শনিবার, ১৭ জানুয়ারী ২০২৬, ০৬:৪১ পূর্বাহ্ন

বরকতের মালিক আল্লাহ

রিপোর্টারের নাম
  • প্রকাশিতঃ রবিবার, ২৩ আগস্ট, ২০২০
  • ৫৯ জন নিউজটি পড়েছেন

বরকতের মালিক আল্লাহ তায়ালা। তিনি ছাড়া অন্য কোনো ব্যক্তি, গোষ্ঠী, বিশেষ কোনো স্থান, কাল, পাত্র কাউকে বরকত দিতে পারে না। এ ধরনের চিন্তা-চেতনা বা বিশ্বাস পোষণ করা শিরকের অন্তর্ভুক্ত।
বরকত বা তাবারাক, বারাকাতুন শব্দ থেকে আধিক্য অর্থে গৃহিত। এর পূর্ণ অর্থ এক শব্দে প্রকাশ করা কঠিন। এর শব্দ মূলে বা-রা-কাফ অক্ষরত্রয়। এ থেকে বরকত ও বুরুক দুটো ধাতু নিষ্পন্নœ হয়। বরকত অর্থ বৃদ্ধি, সমৃদ্ধি, বিপুলতা, প্রাচুর্যের ধারণা আর বুরুকের মধ্যে স্থায়িত্ব, দৃঢ়তা, অটলতা ও অনিবার্যতার ধারণা রয়েছে। যখন বাবে তাফাউলে রূপান্তর করা হয় তখন এর অর্থ দাঁড়ায় চরম প্রাচুর্য, বর্ধমান প্রাচুর্য, চূড়ান্ত পর্যায়ের স্থায়িত্ব।
আমরা দরুদে ইবরাহিমে বলে থাকি ‘আল্লøাহুমা বারিক আলা মুহাম্মাদিন’ হে আল্লøাহ! মুহাম¥দ সা:কে তুমি বরকত দান করো’। আর মুহাম্মদ সা: ও তাঁর আহালকে আল্লøাহ এমন সমৃদ্ধি ও স্থায়ী বরকত দান করলেন যে, পৃথিবীর প্রতিটি মুসলিম তাঁর প্রতিটি সালাম ও দরুদে দোয়া করে যাচ্ছেন, যার ধারাবাহিকতা চলছে এবং চলবে। ‘এই যে চলছে চলবে’ এর নামই তাবারাক। এই বরকত কে দিয়েছেন? এই বরকত দিয়েছেন আল্লাহ তায়ালা।
আমরা আমাদের প্রাত্যহিক সালাতে তাকবির বলার পর প্রথমেই ছানা পড়ি। এই ছানার এক জায়গায় বলে থাকি ‘ওয়া তাবারাকা ইসমুকা’ বড়ই বরকতময় তোমার নাম। এই বরকত তালাশ করার জন্য আমরা বিভিন্ন ব্যক্তি, গোষ্ঠী ও স্থানের কাছে চলে যাই। যা সুস্পষ্টভাবে শিরক। অথচ আল্লাহর প্রতিটি নামই বরকতময়। বরকতের মালিক আল্লøাহ তায়ালা। তাই বরকত তাঁর কাছেই চাইতে হবে। ‘বড়ই বরকতময় আল্লাহ তায়ালা’ আল কুরআনের অনেক জায়গায় তা উদ্ধৃত করা হয়েছে। রাসূলুল্লøাহ সা:-এর অসংখ্য দোয়ায় বরকতের কথা রয়েছে। তিনি বরকতের জন্য আল্লাহর কাছে দোয়া করেছেন এই মর্মে বহু হাদিস রয়েছে।
বরকতের অর্থ বিভিন্ন আয়াতে ভিন্ন ভিন্নভাবে প্রকাশিত হয়েছে। ‘বড়ই বরকত সম্পন্ন তিনি, যিনি চাইলে তাঁর নির্ধারিত জিনিস থেকে অনেক বেশি ও উৎকৃষ্টতর জিনিস তোমাকে দিতে পারেন, অনেকগুলো বাগান, যেগুলোর পাদদেশে নদী প্রবাহিত এবং বড় বড় প্রাসাদ।’ (সূরা ফুরকান : ১০)
এখানে তাবারাকা এর মানে হচ্ছে ‘বিপুল সম্পদ ও উপকরণাদির অধিকারী’ সীমাহীন শক্তিধর’ এবং ‘কারো কোনো কল্যাণ করতে চাইলে করতে পারেন।
‘আল্লাহ বড়ই বরকতের অধিকারী তিনি সমগ্র বিশ্বজাহানের মালিক ও প্রতিপালক।’ (সূরা আরাফ : ৫৪ এর শেষাংশ) এখানে আল্লøাহ বড়ই বরকতের অধিকারী হওয়ার অর্থ দাঁড়ায়Ñ তাঁর মঙ্গল ও কল্যাণের কোনো সীমা নেই। তাঁর সত্তা থেকে সীমাহীন কল্যাণ চতুর্দিকে বিস্তৃত হচ্ছে।
