দেশে ২০১৯-২০ অর্থবছরে মোট দেশজ উৎপাদন (জিডিপি) বেড়েছে বলেই আমার মনে হয়। তবে বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো (বিবিএস) যে হার বলছে, সেখানে কিছুটা বাড়িয়ে ধরার (ওভার এস্টিমেশন) প্রবণতা থাকতে পারে।
আমাদের অর্থনীতিতে একটা ঘাতসহনশীলতা আছে। এ কারণে অন্যান্য দেশের অর্থনীতিতে করোনাভাইরাস যতটা প্রভাব ফেলেছে, বাংলাদেশে ততটা পারেনি।
জিডিপির হিসাব বিবিএস ছাড়া আর কেউ করে না। তাই আমরা দেখতে পারি, অন্যান্য সূচকের সঙ্গে জিডিপির হিসাব কতটা সামঞ্জস্যপূর্ণ। মূলধনি যন্ত্রপাতি, শিল্পের কাঁচামাল, মধ্যবর্তী পণ্য ইত্যাদি কতটা আমদানি হলো, বিনিয়োগ কতটা বাড়ল—এসবের সঙ্গে জিডিপির প্রবৃদ্ধির সামঞ্জস্য থাকতে হবে।
সব মিলিয়ে সামান্য অস্বস্তি আছে। বিভিন্ন হিসাবের সঙ্গে সামঞ্জস্য পাওয়া যায় না।
এ অঞ্চলের দেশগুলোতে জিডিপির হারকে একটু বাড়িয়ে দেখিয়ে রাজনৈতিক সুবিধা নেওয়ার একটা প্রবণতা রয়েছে। অথচ আমাদের কথা বলা উচিত আয়বৈষম্য, দারিদ্র্য, পুষ্টি, শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতের অবস্থা ইত্যাদি নিয়ে।
একজন মানুষের জীবনে সুখ, স্বাচ্ছন্দ্য, শান্তি কতটুকু বাড়ল, সেটাই বড় বিবেচ্য বিষয় হওয়া উচিত। জিডিপি দিয়ে সেটা নির্ণয় করা যায় না। আমার প্রশ্ন হলো, জিডিপি নিয়ে এত স্পর্শকাতরতা কেন?