শনিবার, ১৭ জানুয়ারী ২০২৬, ০১:২০ পূর্বাহ্ন

একাধিক পরিবারের শরিকে কোরবানি বৈধ

রিপোর্টারের নাম
  • প্রকাশিতঃ বৃহস্পতিবার, ৩০ জুলাই, ২০২০
  • ৪৯ জন নিউজটি পড়েছেন

একাধিক পরিবারের শরিকে কোরবানি বৈধ। এটি কোরআন-সুন্নাহ ও ফিকহের দলিল-প্রমাণের আলোকে মীমাংসিত একটি বিষয়। এটি হাজার বছর ধরে মুসলিমসমাজে অনুসৃত হয়ে আসছে। ইদানীং কিছু ভাই (হাতে গোনা দু-একজন) বলতে শুরু করেছেন যে একটি গরুতে একাধিক পরিবারের সদস্যদের মধ্যে শরিকে কোরবানি বৈধ নয়; বরং শরিকে কোরবানি করতে হলে সবাই একই পরিবারের অন্তর্ভুক্ত হতে হবে। আশ্চর্য হলো, তিনি তাঁর দাবি হাদিসের নামেও চালিয়ে দিয়েছেন। অথচ এ ব্যাপারে কোনো সহিহ হাদিস তো দূরের কথা, দুর্বল সূত্রে বর্ণিত হাদিসও পাওয়া যায় না।

এটি স্বতঃসিদ্ধ মাসআলা যে গরু-মহিষ ও উটের ক্ষেত্রে একটি প্রাণীতে সর্বাধিক সাতজন অংশীদার হতে পারেন, চাই একই পরিবারের সদস্য হোক বা একাধিক পরিবারের। হাদিসের কিতাবগুলোতে অনেক সাহাবির বর্ণনায় রাসুল (সা.) থেকে সুষ্পষ্টভাবে তা প্রমাণিত। কোনো হাদিসে এতে সাত শরিকের সবাই একই পরিবারের অন্তর্ভুক্ত হওয়ার শর্ত উল্লেখ নেই। এমনকি ব্যাখ্যাকাররাও হাদিসের ব্যাখ্যায় এরূপ শর্ত উল্লেখ করেননি।

শরিকে কোরবানির সুস্পষ্ট হাদিস ও হাদিসবিশারদদের ব্যাখ্যা

জাবের (রা.)-এর বর্ণনা করেন, আমরা (সাহাবিরা) হুদাইবিয়ার বছর রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর সঙ্গে কোরবানি করেছি, একেকটি উট সাত অংশীদারের পক্ষ থেকে এবং একেকটি গাভিও সাত অংশীদারে। (মুসলিম, হাদিস : ১৩১৮; আবু দাউদ, হাদিস : ২৮০৯; নাসায়ি, হাদিস : ৪৩৯৩; তিরমিজি, হাদিস : ৯০৪)

এ ছাড়া হাদিসটি ইবনে ওমর (রা.), আবু হুরায়রা (রা.), আয়েশা (রা.) ও ইবনে আব্বাস (রা.) থেকেও বিভিন্ন হাদিসগ্রন্থে বর্ণিত হয়েছে। হাদিসটিতে উট ও গাভিতে সাত শরিকে কোরবানির কথা বলা হয়েছে; কিন্তু এক বা একাধিক পরিবারের কোনো পার্থক্য উল্লেখ নেই।

বুখারি শরিফের অন্যতম ব্যাখ্যাকার আল্লামা কস্তলানি (রহ.) লিখেছেন, ‘এই হাদিস দ্বারা উট ও গাভিতে সর্বাধিক সাতজন অংশীদারের কোরবানির বৈধতা প্রমাণিত হয়।’ (ইরশাদুস সারি : ৩/২১২) বিশিষ্ট হাদিসব্যাখ্যাকার মোল্লা আলী কারি (রহ.) ও ইবনে আরসালান (রহ.)-ও এটি বলেছেন। (মিরকাত ৩/১০৮০, শরহে আবু দাউদ ১২/১৯২)

এ ছাড়া এই হাদিসের ব্যাখ্যায় এক ও একাধিক পরিবারের কোনো পার্থক্য না থাকার সুস্পষ্ট বর্ণনা দিয়েছেন যুগশ্রেষ্ঠ হাদিসব্যাখ্যাকার আল্লামা আইনি (রহ.), ইবনে হাজর মক্কি (রহ.)সহ অনেকে। তাঁরা বলেছেন, একটি গাভিতে সাতজন অংশীদার কোরবানি করতে পারবে, যদিও অংশীদাররা এক পরিবারের না হয়ে ভিন্ন পরিবার ও ভিন্ন ঘরের হোক। (নুখাবুল আফকার ১২/৫৩২, মিরকাত ৩/১০৮০)

এতজন সাহাবির বর্ণিত হাদিস ও হাদিসবিশারদদের ব্যাখ্যাগুলো উপেক্ষা করে তার বিপরীত মাসআলা জনসাধারণের মধ্যে প্রচার করা কি উচিত?

নিউজটি আপনার বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুন

এই ক্যাটাগরির আর নিউজ
© All rights reserved © vira-l.com 2017-2022
themesba-lates1749691102
Bengali English