শনিবার, ১৭ জানুয়ারী ২০২৬, ০৫:০৮ অপরাহ্ন

৯ ঘণ্টার ব্যবধানে বিআরটি প্রকল্পের দুই জায়গায় ধস

নিজস্ব প্রতিবেদন
  • প্রকাশিতঃ রবিবার, ১৪ মার্চ, ২০২১
  • ৪৪ জন নিউজটি পড়েছেন
৯ ঘণ্টার ব্যবধানে বিআরটি প্রকল্পের দুই জায়গায় ধস

৯ ঘন্টার ব্যবধানে নির্মাণাধীন বাস র‌্যাপিড ট্রানজিট (বিআরটি) -৫ প্রকল্পের এক্সেপ্রেসওয়েতে দুইটি পৃথক স্থানে পিলার ক্যাপ ও লঞ্চিং গার্ডারে ধসে পড়েছে।

শনিবার রাত আড়াইটার দিকে প্রথমে উত্তরার আব্দুল্লাপুর এলাকায় একটি পিলার ক্যাপ ধসে পড়ে। এই ঘটনায় কেউ হতাহত হয়নি। তবে রোববার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে বিমানবন্দর এলাকায় এই প্রকল্পের লঞ্চিং গার্ডার ধসে পড়ে। এসময় ২ চীনা ও অপর দুই জন বাংলাদেশি কর্মীসহ ৪ জন আহত হয়েছেন। এদের মধ্যে একজনকে পঙ্গু হাসপাতালে ও তিনজনকে বসুন্ধরা আবাসিক এলাকার এভারকেয়ার হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

এ বিষয়ে ঢাকা বিআরটি প্রকল্পের ব্যবস্থাপনা পরিচালক শফিকুল ইসলাম বলেন, দূর্ঘটনায় মোট ৪ জন শ্রমিক আহত হয়েছেন। এর মধ্যে ২ জন চীনা নাগরিক রয়েছেন। আহতরা সবাই হাসপাতালে ভর্তি রয়েছেন। এক জনের অবস্থা কিছুটা আশঙ্কাজনক বলে আমরা জানতে পেরেছি। এছাড়া গতরাতে আব্দুল্লাপুর এলাকায় একটি পিলার ক্যাপ ধসে পড়েছে। এই অংশটি বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষের আওতাভুক্ত। দুটি ঘটনার তদন্তে কমিটি গঠন করা হবে।

ঘটনার পর বিআরটি প্রকল্পের ব্যবস্থাপনা পরিচালক শফিকুল ইসলাম, ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের মেয়র আতিকুল ইসলাম ও পুলিশের উধ্বতর্ন কর্মকর্তারা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। এ ঘটনার তদন্তে কমিটি গঠন করা হবে বলে সংশ্লিষ্টরা জানান।

রোববার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে বিমানবন্দর এলাকায় এই প্রকল্পের লঞ্চিং গার্ডার ধসে পড়ে।
জানা গেছে, শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের কাছে বাস র‌্যাপিড ট্রানজিট (বিআরটি)-৫ প্রকল্পের নির্মাণাধীন এক্সপ্রেসওয়ের লঞ্চিং গার্ডার ধসে দুই চীনা ও অপর দুই বাংলাদেশি নির্মাণ কর্মীসহ ৪ জন আহত হয়েছেন। সকাল থেকে বিমানবন্দরের ১ নম্বর গেটের কাছে নির্মাণাধীন বিআরটি-৫ এক্সপ্রেসওয়ে প্রকল্পের লাঞ্চিং গার্ডার স্থাপনের কাজ চলছিল। এক্সপ্রেসওয়ের জন্য তৈরি গার্ডারগুলো সংযোগের জন্য চীনা ও বাংলাদেশের কর্মীরা সকাল থেকেই একসঙ্গে কাজ করছিলেন। লোহার ভারী ফ্রেমগুলো স্থাপন করছিলেন তারা। সকাল সাড়ে ১০টার দিকে কাজ চলাকালে গার্ডারের চারপাশের লোহার ফ্রেম আটকে রাখা নিচের দিকের একটি খুঁটি হঠাৎ করেই একপাশে কাত হয়ে বিকট শব্দে হুড়মুড় করে ভেঙে যায়। সঙ্গে সঙ্গে গার্ডারের ভারী ফ্রেমগুলো ভেঙে নিচে পড়ে। দুর্ঘটনার খবর পেয়ে পুলিশ, ফায়ার সার্ভিস ও স্থানীয়রা ঘটনাস্থলে ছুটে এসে আহতদের উদ্ধার করে। এদের এক জনকে পঙ্গু হাসপাতাল ও অপর তিনজনকে বসুন্ধরার এলাকার এভারকেয়ার হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। একজনের অবস্থা কিছুটা গুরুতর বলে হাসপাতালের চিকিৎসকরা জানিয়েছেন। দুর্ঘটনাকবলিত স্থানটি নিরাপত্তা বেষ্টনী দিয়ে ঘিরে রাখা হয়। এখানে বিকালেল দিকে উদ্ধার কাজ শুরু করা হয়েছে।

অপরদিকে উত্তরার আব্দুল্লাহপুর এলাকার একই প্রকল্পের নির্মাণাধীন একটি পিলার ক্যাপ ধসে পড়েছে। তবে এই ঘটনায় কেউ হতাহত হয়নি বলে জানা গেছে। গত শনিবার রাত আড়াইটার দিকে এই দুর্ঘটনা ঘটে বলে বিআরটি কর্মকর্তারা গতকাল রোববার নিশ্চিত করেছেন।

