শনিবার, ১৭ জানুয়ারী ২০২৬, ০১:৩৬ পূর্বাহ্ন

‘বাংলাদেশের মানবসম্পদের অফুরন্ত সম্ভাবনাকে কাজে লাগাবে ইডটকো’

রিপোর্টারের নাম
  • প্রকাশিতঃ শনিবার, ১৫ আগস্ট, ২০২০
  • ৫৩ জন নিউজটি পড়েছেন

প্রায় ২৪ বছর ধরে টেলিযোগাযোগ ইন্ডাস্ট্রিতে কাজ করে যাচ্ছেন রিকি স্টেইন। দীর্ঘ এই ক্যারিয়ারে ভিন্ন ভিন্ন তিনটি মহাদেশে কাজ করেছেন তিনি।

সম্প্রতি তিনি কান্ট্রি ম্যানেজিং ডিরেক্টর (সিএমডি) হিসাবে ইডটকো বাংলাদেশে যোগাদান করেন। বাংলাদেশে যোগদানের আগে প্রায় চার বছর তিনি ‘ইডটকো মিয়ানমার’র প্রকৌশল শাখার পরিচালক (ডিরেক্টর অব ইঞ্জিনিয়ারিং) হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।

তার নেতৃত্বে ‘ইডটকো মিয়ানমার’র প্রকৌশল দল অত্যন্ত সাফল্যের সঙ্গে দেশটির বড় বড় মোবাইল নেটওয়ার্ক অপারেটরদের গুরুত্বপূর্ণ অনেক প্রকল্পের কাজ সম্পন্ন করেছে।

এছাড়া নবায়ন যোগ্য এনার্জি সল্যুশনের ক্ষেত্রে নতুন নতুন উদ্ভাবনী প্রযুক্তি চালুতেও তার ভূমিকা অসামান্য।

সম্প্রতি সঙ্গে তার অভিজ্ঞতা ও বাংলাদেশের ডিজিটালাইজেশন নিয়ে কথা বলেন রিকি। সাক্ষাতকারটি নিয়েছেন বিশেষ প্রতিনিধি- মুজিব মাসুদ

‘ইডটকো’ বাংলাদেশের শীর্ষস্থানীয় মোবাইল টাওয়ার অবকাঠামো নির্মাণকারী কোম্পানি। এই প্রতিষ্ঠানের নেতৃত্ব দিতে পেরে আপনার অনুভূতি কি? আর এ খাতে আপনার কোম্পানি কতটা ভূমিকা রাখতে পারছে বলে আপনি মনে করছেন?

রিকি স্টেইন: বাংলাদেশের টেলিযোগাযোগ খাতের অংশ হতে পারাটা সত্যিই খুব আনন্দের। বিশেষত: সরকারের ‘ডিজিটাল অর্থনীতি’ বিনির্মাণের সুস্পষ্ট লক্ষ্যপূরণের হতে পারাটা আমাদের জন্য আরও আনন্দের।

দ্বিতীয়ত, টাওয়ার শিল্পে প্রতিযোগিতা এবং সাফল্য অর্জনের জন্য বাংলাদেশে এখন খুব বলিষ্ঠ কাঠামো রয়েছে।

তৃতীয়ত: বাংলাদেশে মানবসম্পদের যে অফুরন্ত সম্ভাবনা রয়েছে, সেটিকে যথাযথভাবে কাজে লাগাতে আমি ভীষণ আগ্রহী।

প্রযুক্তির দ্রুত অগ্রগতি এবং স্মার্ট প্রযুক্তি ব্যবহার এই শিল্পটিকে দারুণভাবে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছে, যা একই সঙ্গে দেশের ডিজিটালাইজেশন প্রক্রিয়াকেও ত্বরান্বিত করছে।

সরকারের ‘ডিজিটাল বাংলাদেশ ভিশন’ এ খাত সংশ্লিষ্ট সবার মধ্যে সমন্বয় সাধনের চমৎকার একটি সুযোগ করে দিয়েছে। জাতি গঠনের অংশীদার হিসাবে, ‘ডিজিটাল বাংলাদেশ’ গড়ে তোলার ক্ষেত্রে ইডটকো বাংলাদেশ সরকারের এই দৃষ্টিভঙ্গির সম্পূর্ণ সমর্থন করে।

দেশের ডিজিটাল লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে সর্বাত্মক সাহায্য করার যে প্রতিশ্রুতি আমরা দিয়েছি, সেটি বাস্তবায়নের জন্য টেকসই উদ্ভাবন এবং যথাযথ বিনিয়োগের মাধ্যমে এখাতে উন্নত পণ্য ও সেবা নিশ্চিত করে প্রবৃদ্ধি অর্জনের ধারা অব্যাহত রাখতে চাই।

থ্রি-জি এবং ফোর-জি সম্ভাবনাকে সর্বাধিকীকরণের পাশাপাশি মোবাইল নেটওয়ার্ক অপারেটরদের জন্য উল্লেখযোগ্য হারে আর্থিক সাশ্রয় নিশ্চিত করতে আমরা অবকাঠামো শেয়ারের প্রতি জোর দিচ্ছি। এতে সার্বিকভাবে এই শিল্প খাতের প্রবৃদ্ধিও বাড়বে।

ইডটকো বাংলাদেশের দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া অঞ্চলে আগামীতে টেলিকমিউনিকেশন্স প্রযুক্তি উদ্ভাবনের মূল উদ্ভাবন কেন্দ্র হিসাবে গড়ে ওঠার সম্ভাব্য সব সুযোগ রয়েছে।

