাণ করল ইতালি। ওয়েম্বলিতে ‘সিংহ গর্জন’ থামিয়ে অপ্রতিরোধ্যই রইল রবার্তো মানচিনির ‘দ্য উইনিং মেশিন’ ওরফে আজুরি। কাপ যুদ্ধে গ্যারেথ সাউথগেটের দুর্দান্ত ইংল্যান্ডকে হারত হলো টাইব্রেকারে। ১৯৬৬ সালের পর ইংল্যান্ড প্রথম কোনো বড় টুর্নামেন্টের (বিশ্বকাপ বা ইউরো কাপ) ফাইনালে উঠেছিল। হ্যারি কেনরা স্বপ্ন দেখেছিলেন ইতিহাস লেখার। কিন্তু জর্জিও কিয়েলিনির ইতালির কাছে তাদের স্বপ্ন ভেঙে চুরমার হয়ে গেল।
নির্ধারিত সময়ে খেলার ফলাফল ছিল ১-১। দু’মিনিটের মাথায় এগিয়ে গিয়েছিল ইংল্যান্ড। এমন গোলে, যা সচরাচর ইউরো কাপ ফাইনালের মতো মঞ্চে দেখা যায় না। আক্রমণ শুরু হয়েছিল লিউক শ-কে দিয়ে। সেখান থেকে বল যায় ডান দিকে থাকা কিয়েরান ট্রিপিয়ারের কাছে। ট্রিপিয়ারের বক্সের মধ্যে ক্রস ভাসানোর সময় সম্পূর্ণ অরক্ষিত অবস্থায় ছিলেন শ। চলতি বলেই বাঁ পায়ের জোরালো শটে ডোনারুমাকে পরাস্ত করেন।
ম্যাচে ওই একবারই ইতালির ডিফেন্সের ফাঁক দেখা গেল। এরপর সেভাবে ইংল্যান্ডকে আক্রমণে যেতে দিল না তারা। বরং একের পর এক আক্রমণ করছিল ইতালি। বলের নিয়ন্ত্রণও ছিল তাদেরই পায়ে। ডান দিক থেকে দুর্দান্ত আক্রমণ করছিলেন ফেদেরিকো কিয়েসা। প্রথমার্ধে ইংল্যান্ডের তিন ডিফেন্ডারকে কাটিয়ে তার বাঁ পায়ের শট অল্পের জন্য বাইরে যায়।
দ্বিতীয়ার্ধেও বজায় ছিল তাদের আধিপত্য। আক্রমণের ঝাঁজ বাড়াতে চিরো ইমমোবিলেকে কিছুক্ষণ পরে তুলে নেন ইতালি কোচ রবের্তো মানচিনি। ডমেনিকো বেরার্দি এবং ব্রায়ান ক্রিস্তান্তেকে নামান। তার ফলও পায় ইতালি। ৬৭ মিনিটে সমতা ফেরান লিয়োনার্দো বোনুচ্চি। এরপর দু’দলই সুযোগ পেলেও কাজে লাগাতে পারেনি। নির্ধারিত ৯০ মিনিটের পর খেলা গড়ায় অতিরিক্ত সময়ে। সেখানেও গোল হয়নি।
পেনাল্টিতে ইংল্যান্ডের মার্কাস র্যাশফোর্ড, জ্যাডন স্যাঞ্চো এবং বুকায়ো সাকা মিস করেন। ইতালির হয়ে মিস করেন আন্দ্রেয়া বেলোত্তি এবং জর্জিনহো। কিন্তু গোলকিপার জিয়ানলুইগি ডোনারুমার জোড়া সেভে কাপ গেল ইতালিতে।
ইউরোপিয়ান চ্যাম্পিয়নশিপের ইতিহাসে এই নিয়ে ১৯৭৬ সালের পর দ্বিতীয়বার ফাইনালের সিদ্ধান্ত হলো টাইব্রেকারে। আর সেখানেই লড়াইটা হয়ে যায় জর্ডন পিকফোর্ড বনাম জিয়ানলুইগি ডোনারুমার। বাজিমাত করে দেন ইতালির তরুণ গোলরক্ষক ডোনারুমা। পেনাল্টিতে ইতালিকে ৩-২ ম্যাচ জিতিয়ে দেশের নায়ক হয়ে যান তিনি। ম্যান অফ দ্য টুর্নামেন্টের পুরস্কারও ওঠে তার হাতে। ইতালির ঝুলিতে এখন চারটি বিশ্বকাপ ও দু’টি ইউরো কাপ। মোট হাফ ডজন মেজর ট্রফি জিতল ইতালি। একমাত্র জার্মানির ট্রফির সংখ্যা (৭) তাদের চেয়ে বেশি।