শনিবার, ১৭ জানুয়ারী ২০২৬, ০১:০১ পূর্বাহ্ন

শয়তান থেকে দূরে থাকতে হবে

রিপোর্টারের নাম
  • প্রকাশিতঃ শনিবার, ১৫ আগস্ট, ২০২০
  • ৪৯ জন নিউজটি পড়েছেন

শয়তান হলো মানুষের চিহ্নিত শত্রু। শয়তানের কারণেই প্রথম মানব-মানবী হজরত আদম ও হাওয়া (আ.)-কে জান্নাত ছেড়ে পৃথিবীতে আসতে হয়েছে। দুনিয়ার জীবনেও শয়তান আদম-হাওয়ার বংশধর মানব জাতিকে বিপথগামীর চেষ্টা করছে। রসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, ‘ইবলিস শয়তান তার শিষ্য বাহিনীকে সারা পৃথিবীতে ছড়িয়ে দেওয়ার সময় বলে দেয়, তোমাদের যেজন কোনো মুসলমানকে পথভ্রষ্ট করতে পারবে, তার মাথায় আমি নিজ হাতে মুকুট পরিয়ে দেব এবং সে আমার কাছে সর্বোচ্চ মর্যাদাবান বিবেচিত হবে। দিনের শেষভাগে সবাই ফিরে এসে ইবলিশের কাছে তাদের সারা দিনের কৃতকর্মের হিসাব দিতে থাকে। কেউ বলে আমি অমুকের পেছনে লেগে থেকে কুপ্ররোচনার মাধ্যমে তার স্ত্রীকে তালাক দিতে বাধ্য করেছি। ইবলিস বলে, তোমার এ কাজ তো তেমন কিছুই নয়, সে আর এক রমণীকে বিয়ে করে নেবে। এরপর আর একজন বলে, আমি সারা দিন অমুকের পেছনে লেগে থেকে নানা কুপ্ররোচনার মাধ্যমে তার ভাইয়ের সঙ্গে বিরোধ বাধিয়ে দিয়ে এসেছি। ইবলিস বলে, তোমার এ কাজ তো তেমন কিছুই নয়, অচিরেই তারা পরস্পর মীমাংসা করে নেবে। এরপর আর একজন বলে, আমি সারা দিন কুপ্ররোচনার মাধ্যমে অমুককে ব্যভিচারে লিপ্ত করিয়েছি। ইবলিস এবার খুশি হয়ে বলে, হ্যাঁ, তুমি একটা কাজের কাজ ঘটিয়েছ। এরপর ইবলিস তার মাথায় মুকুট পরিয়ে দেয়।’ আল্লাহ আমাদের ইবলিস ও তার শিষ্যদের অনিষ্ট থেকে রক্ষা করুন।

হজরত আনাস (রা.) বর্ণনা করেন, রসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, ‘ইমান হচ্ছে একটি সুন্দর পোশাক, আল্লাহ যাকে ইচ্ছা করেন তাকে তা পরিয়ে দেন। কিন্তু যখন কেউ ব্যভিচার করে, আল্লাহ তখন তার গা থেকে ইমানের পোশাক খুলে নেন। এরপর যদি সে তওবা করে তবে আল্লাহ তাকে আবার ওই পোশাক ফিরিয়ে দেন।’ রায়হাকি, আবু দাউদ, তিরমিজি, হাকেম। রসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আরও বলেন, ‘হে মুসলিম সম্প্রদায়! তোমরা ব্যভিচার থেকে পরহেজ কর। কেননা এর ছয়টি খারাপ পরিণতি রয়েছে। যার তিনটি ইহলোকে এবং তিনটি পরলোকে সংঘটিত হবে। ইহলোকের তিনটি হচ্ছে- তার চেহারার সৌন্দর্য লোপ পায়, তার আয়ু হ্রাস পায় এবং চিরকাল সে দরিদ্রতার ভিতর থাকবে। পারলৌকিক তিনটি হচ্ছে- সে আল্লাহর অসন্তুষ্টি, কঠিন হিসাব ও জাহান্নামের শাস্তির সম্মুখীন হবে।’ ইবনে জাওজি।

রসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আরও বলেছেন, ‘যে লোক মদপানে অভ্যস্ত অবস্থায় (বিনা তওবায়) মারা যায়, আল্লাহ তাকে গাওতাত নামক নহরের পানি পান করাবেন। গাওতাত হচ্ছে জাহান্নামে ব্যভিচারিণীদের যোনিপথ থেকে নির্গত দূষিত রক্ত ও পুঁজের প্রবহমান ঝর্ণাধারা।’ আহমদ, আবু ইয়ালা, ইবনে হেব্বান, হাকেম। অন্যত্র রসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, ‘আল্লাহর কাছে শিরক করার পর অবৈধ নারীর গুপ্তাঙ্গে বীর্যপাতের চেয়ে জঘন্য কবিরা গুনাহ আর নেই।’ আহমদ, তাবারানি।

নিউজটি আপনার বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুন

এই ক্যাটাগরির আর নিউজ
© All rights reserved © vira-l.com 2017-2022
themesba-lates1749691102
Bengali English