শনিবার, ১৭ জানুয়ারী ২০২৬, ০৫:০১ অপরাহ্ন

ওষুধের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ায় মুখের জটিলতা

রিপোর্টারের নাম
  • প্রকাশিতঃ শনিবার, ২৯ আগস্ট, ২০২০
  • ৫১ জন নিউজটি পড়েছেন

নিজেকে সুস্থ রাখাটা যেন অনেকটাই দুষ্কর হয়ে পড়ছে, বিভিন্ন রোগ বয়স মানছে না। অসুখ হলেই প্রয়োজন পড়ে ডাক্তার ও ওষুধের। বলা যায়, প্রায় সব ওষুধেরই পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া আছে। রোগ নিয়ন্ত্রণে এমন অনেক ওষুধ আছে যেগুলো থেকে আমাদের মুখগহ্বর ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। যেমন-

বিবর্ণ দাঁত

সাদা ঝকঝকে দাঁত আমাদের সবার কাম্য। সৌন্দর্য প্রকাশে সুন্দর হাসি প্রধান হাতিয়ার, এ হাসি মলিন হতে পারে যদি কারও দাঁত বিবর্ণ হয়ে কালো, হলুদ বা লাল হয়ে যায়। রোগ নিয়ন্ত্রণে অনেক সময় টেট্রাসাইক্লিন, অতিরিক্ত ফ্লোরাইড, ক্লোরোহেক্সিডিন মাউথ ওয়াশ ইত্যাদির যথার্থ ব্যবহার না হলে দাঁত বিবর্ণ হতে পারে।

শুষ্ক মুখ

মুখের স্বাস্থ্য রক্ষায় মুখের যথাযথ আর্দ্রতা জরুরি। আর্দ্রতা বজায় রাখতে স্বাভাবিক লালা নিঃসরণ বাঞ্ছনীয়, লালা আমাদের মুখকে পরিষ্কার রাখে, জীবাণু নিয়ন্ত্রণ করে, খাবার খেতে ও খাবারের স্বাদ বাড়াতে সাহায্য করে। লালার নিঃসরণ কমে গেলেই মুখে নানা রোগ বাসা বাঁধতে পারে, স্বাভাবিক জীবনযাপন বিপন্ন হয়ে উঠতে পারে।

প্রায় ৬০০ এর অধিক ধরনের ওষুধে লালা নিঃসরণে তারতম্য হতে পারে, তার মধ্যে উল্লেখযোগ্য এলার্জি ও ঠাণ্ডার জন্য এন্টি হিস্টামিন, কিছু ব্যথানাশক ওষুধ, বিষণ্নতা লাঘবে ব্যবহৃত ওষুধ, এন্টাসিড, কেমো ও রেডিওথেরাপি, ইনহেলার, কিছু উচ্চরক্তচাপ নিয়ন্ত্রিত ওষুধ, জন্মনিয়ন্ত্রক ওষুধ।

লালা কমে গেলে বা অনেক ওষুধের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া মুখে বিব্রতকর দুর্গন্ধ তৈরি করতে পারে।

মাড়ি রোগ

সঠিক নিয়মে দাঁত ও মাড়ি পরিষ্কারের পরেও কিছু কিছু ওষুধের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া মাড়ি দুর্বল করে ফেলে, মাড়ি ফুলে ঘা, মাড়ি দিয়ে রক্ত পড়তে পারে, যেমন- উচ্চরক্তচাপ কমাতে ক্যালসিয়াম চ্যানেল ব্লকার, মৃগী রোগ নিয়ন্ত্রণের কিছু ওষুধ, কিডনি ফেইলুর রোগীর ওষুধ, কিডনি প্রতিস্থাপনের পর ব্যবহৃত ওষুধ ইত্যাদিতে মাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।

এসপিরিন রক্তকে তরল রাখতে প্রয়োজনীয় ও বহুল ব্যবহৃত একটি ওষুধ, ঘা থেকে মাড়ি দিয়ে স্বল্প চাপ বা আঘাতে রক্তপাতের সূচনা করে।

মুখে বিস্বাদের সূচনা

আমরা ভোজন রসিক। মুখের স্বাদকে প্রাধান্য দেয়, কিন্তু অনেক ওষুধ আমাদের মুখের স্বাদ ও রুচিকে কমিয়ে দিতে পারে, খাবার গ্রহণে অনীহার জন্ম দিতে পারে, যেমন- মেট্রোনিডাজল, ইনহেলার, বিটা ব্লকার।

আমাদের দেশে সহজেই যে কেউ ডাক্তারের পরামর্শ ছাড়া ওষুধের দোকান থেকে ওষুধ সংগ্রহ করতে পারে। পরিচিত কারও কথা শুনে, গুগলস্ দেখে অথবা ওষুধের দোকানদারের পরামর্শে ওষুধ সেবনে কতটা স্বাস্থ্য ঝুঁকি থাকতে পারে তার ধারণা অনেকের নেই। রোগের ধরন ও কারণ নির্ণয়, রোগীর বয়স, শরীরের ওজন, অন্য কি ওষুধ নিচ্ছে বা অন্য কি শারীরিক সমস্যা আছে তা ভালোভাবে জেনে ও বুঝে এবং কোন ওষুধের কতটুকু পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া আছে সে বিষয়ে স্পষ্ট জ্ঞান রেখে কেবল মাত্র একজন অনুমোদিত চিকিৎসকই পারে রোগীকে ওষুধ দিতে। যত্রতত্র ওষুধ সেবনে আমরা সতর্ক হই।

কোভিড আতংকের এ দুঃসময়ে অনেকেই বিভিন্ন দিক নির্দেশনাকে আদর্শ মেনে সেভাবে চলার চেষ্টা করছে, অনেকে অনেক ধরনের ওষুধ সেবন করছে, করোনা রোধক কোনো ওষুধের সন্ধান এখনও নির্ভরযোগ্য কোনো সূত্র থেকে পাওয়া যায়নি, কোভিড রোগীদের নানা ওষুধ দেয়া হচ্ছে যার কয়েকটিতে ভালো ফলাফল পাওয়া যেতে পারে কিন্তু চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া কোনো ওষুধ নয়। একই ওষুধ শারীরিক অবস্থার ওপর নির্ভর করে একেকজনের একেক রকম কাজ করতে পারে।

নিউজটি আপনার বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুন

এই ক্যাটাগরির আর নিউজ
© All rights reserved © vira-l.com 2017-2022
themesba-lates1749691102
Bengali English