শনিবার, ১৭ জানুয়ারী ২০২৬, ১২:২৯ অপরাহ্ন

পুঁজির পুরোটাই শেষ ক্ষুদ্র উদ্যোক্তাদের

রিপোর্টারের নাম
  • প্রকাশিতঃ রবিবার, ৩০ আগস্ট, ২০২০
  • ৪২ জন নিউজটি পড়েছেন

মো. হেলাল উদ্দিন, সভাপতি, বাংলাদেশ দোকান মালিক সমিতি

দেশব্যাপী কভিড-১৯-এর কারণে গত মার্চের শেষ সপ্তাহ থেকে প্রায় চার মাস বন্ধ ছিল দেশের দোকানপাটসহ প্রায় সব ধরনের ক্ষুদ্র ব্যবসা। এর মধ্যে অনেকে পুঁজি হারিয়ে ব্যবসা বন্ধ করে দিয়েছিলেন। এখন সব কিছু খুলে দেওয়া হয়েছে, জনজীবনও স্বাভাবিক হয়ে আসছে। ফলে এসব ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী চেষ্টা করছেন ঘুরে দাঁড়াতে। কিন্তু তাঁদের প্রয়োজনীয় মূলধন জোগাতে ঋণ পাচ্ছেন না ব্যাংকগুলো থেকে। এসব নানা বিষয় নিয়ে কথা বলেছেন বাংলাদেশ দোকান মালিক সমিতির সভাপতি মো. হেলাল উদ্দিন।

তিনি বলেন, ‘এটা ঠিক যে মাস দেড়েক আগের চেয়ে ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা এখন ভালো আছেন। তার আগে প্রায় সবই বন্ধ ছিল। এখন সব খুলে দেওয়া হয়েছে। দোকানপাট, বিপণিবিতানগুলো ব্যবসা করছে। যদিও ক্ষুদ্র ও অতিক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা এখনো সেভাবে ঘুরে দাঁড়াতে পারেননি, তাঁরা ভালো নেই। কারণ ভালো থাকার জন্য যে বিক্রি ও মূলধন থাকা দরকার তা নেই। তবে ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টা করছেন তাঁরা। মানুষের ক্রয়ক্ষমতা কমে এসেছে, তাই এখনো বিলাসী পণ্য তেমন কিনছে না। এতে দোকানগুলো এখন পর্যন্ত ২৫ থেকে ৩০ শতাংশ বিক্রি দিয়ে ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টা করছে।’ তাঁর হিসাব মতে, সারা দেশে একজনের অধিক এবং ১৫ জনের কম কর্মচারী রয়েছে এমন ক্ষুদ্র ব্যবসার সংখ্যা ৫৬ লাখ। করোনায় বন্ধ থাকায় এসব ব্যবসায়ীরা প্রতিদিন গড়ে এক হাজার ১০০ কোটি টাকা লোকসান গুনেছেন।

তিনি বলেন, ‘করোনায় অনেক ক্ষুদ্র ও অতিক্ষুদ্র ব্যবসায়ীর স্বল্প পুঁজির পুরোটাই শেষ হয়ে গেছে। এখন তাঁদের দরকার আর্থিক সহায়তা। তাঁদের মূলধনটা আবার ফিরিয়ে দিতে পারলে আবার হয়তো তাঁরা আগের মতো ব্যবসায় ফিরতে পারবেন। এ জন্য সরকারের প্রণোদনার অর্থ খুচরা ব্যবসায়ীদের জন্য যত দ্রুত সম্ভব ছাড় করা দরকার। কিন্তু তা হচ্ছে না। এখন পর্যন্ত এই ঋণ কেবল বড়রাই পাচ্ছেন। ক্ষুদ্র ও অতিক্ষুদ্রদের কথা কোনো ব্যাংক ভাবছে না। বাংলাদেশ ব্যাংকের পক্ষ থেকেও ব্যাংকগুলোর প্রতি কোনো বাধ্যবাধকতা নেই। অথচ ক্ষুদ্র ও অতিক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের বাঁচাতে ঋণ ছাড়ের কথা আমরা নানাভাবে বলছি, কিন্তু কাজ হচ্ছে না। ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা ঋণ পাচ্ছেন না।’