আমি আশাবাদী যে, এই উদ্ভাবন কেন্দ্র থেকে এ দেশের বাজার চাহিদা মেটানোর পাশাপাশি অন্যান্য দেশের চাহিদা পূরণেও অবদান রাখতে পারবে ইডটকো।

আমি আগেও যেমনটি বলেছি যে, বাংলাদেশের মানব সম্পদকে ভালো মতো কাজে লাগিয়ে টেলিকম শিল্পকে আরও এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার সুযোগটিই আমাকে সবচেয়ে বেশি অনুপ্রাণিত করেছে।

বাংলাদেশের টেলিযোগযোগ শিল্পখাতের প্রচুর সম্ভাবনা রয়েছে, বিশেষত: ফোর-জি বাড়ানো এবং নেটওয়ার্কের আওতা সম্প্রসারণের ক্ষেত্রে। আপনার অভিজ্ঞতা কিভাবে অগ্রগতিতে অবদান রাখতে পারে বলে মনে করছেন?

রিকি স্টেইন: গত ছয় বছরে আমি দু’টি ভিন্ন ভিন্ন মহাদেশে ফোর-জি স্থাপন প্রকল্পে কাজ করেছি যার মধ্যে- বাণিজ্যিক, প্রকৌশল এবং অবকাঠামো রক্ষণাবেক্ষণের সার্বিক দিক অন্তর্ভুক্ত ছিলো।
আমাদের অবকাঠামোগুলোর নকশাগুলো ভিন্ন ধরনের এবং সেগুলো মূলত: শহর ও ঘনবসতিপূর্ণ নগরাঞ্চলে স্থাপন করা হয়েছে।

আমি বিশ্বাস করি যে, আমার অতীতে অভিজ্ঞতা এই প্রকল্পগুলির ক্ষেত্রে ভূমিকা রাখতে সাহায্য করবে।

সামগ্রিকভাবে আমার অভিজ্ঞতাকে বলতে পারি যে, ফোর-জি যুগে টাওয়ার কোম্পানিগুলোর ভূমিকায় মৌলিক পরিবর্তন এসেছে। এটি অংশগ্রহণমূলক ভূমিকাকে পরিবর্তিত করে টেলিকম ইকো-সিস্টেমের প্রধান চালকে রূপান্তরিত হয়েছে।

এই রূপান্তর প্রক্রিয়ায় অবকাঠামো সরবরাহকারীদেরকে অবশ্যই রেগুলেটর, মোবাইল নেটওয়ার্ক অপারেটর, সরঞ্জাম সরবরাহকারী এবং ফাইবার সরবরাহকারীদের প্রত্যেককে সঙ্গে নিয়ে এমনভাবে কাজ করতে হবে যেন সকলের গুরুত্ব এখানে সমানভাবে বিবেচিত হয়।

ফাইভ-জি সক্ষম পরবর্তী প্রজন্মের প্রযুক্তি স্থাপনের জন্য গ্রাহকের সাশ্রয়ী ও হালকা অবকাঠামোর ক্রমবর্ধমান চাহিদা পূরণের ক্ষেত্রে ইডটকোকে অগ্রগামী ভূমিকা পালন করতে হবে।

এছাড়া ফাইভ-জি’র পাশাপাশি একই সঙ্গে ফোর-জি’র সম্প্রসারণের কাজও অব্যাহত রাখতে হবে।
এক্ষেত্রে আমি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি যে, টেলিযোগাযোগ ইকো-সিস্টেমের ভারসাম্য বজায় রাখতে এই খাত সংশ্লিষ্ট সবার মধ্যে একটি কৌশলগত অংশীদারিত্ব অত্যন্ত অপরিহার্য।

ইডটকো বাংলাদেশের কান্ট্রি ম্যানেজিং ডিরেক্টর হিসেবে আপনি প্রধানত: কোন তিনটি বিষয়ে অগ্রাধিকার দিচ্ছেন এবং কিভাবে সেগুলো সম্পন্ন করতে চান?

রিকি স্টেইন: ফাইভ-জি’র মতো পরবর্তী প্রজন্মের প্রযুক্তির জন্য শেয়ারযোগ্য অবকাঠামো প্রদানের মাধ্যমে ডিজিটাল বাংলাদেশের অগ্রযাত্রাকে তরান্বিত করতে টেলিযোগাযোগ খাতে মূল ভূমিকা পালনকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর সাথে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করাটাই আমার অগ্রাধিকার তালিকার শীর্ষে রয়েছে।

আপনি লক্ষ্য করলে দেখতে পাবেন যে, ডেটার চাহিদা ক্রমশ বাড়ছে, বিশেষত: শহরাঞ্চলে। ক্রমবর্ধমান এই ডেটার চাহিদা স্ট্রিট ফার্নিচারের মতো নতুন নতুন অবকাঠামোর তৈরির সুযোগ কাজে লাগানোর ব্যবস্থা করে দেবে যেগুলো আধুনিক সিটি প্যানোরমার সাথে নান্দনিকতার সংমিশ্রণে তৈরি।

সম্প্রতি ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের সহযোগিতায় আমরা রাজধানীর বনানীতে আমাদের প্রথম স্মার্ট ল্যাম্পপোল চালু করেছি। অংশীদারিত্বমূলক এসব প্রকল্পগুলো জ্ঞান এবং অভিজ্ঞতা বিনিময়ের চমৎকার সুযোগ তৈরি করে দেয়।

নিউজটি আপনার বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুন

এই ক্যাটাগরির আর নিউজ
© All rights reserved © vira-l.com 2017-2022
themesba-lates1749691102
Bengali English