পৃথিবী সৃষ্টির পর থেকে মহান রাব্বুল আলামিন হজরত আদম আ: থেকে শুরু করে সর্বশেষ নবী মুহাম্মাদুর রাসূলুল্লাহ সা:সহ সব নবী এবং রাসূল আ: এমনকি সাহাবায়ে কেরাম রা:, তাবেইন, আইম্মায়ে মুজতাহিদিন, অলি, আউলিয়াসহ পৃথিবীর সব মানবজাতিকেই আল্লাহ পাক বিভিন্ন ধরনের কঠিন পরীক্ষা করেছেন। যারা আল্লাহর কঠিন পরীক্ষাতে ঈমান এবং ধৈর্যের সাথে টিকে থাকবে, তারাই ইহকাল এবং পরকালে সফলতা লাভ করবেন। আল্লাহ পাক যখন হজরত আইয়ুব আ:কে কুষ্ঠরোগ দিয়ে ১৮ বছর অবধি পরীক্ষা করেন, আল্লাহর পরীক্ষাতে আল্লাহ আল্লাহ জিকির করতে করতে হজরত আইয়ুব আ: সে পরীক্ষা সফলতার সাথে পাস করেন। অনুরূপভাবে হজরত ইউনুস আ: যখন মাছের উদরে চল্লিশ দিন ছিলেন, তখন তো আর দুনিয়ার কোনো হসপিটাল বা ডাক্তার অথবা অক্সিজেন গ্রহণের জন্য মাছের উদরে কোনো ভেন্টিলেটরও ছিল না। সবই ছিল মহান আল্লাহর কুদরতের শক্তির চমক। হজরত ইউনুস নবী মাছের উদরেই অক্সিজেন গ্রহণের প্রতিটা মুহূর্তের সাথে আল্লাহর জিকিরে ছিলেন মশগুল। নবী ইউনুস আ: মাছের পেটে যে জিকির শুরু করেন, সেই জিকিরের নাম জানুন। অর্থাৎ লা ইলাহা ইল্লা আন্তা সুবহানাকা ইন্নি কুনতু মিনাজ জোয়ালিমিন। মহান রাব্বুল আলামিন ইউনুস নবীকে মাছের পেটে হেফাজত করলেন।
নমরুদ যখন হজরত ইব্রাহিম আ:কে অগ্নিকুণ্ডে ফেলে দেয়, তখন ফিরিশতা জিবরাইল আ: ইব্রাহিম আ: কে বলেন, হে ইব্রাহিম আমি জিবরাইল, তোমাকে বাঁচানোর জন্য সাহায্য করব। ইব্রাহিম নবী ফিরিশতা জিবরাইলকে ধমক দিয়ে বলেন, হে ফিরিশতা জিবরাইল তুমি তো আমার মতো আল্লাহর সৃষ্টি মাখলুক। আমি অগ্নিকুণ্ডে আছি সেটা আমার আল্লাহ দেখছেন, আমি ইব্রাহিম সরাসরি আল্লাহর সাহায্য চাই। তুমি ফিরিশতা জিবরাইল আবার কে? আল্লাহর ওপর এতটুকুু কঠিন মজবুত ঈমান ছিল হজরত ইব্রাহিম আ:-এর। মহান আল্লাহ পাকও সরাসরি হজরত ইব্রাহিম আ:কে হেফাজত করেন। নমরুদ আগুনকে বলে, হে, আগুন তুমি ইব্রাহিম আ:কে শেষ করে দাও। নমরুদের কথার উত্তরে আগুন নমরুদকে বলে, তুমি নমরুদ আমি আগুনের উদরে এসো। তুমি নমরুদকে আমি আগুনে পোড়াতে এক সেকেন্ডও বিলম্ব করব না। অতঃপর মহান রাব্বুল আলামিন, আগুনকে নির্দেশ করেন, হে আগুন। তুমি ইব্রাহিমের ওপর শান্তিদায়ক হয়ে যাও। অতঃপর আগুন আল্লাহর নির্দেশে হজরত ইব্রাহিম আ:-এর ওপর শান্তিদায়ক হয়ে গেল।