মূর্খতাবশত মানুষ বরকত তালাশের জন্য বিভিন্ন পীর ও মাজারে দৌড়ায়। এগুলো শিরকের অন্তর্ভুক্ত। হজ ও ওমরাহ এজেন্সির মালিকরা তাদের প্যাকেজে বিভিন্ন জায়গায় জিয়ারার বিষয়টি রাখেন। যেমনÑ মক্কায় : জাবালে রহমত আরাফা ময়দান, জাবালে সওর, জাবালে নূর, রাসূলুল্লøাহ সা:-এর বাড়ি বা জন্মস্থান ও মাকবারাতুল মুয়াল্লøা, তায়েফে ও মা হালিমার বাড়ি ইত্যাদি উল্লেøখযোগ্য। মদিনায় : ওহুদ প্রান্তর ও সাইয়েদুশ শুহাদা আমির হামজা রা:-এর কবর, মসজিদে কুবা, মসজিদে কেবলাতাইন, মসজিদে জুমা, সাবায়া মসজিদ, মসজিদে আবুবকর রা: ও মসজিদে আলী রা:, মাকবারাতুল বাকি ও ওয়াদিয়ে জিন ইত্যাদি উল্লেখযোগ্য। এগুলোতে যাওয়া দোষের নয়, ইতিহাসকে মন্থর ও রাসূলুল্লøাহ সা:-এর সংগ্রামী জীবনকে স্মরণ করে নিজেকে উজ্জীবিত করার জন্য যাবেন। কবরসমূহেও যাবেন। রাসূলুল্লøাহ সা: কবরগুলোতে গিয়ে কবরবাসীদের সালাম দিতেন। কিন্তু এগুলোতে গিয়ে বিশেষ কোনো কিছু তালাশ করা জায়েজ নয়। বিশেষ করে এগুলোকে বরকতময় মনে করাও ঠিক নয়। জাবালে রহমতে আরাফার দিন যাবেন। আরাফাতে আরাফার দিন দোয়া কবুল হয়। মদিনায় মসজিদে কুবায় দুই রাকাত নামাজের কথা হাদিসে আছে।
লক্ষণীয় ব্যাপার হলো, মক্কা ও মদিনার উল্লিখিত স্থানসমূহের প্রত্যেকটিতে কয়েকটি ভাষায় সতর্কবাণী সম্বলিত সাইনবোর্ড সেঁটে দেয়া আছে। আমি এবার ওমরায় গিয়ে দুটো বিলবোর্ডের ছবি তুলে নিয়ে এসেছি। যেমনÑ রাসূলুল্লøাহ সা:-এর বাড়ি বা জন্মস্থান নামে খ্যাত দোতলা বাড়িটির দেয়ালে সেঁটে দেয়া বিলবোর্ডে উর্দুু, বাংলা, তুর্কি ও ফারসি ভাষায় লিখা আছে, ‘হে মুসলিম ভাই! নবী সা:-এর সঠিক জন্মস্থানের ওপর কোনো বিশুদ্ধ দলিল নেই। অতএব, এ স্থান থেকে বরকত গ্রহণ করা কিংবা এটাকে সালাত ও দোয়ার জন্য নির্দিষ্ট করা শরয়িভাবে জায়েজ নয়।’ তাছাড়া রাসূলুল্লøাহ সা:-এর বাড়ি বা জন্মস্থান সুনির্দিষ্ট হলেও তো এখান থেকে বরকত লাভ করা যাবে না।
এমনিভাবে জাবালে রহমতের পাদদেশে বিলবোর্ডটিতে এই কয়টি ভাষায় লিখা আছে, ‘হে মুসলিম ভাই! আপনার প্রিয় নবী মুহাম্মদ সা: আরাফাতের দিন ছাড়া এখানে আসেননি। তিনি পাহাড়ে উঠেননি। তিনি পাহাড়ের কোনো অংশ বা কোনো গাছ স্পর্শ করা বা তাতে গিরা লাগানোর আদেশ দেননি এবং তিনি আরো আদেশ দেননি পাহাড়ের ওপরে সালাত আদায় করার, না আদেশ করেন পাথরের ওপর কোনো কিছু লিখার। অতএব, হে হাজী সাহেবান! আপনি আপনার প্রিয় নবী সা:-এর সুন্নাহ অনুসরণ করুন এবং তিনি বলেছেন ‘তোমরা আমার কাছ থেকে হজ গ্রহণ করো।’
এভাবে বিভিন্ন ঐতিহাসিক স্থানসমূহে এই চতুর্দেশীয় হাজীগণ যে ধরনের বিদআতি আচরণ করেন, সেই বিদআত সম্পর্কে সতর্কবাণী সম্বলিত বিলবোর্ড সেঁটে দেয়া আছে। জান্নাতুল বাকি কবরস্থানে ঢোকার পথে সাইনবোর্ডে বিভিন্ন সহিহ হাদিস উল্লেøখ করে বিদআত থেকে সাবধান করা হয়েছে। কবরস্থানে ঢুকে আপনি কি করবেন আর কি করবেন না তা লিখা আছে।

নিউজটি আপনার বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুন

এই ক্যাটাগরির আর নিউজ
© All rights reserved © vira-l.com 2017-2022
themesba-lates1749691102
Bengali English