শনিবার রাত আড়াইটার দিকে উত্তরার আব্দুল্লাপুর এলাকায় একটি পিলার ক্যাপ ধসে পড়ে।
বিআরটি কর্মকর্তা ও স্থানীয় সূত্র জানায়, গত শনিবার রাত আড়াইটার দিকে পিয়ার ক্যাপটি ধসে পড়ে। এসময় সেখানে কেউ ছিলো না বলে হতাহতের কোন ঘটনা ঘটেনি। পলওয়েল কনভেনশন সেন্টারের সামনে শনিবারই ২২ নম্বর পিলারের ওপর ওই পিয়ার ক্যাপটি ঢালাই দেয়া হয়। রাত পর্যন্ত ঢালাই চলে। রাত আড়াইটার দিকে হঠাৎ করেই পিয়ার ক্যাপটি ধ্বসে পড়ে। ধারনা করা হচ্ছে পিলার ক্যাপের নিচের দিকের সাপোর্ট খুঁটি সরে গিয়ে এই পুরো পিলার ক্যাপটি ধসে পড়ে। গভীর রাতে পিলার ক্যাপ ধসে পড়ার বিষয়টি নজরে আসেনি। গতকাল সকাল থেকেই ঘটনাস্থলে বিআরটি প্রকল্পের লোকজনকে দ্রুততার সঙ্গে ধসে পড়া পিলার ক্যাপের ভাঙ্গা অংশ ও ধ্বংসাবশেষ সরানোর কাজ করতে দেখা যায়। অধিক শক্তি সম্পন্ন ড্রিল মেশিন, রড কাটার মেশিনসহ বিভিন্ন যন্ত্রাংশ ব্যবহার করা হচ্ছে। তবে ঘটনার ব্যাপারে তারা কোনো মন্ত্রব্য করতে রাজী হয়নি। কথা বলা নিষেধ বলে জানান তারা। ধ্বসে পড়া রড ও কংক্রিটের স্তুপের কারণে আব্দুল্লাহপুর প্রধান সড়কের দুই পাশের যানবাহন চলাচলে তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়। সকাল থেকেই তীব্র যানজটে যানবাহনগুলোকে ঘণ্টার পর ঘণ্টা একই জায়গায় আটকে থাকতে দেখা গেছে।

ফায়ার সার্ভিস নিয়ন্ত্রণ কক্ষের কর্তব্যরত কর্মকর্তা রাসেল শিকদার বলেন, সকাল সাড়ে ১০টার দিকে আমরা খবর পেয়েছি গার্ডার ভেঙে চারজন আহত হয়েছেন। বর্তমানে তাদের কী অবস্থা তা বিস্তারিত জানা যায়নি।

বিমানবন্দর থানার ওসি দাদন ফকির বলেন, আহতদের মধ্যে দুজন চীনা নাগরিক, বাকিরা বাংলাদেশি। তাদের উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

অভিযোগ উঠেছে, বিআরটি প্রকল্পের কাজে নিম্নমানের নির্মাণ সামগ্রী ব্যবহার করা হচ্ছে। কর্তপক্ষও ভালেভাবে মনিটরিং করছে না। শ্রমিকরা যত্ন নিয়ে কাজ না করার কারণে একের পর এক ধস নামছে। প্রকল্পের কাজ চললেও প্রকল্প এলাকার নিরাপত্তা ব্যবস্থা ঠিকভাবে নিশ্চিত করা হয়নি। প্রকল্প ঘেঁষেই যানবাহন ও পথচারীরা চলাচল করছে। ঘটনার খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিস কর্মীরা ঘটনাস্থলে ছুটে যাণ।

প্রকল্পের কর্মকর্তারা বলেছেন, লঞ্চিং গার্ডার স্থাপনের সময় কৌশলগত ত্রুটির কারণে দুর্ঘটনা ঘটে থাকতে পারে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে। তবে বিষয়টি নিশ্চিত না। কেন এই দুর্ঘটনা ঘটেছে তা খতিয়ে দেখতে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হবে। ত্রুটি-বিচ্যুতির জন্য যারা দায়ী থাকবেন তাদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

উল্লেখ্য, যানজট নিরসন ও রাজধানীর সঙ্গে আশপাশের এলাকায় সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নতির জন্য বিভিন্ন প্রকল্প গ্রহণ করা হয়। এজন্য স্ট্র্যাটেজিক ট্রান্সপোর্ট প্ল্যান (এসটিপি) সংশোধন করা হয়। এসব প্রকল্পের মধ্যে বিআরটি-৫ অন্যতম প্রকল্প। এই প্রকল্পের আওতায় ঢাকা থেকে গাজীপুর পর্যন্ত এক্সপ্রেসেওয়ে নির্মাণ কাজ চলছে। ২০১২ সালে এই নির্মাণ কাজ শুরু হয়। গত সাত বছর ধরে কাজ চলছে। প্রকল্পের কাজ শেষ হতে আরও প্রায় দুই বছর লাগবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। বিমানবন্দর থেকে গাজীপুর পর্যন্ত এই রুটের দৈর্ঘ্য ২০ দশমিক ২০ কিলোমিটার। প্রকল্পের মোট ব্যয় ধরা ৪ হাজার ২৬৪ কোটি ৮২ লাখ ১৪ টাকা। সব মিলিয়ে প্রকল্পের অগ্রগতি মাত্র ৫১ শতাংশ।

নিউজটি আপনার বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুন

এই ক্যাটাগরির আর নিউজ
© All rights reserved © vira-l.com 2017-2022
themesba-lates1749691102
Bengali English