শুক্রবার, ১৬ জানুয়ারী ২০২৬, ১০:৪০ পূর্বাহ্ন

জামানতহীন ঋণে বাংলাদেশ ব্যাংক দেবে গ্যারান্টি

রিপোর্টারের নাম
  • প্রকাশিতঃ মঙ্গলবার, ২৮ জুলাই, ২০২০
  • ৫৫ জন নিউজটি পড়েছেন

করোনার প্রভাব মোকাবেলায় কুটির, মাইক্রো ও ক্ষুদ্র শিল্পে ঋণপ্রবাহ বাড়াতে ক্রেডিট গ্যারান্টি স্কিম চালু করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। এর আওতায় ওইসব শিল্পে বাণিজ্যিক ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলো জামানতবিহীন ঋণ বিতরণ করলে কেন্দ্রীয় ব্যাংক গ্যারান্টি দেবে। ফলে গ্রাহকের কাছ থেকে ঋণ আদায় না হলে কেন্দ্রীয় ব্যাংক এর বিপরীতে ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে সহায়তা দেবে। দেশে প্রথমবারের মতো এ ধরনের একটি গ্যারান্টি স্কিম প্রণীত হল।

এ বিষয়ে সোমবার বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে একটি প্রজ্ঞাপন জারি করে বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর প্রধান নির্বাহীদের কাছে পাঠানো হয়েছে। এতে যেসব ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান এ স্কিমের আওতায় ঋণ বিতরণে আগ্রহী তাদের কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সঙ্গে চুক্তি করতে পরামর্শ দেয়া হয়েছে।

এর আগে গত এপ্রিলে কেন্দ্রীয় ব্যাংক কুটির, ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পে ঋণ দিতে যে ২০ হাজার কোটি টাকার প্রণোদনা প্যাকেজ ঘোষণা করেছে, তা বাস্তবায়ন করতে এ গ্যারান্টি দেয়া হবে। বিষয়টি তদারকি করতে বাংলাদেশ ব্যাংকের এসএমইএ অ্যান্ড স্পেশাল প্রোগ্রামস বিভাগে ‘ক্রেডিট গ্যারান্টি স্কিম ইউনিট’ নামে একটি উপ-বিভাগ গঠন করা হয়েছে। এই ইউনিট থেকে ঋণের বিপরীতে গ্যারান্টি দেয়া হবে।

করোনার প্রভাব মোকাবেলায় কেন্দ্রীয় ব্যাংক কুটির, ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পে ঋণ দিতে যে প্রণোদনা প্যাকেজ ঘোষণা করেছে, তা থেকে উদ্যোক্তাদের ঋণ দিচ্ছে না ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলো। ঋণ বিতরণ করলে আদায় হবে না-এমন আশঙ্কা থেকেই তারা এটি করছে। এ ছাড়া পুরনো গ্রাহক ছাড়া নতুন গ্রাহকদের ঋণ দিতেও আগ্রহী হচ্ছে না প্রতিষ্ঠানগুলো। এসব কারণ বিবেচনায় নিয়ে কেন্দ্রীয় ব্যাংক এই গ্যারান্টি স্কিম চালু করেছে।

কেন্দ্রীয় ব্যাংক মনে করে, কুটির, ক্ষুদ্র ও মাইক্রো শিল্পে বেশি কর্মসংস্থান হয়। এ খাতকে চাঙ্গা করা সম্ভব হলে কর্মসংস্থান বাড়বে। একই সঙ্গে চাঙ্গা হবে গ্রামীণ অর্থনীতি। সম্প্রতি ভারতের কেন্দ্রীয় ব্যাংক রিজার্ভ ব্যাংক অব ইন্ডিয়া এ ধরনের একটি স্কিম চালু করেছে। এর ফলে তাদের দেশেও এসব খাতে ঋণ বিতরণ বেড়েছে।

প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, এ স্কিমের আওতায় এসব খাতে চলতি মূলধন ঋণের সর্বোচ্চ ৮০ শতাংশ পর্যন্ত গ্যারান্টি দেয়া হবে। এর মধ্যে উৎপাদন ও সেবা খাতের ঋণের সর্বোচ্চ ৭০ শতাংশ এবং ট্রেডিং খাতে ঋণের ৩০ শতাংশ পর্যন্ত গ্যারান্টি দেয়া যাবে। ঋণ দিতে হবে জামানতবিহীন। অগ্রাধিকার দিতে হবে গ্রামীণ কুটির, ক্ষুদ্র ও মাইক্রো শিল্পকে। নতুন কোনো গ্রাহক ঋণ নিতে চাইলে তাদেরও এর আওতায় ঋণ দেয়া যাবে। গ্রাহকের ঋণের পরিমাণ যাই হোক সর্বনিু ২ লাখ টাকা থেকে সর্বোচ্চ ৫০ লাখ টাকা ঋণের বিপরীতে এ গ্যারান্টি দেয়া হবে। এর বেশি বা কম ঋণ থাকলে তার ওপর এই গ্যারান্টি প্রযোজ্য হবে না।

এতে আরও বলা হয়, গত বছরের ডিসেম্বর পর্যন্ত যেসব বেসরকারি খাতের ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর খেলাপি ঋণ ১০ শতাংশ বা তার কম শুধু তারাই এই স্ক্রিমের আওতায় সুবিধা পাবেন। এর বেশি খেলাপি ঋণ থাকলে তারা এটির আওতায় কোনো সুবিধা পাবেন না। তবে সরকারি মালিকানাধীন বাণিজ্যিক ও বিশেষায়িত ব্যাংকগুলোর ক্ষেত্রে এই শর্ত প্রযোজ্য হবে না। অর্থাৎ তাদের খেলাপি ঋণ ১০ শতাংশের বেশি থাকলেও এর আওতায় বিবেচিত হবে না। সরকারি ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলো এর আওতায় গ্যারান্টি সুবিধা পাবে। গ্যারান্টির বিপরীতে ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে বিভিন্ন হারে ফি পরিশোধ করতে হবে।

নিউজটি আপনার বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুন

এই ক্যাটাগরির আর নিউজ
© All rights reserved © vira-l.com 2017-2022
themesba-lates1749691102
Bengali English