তিন দিন পর অবশেষে গতকাল বুধবার বিকেলে চট্টগ্রাম বন্দর ছেড়ে গেল বিদেশি কনটেইনার জাহাজ ওইএল হিন্দ, যেখানে রপ্তানিকারকদের এক হাজার ২০০ কোটি টাকার রপ্তানি পণ্য আটকে ছিল।
এর আগে চট্টগ্রাম বন্দরে রপ্তানি পণ্যবাহী কনটেইনার তোলার পর এক দিকে কাত হয়ে যায় জাহাজটি।
কনটেইনার রাখার ভারসাম্য না থাকায় গত রবিবার সকালে জাহাজটির চট্টগ্রাম বন্দর ছেড়ে যাওয়া বাতিল করা হয়। রবিবার গভীর রাতে ৬৬ একক কনটেইনার নামানোর পর সোমবার সকালে বন্দর ছাড়ার কথা ছিল। কিন্তু আমলাতান্ত্রিক জটিলতায় পড়ে জাহাজটি তিন দিন বাড়তি সময় জেটিতে বসে থাকার পর গতকাল বিকেলে জেটি ছাড়ল জাহাজটি।
তিন দিন চট্টগ্রাম বন্দর জেটিতে আটকে থাকায় জাহাজটি সিঙ্গাপুরে থাকা নির্ধারিত বড় জাহাজ বা মাদার ভেসেলের সঙ্গে সংযোগ করতে পারবে না। চট্টগ্রাম থেকে রওনা দিয়ে ওইএল হিন্দ জাহাজ সিঙ্গাপুর বন্দরে পৌঁছবে ৩১ আগস্ট, কিন্তু এর আগে ৩০ আগস্ট মাদার ভেসেল সিঙ্গাপুর বন্দর ছেড়ে যাবে।
এখন তাহলে রপ্তানি পণ্যের কী হবে—জানতে চাইলে জাহাজটির শিপিং এজেন্ট জিবিক্স লজিস্টিকসের অ্যাসিস্ট্যান্ট ভাইস প্রেসিডেন্ট মুনতাসির রুবাইয়াত বলেন, ‘ইউরোপ-আমেরিকার বিভিন্ন গন্তব্যে যাওয়ার জন্য ৩০ আগস্ট সিঙ্গাপুরে নির্ধারিত মাদার ভেসেল ছিল। গত মঙ্গলবার চট্টগ্রাম বন্দর থেকে জাহাজটি ছেড়ে গেলেও আমরা মাদার ভেসেলে পণ্য তুলতে পারতাম। কিন্তু ওই গন্তব্যে পরবর্তী মাদার ভেসেল আসবে এক সপ্তাহ পর; সুতরাং বাড়তি এক সপ্তাহ সিঙ্গাপুরেই থাকতে হবে এসব রপ্তানি পণ্য নিয়ে।’
তিনি বলেন, ‘তিন দিন বাড়তি বসে থাকায় জাহাজকে ২৭ হাজার মার্কিন ডলার জাহাজভাড়া গুনতে হবে; গুনতে হবে বাড়তি জেটিভাড়াও। আমাদের বাড়তি মাসুল গোনার চেয়ে বড় উদ্বেগের বিষয় হচ্ছে এক হাজার কোটি টাকার রপ্তানি পণ্য ক্রেতার কাছে সঠিক সময়ে পৌঁছানো।’
গার্মেন্ট মালিকরা বলছেন, নির্দিষ্ট সময়ে পণ্য বিদেশি ক্রেতার কাছে না পৌঁছালে ক্রেতা নানা ছুতা খুঁজতে থাকেন। আর ছুতা পেলেই হয় পণ্য গ্রহণ না করে বাতিল করে দেন, অথবা পণ্যের ওপর ডিসকাউন্ট দর চেয়ে বসেন। তখন ক্ষতির শিকার হতে হয় রপ্তানিকারকদেরই।
জানা গেছে, ওইএল হিন্দ জাহাজটি এক হাজার ২৬৮ একক কনটেইনার নিয়ে গত রবিবার সকালে চট্টগ্রাম বন্দর ছেড়ে যাওয়ার শিডিউলে ছিল। জাহাজে অন্তত ২০০ রপ্তানিকারকের এক হাজার কোটি টাকার বেশি রপ্তানি পণ্য রয়েছে; যেগুলোর বেশির ভাগই যাবে ইউরোপ ও আমেরিকায় ক্রেতার কাছে। কিন্তু চট্টগ্রাম বন্দরে পণ্য ওঠানো-নামানোর কাজে নিয়োজিত বার্থ অপারেটর বে প্ল্যান অনুযায়ী কনটেইনার সঠিকভাবে না রাখায় জাহাজটি ভারসাম্যহীন হয়ে পড়ে। এরপর রবিবার সকালে জাহাজটির যাত্রা স্থগিত করা হয়।
বিজিএমইএ পরিচালক অঞ্জন শেখর দাশ বলেন, ‘জাহাজে যদি কোনো ত্রুটি থাকে, তাহলে দ্রুত জাহাজ জেটি ছাড়ার ব্যবস্থা করে। কিন্তু সেটি করতেই তিন দিন লেগে গেল। শেষ পর্যন্ত ক্ষতির বোঝা আমাদের ঘাড়েই চাপবে।’