শুক্রবার, ১৬ জানুয়ারী ২০২৬, ০৭:৫৮ অপরাহ্ন

রাবি’র সহকারী অধ্যাপক কাজী জাহিদ জামিনে মুক্ত

রিপোর্টারের নাম
  • প্রকাশিতঃ শুক্রবার, ২৮ আগস্ট, ২০২০
  • ৫১ জন নিউজটি পড়েছেন

সাবেক স্বাস্থ্যমন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিমকে ইঙ্গিত করে ফেসবুকে পোস্ট দেওয়ার জের ধরে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে দায়েরকৃত মামলায় গ্রেফতার রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী অধ্যাপক কাজী জাহিদুর রহমান জামিনে মুক্তি পেয়েছেন। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা সাড়ে সাতটার দিকে তিনি রাজশাহী কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে মুক্তি পান। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন তার আইনজীবী ও সুপ্রিম কোর্টের ব্যারিস্টার নুরুল আমিন।

তিনি জানান, গত ২৩ আগস্ট হাইকোর্টের বিচারপতি এনায়েতুর রহিম এবং বিচারপতি মো. মোস্তাফিজুর রহমানের যৌথ বেঞ্চ এই জামিন আদেশ দেন। পরে তিনি বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় কারাগার থেকে মুক্তি পান।

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের সহকারী অধ্যাপক জাহিদুর রহমান রাতে এক প্রতিক্রিয়ায় সাংবাদিকদের বলেন, ‘আমি রূপক অর্থে যে কথাগুলো বলেছিলাম, কারাগারে গিয়ে আমার কাছে মনে হয়েছে, আমি স্বাস্থ্যখাত নিয়ে আসলে মিথ্যা কিছু বলিনি। এর মধ্যে কারাগারে থেকে আমি জেনেছি, রিজেন্ট, জেকেজিসহ অনেকের অপকর্মগুলো বের হয়ে গেছে। সেই ক্ষেত্রে আমার কাছে মনে হয়েছে, আমরা কথা না বললে কথাটা আসলে বলবে কে? আমার কথায় অনেকে কষ্ট পেয়েছেন হয়তো কিন্তু কথা তো বলতে হবে। এই বিষয়গুলো নিয়ে কথা না বললে তো এগুলো বেরিয়ে আসবে না। দেশে যেগুলো ঘটছে, সেগুলো নিয়ে আমি কথা বলার কারণে কারাগারেও অনেক মানুষ আমাকে সম্মান করেছেন। কারাগারে সবচেয়ে চিন্তিত ছিলাম আমার পরিবার নিয়ে। আমার জন্য অনেকেই কথা বলেছেন, দেখা করেছেন। তাদেরকে ধন্যবাদ জানাচ্ছি।’

উল্লেখ্য, গত ১৭ জুন স্থানীয় আইনজীবী তাপস কুমার মতিহার থানায় শিক্ষক জাহিদের বিরুদ্ধে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে মামলাটি দায়ের করেন। ওই রাতেই পুলিশ কাজী জাহিদুর রহমানকে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের আবাসিক কোয়ার্টার থেকে গ্রেফতার করা হয়।

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের এই শিক্ষক জাহিদুর রহমান নড়াইল জেলা আওয়ামী লীগের সদ্যবিলুপ্ত কমিটির তথ্য ও গবেষণা সম্পাদকের পদে ছিলেন। মোহাম্মদ নাসিমকে ইঙ্গিত করে ফেসবুকে লেখার পর গত ১৬ জুন কাজী জাহিদুর রহমানকে বিলুপ্ত নড়াইল জেলা আওয়ামী লীগের প্রাথমিক সদস্যপদ থেকেও বহিষ্কার করা হয়। এরআগে ১৩ জুন সকালে মোহাম্মদ নাসিম রাজধানীর বাংলাদেশ স্পেশালাইজড হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান। তিনি অসুস্থ হওয়ার পর ১ ও ২ জুন শিক্ষক কাজী জাহিদুর রহমান ফেসবুকে লেখেন বলে জানা যায়। তবে মোহাম্মদ নাসিমের মৃত্যুর পর তাকে নিয়ে ‘বিরূপ মন্তব্যে’র অভিযোগে রংপুরে বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের প্রভাষক সিরাজুম মুনিরা গ্রেফতার হন। এরপর ১৫ জুন কাজী জাহিদুর রহমানের লেখার বিষয়টি সামনে এনে তাকে গ্রেফতারের দাবি জানানো হয়। এরই ধারাবাহিকতায় আসামি ও গ্রেফতার হন তিনি। গত ২৭ জুন বিশ্ববিদ্যালয়ের ৪৯৯তম সিন্ডিকেট সভায় কাজী জাহিদকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়। গ্রেফতারের পর থেকে তাঁর মুক্তির দাবিতে আন্দোলন করছিলেন অধিকারকর্মীরা।

নিউজটি আপনার বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুন

এই ক্যাটাগরির আর নিউজ
© All rights reserved © vira-l.com 2017-2022
themesba-lates1749691102
Bengali English