আল্লাহ পাক পৃথিবীর সব নবী এবং রাসূল আ:কে কঠিন পরীক্ষা করেছেন। তারাও আল্লাহর সব কঠিন পরীক্ষায় সফলভাবে কামিয়াব হয়েছিলেন। মহামারী করোনাভাইরাসে আমি অধমের কিছু পরামর্শ হলোÑ আমরা সবাই শেষরাতে তাহাজ্জুদের নামাজ পড়ে আল্লাহর কাছে কান্নাকাটি করা। আর সত্যিকারের মুমিনরা বিপদে পড়লেও তারা কোনো ভয় না করে বলবে, ‘আমরা তো আল্লাহর জন্যই। আর নিশ্চিত আমরা আল্লাহর কাছে ফিরে যাবো।’ (সূরা বাকারাহ)। আর এ পরীক্ষায় যারা টিকে থাকবে সেই দৃঢ়বিশ্বাসী মুমিনরাই মহান আল্লাহর সমগ্র দয়া, রহমত ও হিদায়াতপ্রাপ্ত। (সূরা বাকারাহ)। দুনিয়াতে ভাইরাসের মেডিসিন খুঁজতে হচ্ছে। কিন্তু কবরে যখন পোকামাকড়, সাপের আজাবের ভাইরাস শুরু হবে তখন কী করবেন? মহামারী করোনাভাইরাসে ঈমান হারা, ধৈর্য হারা না হয়ে, সর্বাবস্থায় মহান আল্লাহর ওপর ভরসা করুন। ফজরের নামাজ আদায় করে ভোরের হাওয়া, বাতাস নিতে থাকুন।
রাসূল সা: বলেন, মৃত্যু ছাড়া সব রোগের মহা মেডিসিন কালোজিরা নিয়মিত আহার করুন। তার সাথে খাঁটি মধুও পান করতে থাকুন। ‘ওয়া ইজা মারিজতু ফা হুয়া ইয়াশ ফিন’ দোয়াটি পাঠ করে পানি পান করুন। দুনিয়ার মেডিসিন একটা উছিলা মাত্র। মেডিক্যাল আর হাসপাতাল যদি কাউকে বাঁচাতে পারত, তাহলে মানুষের মৃত্যু হতো না। আল্লাহ পাক মানুষের জন্মের আগেই মৃত্যু সৃষ্টি করেছেন। মেহেরবানি করে আমরা সবাই যেন মহান আল্লাহর ওপর মজবুত ঈমান এবং তকদিরের ভালোমন্দ সব ধরনের বিপদআপদে ধৈর্যের ওপর অবিচল থাকি এবং মহান আল্লাহর ওপর পূর্ণ ভরসা অন্তরে রাখার নিয়ত করি।
পাঁচ ওয়াক্ত ফরজ নামাজ আদায়ে যতœবান হই। এ ছাড়া জন্ম থেকে নিয়ে এখন পর্যন্ত জীবনে যত ফরজ নামাজ কাজা হয়েছে, সেই উমর কাজা নামাজগুলো আদায়ে সচেষ্ট হই। নিয়মিত আল কুরআন তিলাওয়াতের চেষ্টা করি। কেননা আল কুরআনের ‘আলিফ, লাম, মিম থেকে মিনাল জিন্নাতি ওয়ান্নাছ’ পর্যন্ত আল্লাহর সব বান্দাদের জন্য শিফা। সম্পূর্ণ আল কুরআনই রোগ নিরাময়ের মেডিসিন। আল্লাহ পাক সারা পৃথিবীর মানুষ জাতিকে তাঁর কুদরতের অফুরন্ত দয়া দিয়ে আমাদের সবাইকে পেনডেমিক মাইক্রোসকোপ ভাইরাস থেকে হেফাজত করুন আমীন। আল্লাহ পাক আমাদের সবার সহায় হোন।