শুক্রবার, ১৬ জানুয়ারী ২০২৬, ০৩:৪৯ অপরাহ্ন

বাজেট বুঝে সংসার চালান

রিপোর্টারের নাম
  • প্রকাশিতঃ মঙ্গলবার, ১১ আগস্ট, ২০২০
  • ৪৯ জন নিউজটি পড়েছেন

প্রতি মাসের বাজেট মেইন্টেইন করা এক ভীষণ ব্যাপার। চড়া বাজারদর অথচ পকেট ফিক্সড। ফলে একটুতেই বাজেট ছাড়িয়ে যায়। আদর্শ গৃহিণী হতে হলে শুধু রান্নার কাজ জানলেই চলে না। সঙ্গে চাই সংসার সামলানোর স্মার্ট ম্যানেজমেন্ট।

করোনার সময়ে সংসার করতে গেলে বাজেট মেইন্টেইন করা একটি বড় ধরনের ঝামেলা। জিনিসপত্রের দাম যে হারে হু হু করে বাড়ছে তাতে ঢিলে হাতে সংসার সামলালে পকেটে টান পড়বেই। মাসিক কিছু নির্দিষ্ট খরচ তো থাকবেই। সেখানে কম্প্রোমাইজ করার রাস্তা নেই। তাই টুকটাক শপিং, সিনেমা দেখা ও রেস্তোরাঁয় খাওয়া- এগুলোরও প্রয়োজন। এগুলোর সঙ্গে আছে খরচের লম্বা লিস্ট। এসব দিক সামলে বাজেট ঠিক রাখা কোনো অগ্নি পরীক্ষার চেয়ে কম নয়। এ অগ্নিপরীক্ষায় পাস করতে হলে একটু মাপজোখ করে চলতেই হবে। নির্দিষ্ট বাজেট মেনে সংসার চালাতে গেলে বাজার-হাটটা একটু বুঝেশুনে করতে হবে। মহিলারা দরদাম করতে বরাবরই পারদর্শী কিন্তু সব জায়গায় তো দরদাম চলে না। কীভাবে যে বাজেটের দিকে খেয়াল রাখবেন- বুঝে উঠতে পারছেন না। অথচ সামান্য কিছু ব্যাপারে খেয়াল রাখলেই কিন্তু সমস্যার সমাধান হতে পারে।

শুধু কি বাজেট? পরিপাটি করে কেনাকাটা করাটাও আদর্শ গৃহিণীর পরিচয়। কীভাবে স্মার্টলি সামলাবেন দোকান-বাজার? আপনাদের জন্য রইল কিছু সহজ টিপ্স-

সর্বপ্রথম মাথায় রাখতে হবে, পরিকল্পনা ছাড়া কিন্তু এ যুদ্ধে সফল হওয়া যাবে না। যখনই শপিং করবেন, আগে থেকে লিস্ট করে নেবেন- কী কী কেনার আছে। এতে একদিকে যেমন সব জিনিস মনে রাখতে সুবিধা হয়, তেমনই বাড়তি জিনিসও কেনা হয় না। শপিং করতে যাওয়ার আগে ভালো করে ফ্রিজ, কিচেন ও শেল্ফ দেখে নিন- আপনার কী কী জিনিস প্রয়োজন। ফ্রিজের গায়ে নোট লাগিয়ে রাখতে পারেন। যখন যা ফুরিয়ে যাবে চট্ করে লিখে নিন। মাসের শেষে লিস্ট রেডি! বিক্রি বাড়ানোর জন্য সাধারণত দোকানের মাঝের র‌্যাকে বা সামনের দিকে দামি জিনিস রাখা থাকে, যাতে সহজেই নজর পড়ে। তাই কোনো জিনিস কেনার আগে অন্য ব্র্যান্ডে ওই জিনিসের কী দাম বা কোনো বাড়তি ছাড় আছে কিনা- দেখে নিন। যেসব জিনিস আমরা প্রত্যেক দিনই প্রায় ব্যবহার করি বা বেশি পরিমাণে ব্যবহার করি যেমন- চাল, ডাল, আটা, ময়দা, তেল, চিনি ও লবণ ইত্যাদি জিনিস একসঙ্গে বেশি পরিমাণে কিনতে পারেন। একসঙ্গে বেশি জিনিস কিনলে মোটের ওপর কিছুটা সাশ্রয় হয়। তবে বাড়িতে স্টোর করার ব্যাপারেও সতর্ক থাকবেন, যাতে নষ্ট না হয়। আজকাল সব গ্রোসারি শপই সপ্তাহের কোনো নির্দিষ্ট দিন বা দিনের কোনো নির্দিষ্ট সময়ে বিশেষ কিছু ছাড় দেয়। চেষ্টা করুন, সেই সময় শপিং করতে। অল্প অল্প জিনিসের জন্য বারবার শপিং করবেন না। এতে অনেক অপ্রয়োজনীয় জিনিস কেনা হয় আর সময়েরও অপচয় হয় বরং একসঙ্গে সব জিনিস কিনতে চেষ্টা করুন। এখন তো সবই এক ছাদের তলায় পাওয়া যায়। ডিপ ফ্রিজারে রাখা শাকসবজি বা মাছ-মাংস শরীরের পক্ষে খুব একটা ভালো নয়। চেষ্টা করুন টাটকা শাকসবজি ও মাছ-মাংস কিনতে। কোন সময় দোকানে টাটকা জিনিসপত্র আসে- সে ব্যাপারে খোঁজ রাখতে পারলে ভালো হয়। প্রয়োজন না থাকলে সেটি কিনে অযথা টাকার অপচয় করা মোটেও বুদ্ধিমতীর কাজ নয়। জিনিস কেনার সময় তার ইউনিট প্রাইজ দেখে কিনুন। অর্থাৎ দামের পাশাপাশি তার পরিমাণটাও দেখুন। হয়তো কোনো জিনিসের ১০০ গ্রামের দাম ৪০ টাকা কিন্তু অন্য কোনো ব্র্যান্ড ৪৫ টাকায় ১২৫ গ্রাম জিনিস দিচ্ছে। এ ক্ষেত্রে কিন্তু দ্বিতীয় ব্র্যান্ড থেকেই সাশ্রয় বেশি হবে। ক্রেডিট বা ডেবিট কার্ডে শপিং করলে এমন কার্ড ব্যবহার করার চেষ্টা করুন, যাতে শপিংয়ে অতিরিক্ত ছাড় দেয়া হয়। আজকাল সব বড় বড় গ্রোসারি শপিংমলেরই নিজস্ব রিবেট কার্ড থাকে, যাতে অতিরিক্ত ছাড় পাওয়া যায়। সেই কার্ড ব্যবহার করুন। এমন জিনিস বেশি পরিমাণে কিনবেন না, যার শেল্ফ-লাইফ কম। আপনি নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে জিনিস ব্যবহার করে উঠতে না পারলে অযথা অপচয় হবে।

আমাদের ব্যস্ত জীবনে সময়ের অভাবে আমরা অনেক জিনিসই রেডি-টু-কুক কিনে থাকি। এ জিনিসগুলোর দাম তুলনায় বেশি হয় এবং স্বাস্থ্যের পক্ষেও খারাপ। চেষ্টা করুন, যতটা সম্ভব এ ধরনের জিনিস কম কিনতে।

নিউজটি আপনার বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুন

এই ক্যাটাগরির আর নিউজ
© All rights reserved © vira-l.com 2017-2022
themesba-lates1749691102
Bengali English