শিশুরাও করোনাভাইরাসের আক্রান্ত হতে পারে। তবে তরুণ বা বয়স্কদের মতো বেশিরভাগ শিশুর করোনা আক্রান্ত হলে তাদের তেমন কোনো উপসর্গ থাকে না।
ফলে শিশুরা পরিবারের বয়স্কদের আক্রান্ত করে থাকে। এ ছাড়া উপসর্গ ছাড়া যদি কোনো শিশু করোনা আক্রান্ত হয়ে থাকে, তবে পরবর্তী সময় তার জটিল অনেক রোগ দেখা দিতে পারে।
দেশে সম্প্রতি মাল্টিসিস্টেম ইনফ্লেমেটরি সিনড্রোম (এমআইএসসি) নামে নতুন একটি মারাত্মক রোগের সংক্রমণ দেখা দিয়েছে। শিশু-কিশোররা সবচেয়ে বেশি এ রোগের ঝুঁকিতে রয়েছে। উচ্চমাত্রার জ্বর দিয়ে এ রোগের সূত্রপাত হয়। বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই পরীক্ষায় কোনো জীবাণুর অস্তিত্ব পাওয়া যায় না।
এর সংক্রমণের মূল কারণ করোনাভাইরাস। এমআইএসসি আক্রান্ত শিশুর রক্তপ্রবাহ কমে যায়। এতে হার্ট, কিডনি, ফুসফুস ও যকৃতের মতো অঙ্গ ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে তাকে মৃত্যুমুখে ঠেলে দিতে পারে। এমন সব তথ্য জানিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।
এ বিষয়ে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের শিশুবিশেষজ্ঞ ও সহযোগী অধ্যাপক ডা. মানিক কুমার তালুকদার বলেন, মহামারী করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হচ্ছে কোমলমতি শিশুরা। তবে বেশিরভাগ ক্ষেত্রে শিশুদের তেমন উপসর্গ থাকে না। তবে উপসর্গ দেখা চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে ও করোনা টেস্ট করাতে হবে।
শিশু আক্রান্ত হলে যা করবেন
১. গলাব্যথা, সর্দি অথবা জ্বরের উপসর্গ দেখা দিলে চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।
২. যদি শ্বাসকষ্ট দেখা দেয় বা অস্বাভাবিক অসুস্থ হয়ে পড়লে কাছাকাছি কোনো হাসপাতালে নিতে জরুরি নম্বরে ফোন দিন।
৩. আক্রান্ত বেশিরভাগ শিশুর ক্ষেত্রেই তেমন কোনো উপসর্গ দেখা যায়নি। এ সময় শিশুদের বয়স্কদের সংস্পর্শ থেকে অথবা পরিবারে যাদের শরীরে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কম, তাদের কাছ থেকে দূরে রাখুন।
৪. শিশুর করোনার উপসর্গ দেখা দিলে ও আক্রান্ত হলে তাকে বাড়িতেই রাখুন। পরিবারের বাবা বা তাকে স্বাস্থ্যবিধি মেনে যত্ন নিন।
৫. শিশু বিশেষ প্রয়োজনে বাইরে গেলে মাস্ক ব্যবহার ও চোখে চশমা পরান। এ ছাড়া তাকে গরমজাতীয় খাবার ও কুসুম গরমপানি খাওয়ান।