হেলাল উদ্দিন বলেন, ‘আশার কথা হলো সব খাতের ব্যবসা শুরু হয়েছে। জনজীবন স্বাভাবিক হয়ে আসছে। ফলে আমরা ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টা করছি। আমরা বাংলাদেশ দোকান মালিক সমিতির পক্ষ থেকে চেষ্টা করছি অতিক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের ঋণের আওতায় নিয়ে আসতে। আশা করি শিগগিরই ভালো কিছু হবে। একদিন ছোট এই ব্যবসায়ীদের মধ্য থেকেই হয়তো বসুন্ধরা, মেঘনা, যমুনার মতো বড় কোনো ব্যবসায়ী গ্রুপ তৈরি হবে।’

তিনি বলেন, ‘এর অংশ হিসেবে প্রথমে আমরা প্রশিকা ও ব্র্যাক ব্যাংকের সঙ্গে কথা বলেছিলাম। কিন্তু তারা ৯ শতাংশ হারে ঋণ দিতে আগ্রহী নয়, ১২ শতাংশ চেয়েছে। তাই আমরা অন্য একটি ব্যাংকের সঙ্গে আলোচনা শুরু করেছি। এখন পর্যন্ত ইতিবাচক মনোভাব পেয়েছি ব্যাংকের পক্ষ থেকে। যদি রাজি হয় তবে আমরা প্রাথমিকভাবে শেরপুর ও জামালপুরে প্রতীক্ষিত ৪০০ দোকান মালিক রয়েছেন, তাঁদের দিয়ে শুরু করব। কারণ একজন ছোট দোকানদারকে ব্যাংকিংয়ের আওতায় আনাটা কিছুটা কষ্টকর কাজ। তাঁদের একত্রিত করা, জাতীয় পরিচয়পত্র নিয়ে ব্যাংক খোলা, চেকের মাধ্যমে টাকা উঠানো, জামানতের ব্যবস্থা করা—এগুলো তাঁদের জন্য কিছুটা জটিল। আমরা আশা করছি আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে কোনো একটি ব্যাংকের সঙ্গে এমওইউ করতে পারব। এই উদ্যোগ না নিলে ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের কষ্টের সময়গুলো দীর্ঘ হবে।’

তিনি বলেন, ‘একজন ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীর পুঁজি আর কত, ৫০ হাজার থেকে এক লাখ টাকা। আসলে চাইলে সব ব্যাংকই এসব ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীকে ২০ হাজার, ৩০ হাজার টাকা পর্যন্ত ঋণ দিয়ে তাঁদের ঘুরে দাঁড়াতে সহায়তা করতে পারে। একটা শাখা খুলে তারা এসব ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীর ঋণগুলো তদারক করতে পারে। এসব ব্যবসায়ীর ঋণখেলাপি হওয়ার আশঙ্কা নেই। কিন্তু ব্যাংকগুলো বড় ঋণের দিকে মনোযোগ দেয়। যেগুলো খেলাপি হওয়ার আশঙ্কা বেশি।’

তিনি জানান, কয়েক দিন আগের এসএমই ফাউন্ডেশনের তথ্য অনুসারে ক্ষুদ্র ও মাঝারি খাতের ব্যবসায়ীরা মাত্র ২৫০ কোটি টাকা ঋণ পেয়েছেন। তাও উচ্চ মাঝারিরাই পাচ্ছেন। যাঁরা প্রায় বড় উদ্যোক্তার কাছাকাছি। অথচ এখন ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা ৫০ হাজার, এক লাখ টাকা হলে ঘুরে দাঁড়াতে পারেন।

নিউজটি আপনার বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুন

এই ক্যাটাগরির আর নিউজ
© All rights reserved © vira-l.com 2017-2022
themesba-lates1749691102
Bengali English